ভারতে আবারও ক্ষমতায় মোদী সরকার; আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রতিক্রিয়া
-
শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি (ফাইল ফটো)
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বেসরকারী ফলাফলে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। বিজেপি এককভাবে পেয়েছে ৩০২ আসন। আর এনডিও জোট পেয়েছে ৩৫০টি আসন। অন্যদিকে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট পেয়েছে ৯২টি আসন; যেখানে কংগ্রেসের আসন ৫০টি। এছাড়া অন্যান্য দল পেয়েছে ১০০ আসন।
নিরঙ্কুশ বিজয়ে বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন বার্তায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কংগ্রেস প্রধান রাহুল গান্ধীও। আর দ্বিতীয় মেয়াদে বিজয়ী করায় দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। একইসঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ এগিয়ে নেয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
আবারও বিজয় লাভ করায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেন। এ বিজয়কে ঐতিহাসিক আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ এ বিজয়ে আনন্দিত হবে এবং এ অঞ্চলের মানুষ এক সঙ্গে কাজ করতে পারে।
ভারতে বিজেপি আবারও ক্ষমতায় আসায় বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বণ্টনসহ অমীমাংসিত সব সমস্যা সমাধান সহজ হবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। নরেন্দ্র মোদী ঐতিহাসিক বিজয় নিয়ে অধিক শক্তিশালী হয়ে ক্ষমতায় আসছেন। ফলে তার পক্ষে অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান সহজ হবে বলেই আশা জানান তিনি।
এদিকে, মোদীর বিজয়ে প্রতিক্রিয়া প্রকাশে এবার অনেকটাই সতর্ক ও সংযত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এক সময়, বিজেপির সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলেও গেল ৫ বছরে তা মোটেও ভালো যায়নি। ২০১৪ দলটি ক্ষমতায় আসলে বিএনপি উচ্ছ্বাস দেখিয়েছিল। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। আবারও বিজেপি নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়ার কথা জানিয়েছে দলটি।
নরেন্দ্র মোদীকে অভিনন্দন জানানোর কথা উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ভারতের জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারলেও বাংলাদেশে তা সম্ভব হয়নি। নতুন মেয়াদে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরো শক্তিশালী হবে বলেও আশা জানান আমীর খসরু।
মোদী ঝড় আঘাত হেনেছে পশ্চিমবঙ্গেও। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের দূর্গ ধসিয়ে দিয়েছে বিজেপি। বিদায় নিয়েছে বামরা। ২০১৪ সাল থেকে ১২টি আসন হারিয়ে তৃণমূল এবার পেয়েছে ২২টি। তৃণমূলের শক্তি খর্ব হওয়ায় বাংলাদেশের সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো মোদী সরকারের সহজ হবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/২৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।