সমঝোতায় ছাত্রলীগ: কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদবঞ্চিতদের আন্দোলন স্থগিত
আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সমঝোতা হওয়ায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করেছেন। রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে তারা আন্দোলন স্থগিত করেন।
গত কমিটির প্রচার সম্পাদক ও আন্দোলনকারী সাঈফ বাবু গণমাধ্যমকে বলেছেন, “আমাদের দাবি মানা হয়েছে, তাই আমরা আন্দোলন স্থগিত করেছি। আমাদের দাবি ছিল, বিতর্কিতদের কমিটি থেকে বাদ দিয়ে যোগ্যদের স্থান দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ করিয়ে দিতে হবে। এছাড়াও দুটি হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচার করতে হবে।”
এর আগে পদবঞ্চিতদের একটি প্রতিনিধি দল রাত ৯টায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে দলের শীর্ষ চার নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক, বাহাউদ্দিন নাছিম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাওসার।
বৈঠক শেষে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজুয়ানুল হক চৌধুরী শোভন সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের কিছু সংখ্যক ছাত্রলীগ কর্মীর কিছু মান অভিমান ছিল। তাদের মান অভিমান শোনা হলো। তাদের দাবীর প্রেক্ষিতে ১৭টি পদ নিয়ে অভিযোগ আছে, সে অভিযোগের ভিত্তিতে নেত্রী (শেখ হাসিনা) আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন তাদের বিষয় খোঁজ নিতে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সে পদ শূণ্য হওয়ার সুযোগ আছে এবং সেখানে যোগ্যদের মূল্যায়ন করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “গত দুইদিন ধরে যারা ক্ষোভ প্রকাশ করছিল এবং ক্ষোভের বহিপ্রকাশ স্বরূপ বিভিন্ন রকম কর্মকান্ড করছে আজ থেকে সব ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা কাজ করবো। মধুর ক্যান্টিনে এক সঙ্গে বসে আড্ডা দিব। বঙ্গবন্ধুর প্রতিষ্ঠা করা সংগঠন ছাত্রলীগকে কীভাবে আরও সুসংগঠিত করা যায় এ বিষয়ে আমরা বসেছিলাম। আশা করছি আমরা সে লক্ষ্যেই এগিয়ে যাব।”
বৈঠক শেষে রাজু ভাস্কর্যে এসে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে মোল্লা কাউছারের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করে কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। এ সময় বিভিন্ন ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।
গত ১৫ মে ছাত্রলীগের সদ্য ঘোষিত ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া বিতর্কিত নেতাদের বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি তার সরকারি বাসভবন গণভবনে দুপুরে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে ডেকে এ নির্দেশ দেন। এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, উপদফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ তালিকায় থাকা ১২ থেকে ১৫ জন বিতর্কিত নেতার নাম কালি দিয়ে চিহ্নিত করে তাদের বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন। তালিকায় যদি আরও কোনো বিতর্কিত নেতা থাকেন খোঁজ-খবর নিয়ে তাদেরকেও বাদ দিতে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। ওই নির্দেশনায় শেখ হাসিনা বিতর্কিতদের ব্যাপারে উত্থাপিত অভিযোগগুলো ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দেন এবং কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদেরকেও অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেন। বিশেষ করে যাদের নামে খুনের মামলা আছে, যারা বিবাহিত, মাদক ব্যবসার সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আছে, যারা জামায়াত-বিএনপি পরিবার তথা মানবতাবিরোধী পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদেরকেও চিহ্নিত করে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এছাড়াও যারা কমিটি ঘোষণার পর থেকে ক্ষোভ প্রকাশের নামে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে তাদের ব্যাপারেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।