দেশে ফিরেছেন শেখ হাসিনা: সংবাদ সম্মেলন রোববার
-
শেখ হাসিনা
জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ডে ১১ দিনের সফর শেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী ফিনল্যান্ড থেকে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দোহার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি করেন। সেখান থেকে বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট প্রধানমন্ত্রীকে বহন করে আজ (শনিবার) সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল রোববার (৯ জুন) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্রিদেশীয় (জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ড) সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন করবেন। বিকেল ৫টায় গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গত ২৮ মে জাপানের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। টোকিওতে ‘দ্য ফিউচার অব এশিয়া’ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সফরে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য জাপানের সঙ্গে আড়াইশ কোটি ডলারের উন্নয়ন সহায়তা চুক্তি হয়। জাপান সফর শেষে ওআইসির চতুর্দশ সম্মেলনে যোগ দিতে ৩০ মে শেখ হাসিনা সৌদি আরবে যান।
সম্মেলনে অংশ নেয়ার পর তিনি ওমরাহ পালন করেন এবং মহানবী (স.)-এর পবিত্র রওজা জিয়ারত করেন। সৌদি আরব থেকে গত ৩ জুন ফিনল্যান্ড যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী।
পাইলটের পাসপোর্ট কেলেঙ্কারী
এদিকে প্রধান মন্ত্রীর বিশেষ ফ্লাইটের পাইলট ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ চৌধুরী পাসপোর্ট ছাড়া কাতারে গিয়ে বাংলাশের জন্য একটি বিব্রতকর অবস্থা সৃষ্টি করেছেন। বুধবার বিমানটি নিয়ে ঢাকা থেকে কাতার পৌছার পর সেখানকার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ পাসপোর্ট দেখাতে না পারার কারণে পাইলট ফজল মাহমুদকে আটকে দেয়। বিশেষ ব্যবস্থায় পরবর্তী ফ্লাইটে তার পাসপোর্ট কাতার পৌঁছানো এবং কূটনৈতিক চেষ্টায় ঘটনা সামাল দেয়া হয়। এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে বহন করতে কাতার যাওয়া উড়োজাহাজের পাইলটের তালিকা থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়েছে। তাঁর পরিবর্তে বিমানের জ্যেষ্ঠ পাইলট ক্যাপ্টেন আমিনুল ইসলামকে পাঠানো হয়।
এদিকে পাসপোর্টবিহীন অবস্থায় কাতার ইমিগ্রেশনে পাইলট ফজল মাহমুদ ‘আটক’ হওয়া’ র ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট পাইলটসহ পাসপোর্টবিহীন বিমানে ভ্রমণ এবং ঢাকার হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি তদন্ত করার জন্য গতকাল ওই আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মৎ নাসিমা বেগমকে প্রধান করে গঠিত ৪ সদস্যের ওই কমিটিকে ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ চৌধুরীর পাসপোর্টবিহীন অবস্থায় দোহা ভ্রমণের কারণ অনুসন্ধান, বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষে দায়িত্ব অবহেলার বিষয়ে দায়-দায়িত্ব নিরূপণ এবং বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কার্যপদ্ধতির ত্রুটি নিরূপণ করতে বলা হয়েছে। প্রেসিডেন্টের আদেশক্রমে গঠিত কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
পাইলট ফজল অবশ্য তাকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের কথা অস্বীকার করেছেন। তার দাবি পাসপোর্ট ছেড়ে যাওয়ায় তিনি বিমানবন্দরের ভেতরে একটি হোটেলে কাটিয়েছেন। ঢাকা থেকে পরের ফ্লাইটে তার পাসপোর্ট যাওয়ার পর তিনি ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করেছেন।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা বিশেষ করে নিরাপত্তার ঘাটতির বিষয়টি ধরা পড়েছে। পাসপোর্ট ছাড়া পাইলটকে ইমিগ্রেশনে পার হওয়ার সুযোগ দেয়ার ঘটনায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একজন কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত হয়েছে এবং পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
ইমিগ্রেশন পুলিশের অভিযোগ, বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় পাইলট ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করেননি। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানের পাইলট হওয়ায় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাও তার বিষয়ে কড়াকড়ি করেন নি।
উল্লেখ্য, ঘটনাটি প্রকাশের পরপরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে কড়া নির্দেশনা যায় বিমানবন্দরে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, পাসপোর্ট ছাড়া কীভাবে পাইলট কাতার গেলেন, আমরা তা জানতে চেয়েছি। বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশকে ইতোমধ্যে এই বিষয়টি খুঁজে বের করার জন্য নির্দেশও দিয়েছি।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৮