কোনো মানদণ্ডেই বাসযোগ্য নয় ঢাকা মহানগরী: নাগরিক অভিমত ও প্রতিক্রিয়া
যেসব মানদণ্ডের ওপর নির্ভর করে একটি শহরকে বাসযোগ্য হিসেবে ধরা যায়, ঢাকা শহরে তার সবকিছুরই ঘাটতি রয়েছে বলে মত দিয়েছেন নগর বিশেষজ্ঞসহ বিশিষ্ট নাগরিকগণ।
তারা মনে করেন, যানজট, জলাবদ্ধতা, ঝুঁকিপূর্ণ বাসস্থান, অপ্রতুল নাগরিক সেবা, বিশুদ্ধ পানির সংকট, বায়ু দূষণ, খোলা গণপরিসরের অভাবসহ রাজধানীতে নানা সংকট বিদ্যমান। কাজেই ঢাকা মহানগরী কোনো মানদণ্ডেই বাসযোগ্য নয়।
গতকাল (শনিবার) জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘কতটা বাসযোগ্য ঢাকা মহানগরী’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে বক্তারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন। নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের চতুর্থ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানাসের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, একটি শহরের বাসযোগ্যতার মানদণ্ড যদি ১০০ পয়েন্ট হয়, তাহলে ঢাকা শহরে আছে ৩৮। এই সমস্যা থেকে উত্তীর্ণ হতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিকল্পিত নগর বিনির্মাণের ভিশনের অভাব, নগর পরিকল্পনা অনুপস্থিতি, ঢাকাকে ঘিরে কেন্দ্রীভূত উন্নয়ন প্রবণতা, দুর্বল উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম, পরিকল্পনা প্রণয়নে পরিকল্পনাবিদদের সুযোগের অভাব, সমন্বয়হীনতাসহ প্রভৃতি সমস্যা রয়েছে।

নগর পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সালেহ উদ্দিন বলেন, ঢাকা শহরে যেভাবে যানজট সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে, সেখানেও ত্রুটি রয়েছে। এভাবে যানজট সমস্যার সমাধান হবে না। এক বর্গকিলোমিটার এলাকায় যখন ৪০ হাজার মানুষ বসবাস করে, তখন সেখানে পরিকল্পিত রাস্তাঘাট, খেলার মাঠ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করা যায় না। এ জন্যই বিশ্বের অনেক দেশের রাজধানী স্থানান্তর হয়েছে। বাংলাদেশে সেটা না করে সব কিছু ঢাকার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বলেন, শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন, ফুটপাত ও খাল দখলমুক্ত করা, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোসহ বহুমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে নগরবাসী এর সুফল পাবে।’
ওদিকে ঢাকা মহানগরীতে সাম্প্রতিক কয়েকটি বড় অগ্নিকাণ্ডে ঘটনার প্রাণহানির পর আতঙ্কিত নগরবাসীর উদ্বেগ নিরসনের জন্য গণপূর্ত বিভাগ থেকে রাজধানীর ৮টি এলাকা এক জরিপ চালিয়ে প্রায় ২ হাজার বহুতল ভবনের মধ্যে ১৭০৭টি ত্রুটিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এ প্রসঙ্গে নগর গবেষক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, এটা তো খুবই একটা দুঃসংবাদ। এখান থেকে বুঝা যায়, আমরা কী রকম ঝুঁকির মধ্যে আছি। এই যে, রানা প্লাজা। সেখানে কার কার গাফিলতি। রাজউক এলাকার ভিতরে একটা ভবন। সেখানে রাজউক তদারকি করে নাই বা তাদেরকে খবরও দেয় নাই। কিন্তু খবর নেয়ার দায়িত্বও রাজউকের।
এছাড়া, নগরবাসীর স্বাস্থ্য সমস্যার আর এক বিপদ মশা। বর্ষা মৌসুমের তিন-মাস আগেই রাজধানীতে দেখা দিয়েছে এডিস মশার প্রাদুর্ভাব। সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার এক গবেষণায় জানা গেছে, ঢাকার উত্তর-দক্ষিণ সিটি মিলে মোট ২২টি ওয়ার্ডে এডিস মশার অস্তিত্ব রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, আমরা মশার আবস্থান চিহ্নিত করে রাস্তাঘাট বা ড্রেন পরিষ্কার করতে পারি, ওষুধ ছিটাতে পানি কিন্তু বাড়ির আঙিনা বা বাসার ভেতরে পরিষ্কার রাখা সেখানকার বাসিন্দাদের করতে হবে।
উল্লেখ্য, এডিস মশা যেক'টি রোগের বাহক তার মধ্যে চিকুনগুনিয়া আর ডেঙ্গুর অস্তিত্ব রয়েছে দেশে। চিকুনগুনিয়ায় মৃত্যু ঝুঁকি না থাকলেও, ২০০২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু জ্বরে প্রাণ গেছে ১৬০ জনের বেশি মানুষের। যারমধ্যে ২০১৮ সালেই প্রাণ গেছে ২৬ জনের।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন