পদবঞ্চিত ছাত্রলীগের আল্টিমেটাম: দাবি মানা না হলে গণপদত্যাগের হুমকি
বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের অনুগামী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সদ্য ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছেন পদবঞ্চিতরা। এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে তাঁরা অনশন ও সংগঠন থেকে গণপদত্যাগের মতো কর্মসূচি পালন করার হুমকি দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ নেতারা।
আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করে এই আল্টিমেটাম দেন ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা। নতুন কমিটিতে পদ না পাওয়া বা কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়া ছাত্রলীগের প্রায় দুই শতাধিক নেতা-কর্মী এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের বিগত কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাইফ বাবু লিখিত বক্তব্যে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি পুনর্গঠনে সময় বেঁধে দিয়েছে। এ সময় ছাত্রলীগের শামসুন্নাহার হল শাখার সভাপতি নিপু তন্বী বলেন, দাবি পূরণ না হলে তাঁরা অনশন, গণপদত্যাগের মতো কর্মসূচি পালন করবেন।
উল্লেখ্য, গত বছর ( ২০১৮ সালে) ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের প্রায় আড়াই মাস পর ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরীকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। প্রায় একবছর পর গতকাল সোমবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ছাত্রলীগের গত কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিভিন্ন পদে থাকা বেশ কয়েকজন এবার কমিটিতে জায়গা পাননি। আবার অনেকে পদ পেলেও তা তাঁদের মনঃপূত হয়নি। এ নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
এর আগে, কমিটিতে পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া ব্যক্তিরা গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে তাঁদের ওপর কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা হামলা করে বলে প্রতিপক্ষ অভিযোগ করেছে। এ ঘটনায় নারী নেত্রীসহ ১০ থেকে ১২ জন আহত হন।
এদিকে, ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর সংঘর্ষের বিষয়ে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ঘোষণা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে যা ঘটেছে, তা একটি ‘ছোট সাধারণ ঘটনা’। এটি নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে সহযোগী সংগঠনগুলোর যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন মাহবুব উল আলম হানিফ।
মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘ছাত্রলীগ একটি বৃহৎ সংগঠন, এখানে হাজার হাজার নেতা-কর্মী রয়েছেন। বয়সে তরুণ হওয়ায় তাঁদের প্রতিক্রিয়াটা একটু ভিন্ন। যোগ্য নেতারা সবাই পদ প্রত্যাশা করেন। সবাইকে তো দেওয়া যায় না। তখন কিছু ব্যক্তি অসন্তুষ্ট হতেই পারে। যে কারণে এ রকম একটু–আধটু ঝামেলা হতেই পারে। আমাদের দেশে এমনটি হয়ে থাকে।’
এদিকে, সোমবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের দুগ্রুপের মারামারির ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। কমিটিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/বাবুল আখতার/১৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।