বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে মতবিরোধ এবং বিশ্লেষক প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশের অন্যতম বিরোধী দল বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এবং খোদ বিএনপি’র মধ্যে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।
বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে একটি ঐক্যফ্রনট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেয়া, নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করা, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ না নেয়া; স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার কারণে দলের তৃনমূল পর্যায়ের বেশ কিছু নেতা-কর্মীদের বহিষ্কার করা, সংসদে না যাবার ওয়াদা করে শেষপর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তের কথা বলে শপথ নিয়ে সংসদে যোগদান করা এবং আজ পর্যন্ত বেগম জিয়ার কারামুক্তি আদায় করার ব্যর্থতা প্রসঙ্গে এ সব টানাপোড়েন চলছে গত কয়েক মাস ধরেই।
এদিকে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনে বিজয়ী হয়েও সংসদে না যাওয়া এবং সংসদে না যাবার আগের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না বলে মন্তব্য করার পর ২০- দলীয় জোটের ভাঙন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। আর এ নিয়ে খোদ বিএনপির মধ্যে শুরু হয়েছে নানা সমালোচনা।
এ প্রসঙ্গে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, এখন বিএনপি যে রকম নির্যাতন-নিপীড়ন মোকাবেলা করছে, তাতে দলের নেতৃত্বের দিক থেকে কোন প্রকার ভুল করা যাবে না। কারণ সুযোগ পেলে সরকার এ দলটিকে নি:শেষ করে দেবে।
এ অবস্থায় সরকার পক্ষ বিএনপি বিলুপ্ত হবার ভবিষ্যতবাণী করতে শুরু করেছে। আজ নোয়াখালিতে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রান সহায়তা দিতে গিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, বিএনপি জোটে ভাঙন শুরু হয়েছে। এরপর বিএনপিতে ভাঙন হবে এবং এ দলটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ত্যাগ করে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বাংলাদেশ ন্যাপ ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)।
এবার শরিকদল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ গতকাল (সোমবার) ঘোষণা দিয়ে জোট থেকে বের হয়ে গিয়েছেন। ২০ দলকে পাশ কাটিয়ে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে বেশি গুরুত্ব দেয়া এবং তারা সংসদে যোগদানের বিষয়ে ২০ দলের সঙ্গে কোনো আলোচনা না কারনে তারা জোটে অবজ্ঞার সন্মুখিন হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ ।
অপরদিকে, আগামী ২৩ তারিখের মধ্যে বিএনপিকে ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।
২০ দলের এই শরিক নেতা বলেন, ‘বিএনপি সংসদে গিয়ে জনগণের সাথে জোটের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। জোট এবং ফ্রন্টের সিদ্ধান্তই ছিল সংসদে না যাওয়া। এটা তারা সঠিক কাজ করে নাই। একদিকে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করবো আরেক দিকে সংসদে যাব! তাহলে তো ওই সংসদকে বৈধতা দেওয়া হয়। নতুন নির্বাচনের আমাদের দাবি থাকে কোথায়? আমরা নতুন নির্বাচন চাই, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শুধু আমার দল নয়, আমি যদি ২০ দলীয় জোটে না থাকি তাহলে আরো অন্তত ৪ - ৫টি দল এই জোট থেকে বেরিয়ে যাবে।’#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/বাবুল আখতার/৭