কিছুই করতে না পারার আক্ষেপ ফখরুলের; তারেকসহ ৬ নেতার বিরুদ্ধে মামলা
বিএনপির নির্বাচিত এমপিদের শপথ ও সংসদে যাওয়া নিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত সঠিক বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ আমাদের পার্লামেন্টেও লড়াই করতে হবে। বাইরেও লড়াই করতে হবে।
আজ (রোববার) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সম্মিলিত ছাত্র ফোরামের আয়োজনে সাবেক ছাত্রনেতা নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। এ সময়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে পিন্নুকে কারাগারে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এখন আমরা কিছুই করতে পারছি না, এমন আক্ষেপ জানিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, শুধু সস্তা স্লোগান দিলে চলবে না। আমাদের পথ বের করতে হবে। পজিটিভ চিন্তা করতে হবে। আমরা বসে থাকব না। পথ খুঁজব। দেশে সুশাসন নেই। বিচার বিভাগসহ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।
এ সময়, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করে তিনি বলেন, সরকার তার জামিন দিতে ভয় পায়। কারণ দেশনেত্রীকে মুক্তি দিলে হ্যামিলিয়নের বাঁশিওয়ালার মতো তার পেছনে মানুষ ছুটে আসবে। খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা দরকার। কারারুদ্ধ অবস্থায় তার স্বাস্থ্যের কিছু হলে এর দায়দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।
সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। সাধারণ মানুষের কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। অর্থনীতির অবস্থা অত্যন্ত ভয়ংকর।
তারেকসহ ৬ নেতার বিরুদ্ধে মামলা
এদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ছয় নেতার বিরুদ্ধে ছিনতাই ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে মামলা হয়েছে।
আজ (রোববার) দুপুরে ঢাকার মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ানের আদালতে এ মামলা দায়ের করেন বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী।
তারেক-ফখরুল ছাড়া মামলার অপর চার আসামী হলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রহুল কবির রিজভী আহমেদ। এছাড়া আরও পাঁচজনকে মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে।
আদালত বাদীর জবানবন্দি নিয়ে মামলাটি গ্রহণ করেন। পরে বংশাল থানাকে তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন বিচারক।
মামলার এজাহারে বলা হয়, চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল সকাল ৭টায় খালেদা জিয়ার নামে দায়ের করা একটি মামলায় হাজিরা দেয়ার জন্য রামপুরা থেকে তাঁতীবাজার মোড়ে এসে নামে। ওই সময় পেছন দিক থেকে ৩/৪ জন বাদীর পাঞ্জাবি টেনে ধরে এবং ছিঁড়ে ফেলে। এ সময়, এক মাসের মধ্যে মামলা তুলে না নিলে ভয়ংকর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে জানায় দুর্বৃত্তরা।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/৫