খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংক্রান্ত প্রতিবেদন ৪ জুলাই: আইনজীবীর ক্ষোভ
আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আগামী ৪ জুলাই ধার্য করেছে ঢাকা মহানগর আদালত।
বৃহস্পতিবার এ মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু গুলশান থানা পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। এজন্য ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমান প্রতিবেদন দাখিলের এ নতুন তারিখ ধার্য করেন। এছাড়া, আজ মামলার বাদী এ বি সিদ্দিকী আদালতে হাজির হতে না পারায় তার পক্ষে অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ সময় আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
'বাঙ্গালকে হাইকোর্ট দেখানো হচ্ছে'
এ প্রসঙ্গে বেগম জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার রেডিও তেহরানকে বলছেন, এটা হচ্ছে বাঙ্গালকে হাইকোর্ট দেখানো। বেগম জিয়া কারাগারে আটক আছেন তা গোটা বিশ্ব জানে। অথচ নিম্ন আদালত আর পুলিশকে ব্যবহার করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হচ্ছে আর তা তামিল হবার বিলম্ব দেখিয়ে বেগম জিয়ার জামিনের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে।
নাইকো মামলার শুনানি ফের পিছিয়েছে
ওদিকে, নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ফের পিছিয়েছে। খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় আগামী ২৩ জুন এ মামলার শুনানির নতুন দিন ঠিক করেছেন আদালত।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে কেরানীগঞ্জের কারাভবনে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আশংকাজনক জানিয়ে তার চিকিৎসার জন্য আবেদন জানান আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার।
এরপর গত ১ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখনও তিনি হাসপাতালে চিকিৎধীন রয়েছেন।
'খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ'
এদিকে, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শত নাগরিক জাতীয় কমিটি। সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর অসুস্থতা বিবেচনায় নিয়ে আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই তার মুক্তি দাবি করেছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতারা বলেন, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে ভুগছেন। অসুস্থ অবস্থায়ই এক বছরের বেশি সময় ধরে ‘রাজনৈতিক উদ্দশ্যেপ্রণোদিত’ মামলায় কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।
নাগরিকবৃন্দ বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, খালেদা জিয়া ন্যূনতম মৌলিক অধিকার ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। তার প্রতি প্রদর্শিত এ হৃদয়হীন আচরণ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, অগ্রহণযোগ্য। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার যদি মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা হয়ে থাকে, তা হলে বলতেই হয়, সেই মহান লক্ষ্য থেকে তাকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করা হচ্ছে।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৩০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।