রিফাত হত্যা: আসামি সাগর গ্রেফতার, হাইকোর্টে রিট দায়ের
-
এজাহারভুক্ত আসামি মো. সাগর
বাংলাদেশের বরগুনায় চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মো. সাগর নামের এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে রিফাত হত্যার ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করা হলো।
আজ (রোববার) পুলিশ হেডকোয়ার্টারের এআইজি (মিডিয়া) মো. সোহেল রানা জানান, সাগর এজাহারভুক্ত আসামি। তাকে বরগুনা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
রিফাত হত্যার আগের রাতে নয়ন বন্ডের নেতৃত্বে পরিচালিত ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ ০০৭-এ যে পরিকল্পনা হয়, তাতেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। জানা গেছে, পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছিলেন এই সাগর।
রিফাত হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে ০০৭ মেসেঞ্জার গ্রুপের কথোপকথনে দেখা যায়, রিফাতকে হত্যার দিন সকাল ৮টা ৬ মিনিটে রিফাত হত্যা মামলার দুই নম্বর আসামি রিফাত ফরাজী (নয়ন বন্ডের ০০৭ গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত) গ্রুপে লেখেন, ‘০০৭-এর সবাইরে কলেজে দেখতে চাই।’ এর উত্তরে ‘Mohammad’ নামে একজন জানতে চান, ‘কয়টায়?’ আর ফরাজীর ওই নির্দেশনায় সাগর উপস্থিত থাকার সম্মতি জানান, বিজয়সূচক ‘ভি’ (v) প্রতীকও দেন।
মো. সাগর নিজেও ০০৭ গ্রুপে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। যদিও তিনি বলছেন, তাকে জোর করে এই গ্রুপে যোগ করা হয়েছে। তাছাড়া রিফাত হত্যার সময় তিনি বরগুনা কলেজ এলাকায় উপস্থিত ছিলেন না বলেও দাবি করেছেন।
সাগর বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুল লতিফের ছেলে। বরগুনা পৌরসভার পশ্চিম আমতলা পাড় সড়কে তাদের বাড়ি। বরগুনায় পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফল মিলিয়ে তৈরি মেধাতালিকায় ১৮তম হয়েছেন সাগর। পরীক্ষায় তার রোল ছিল ১০৮, পরীক্ষায় ৪০ নম্বর পেয়েছিলেন তিনি। আজ রোববার বরগুনা পুলিশ লাইনে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে তার আগেই গ্রেফতার হলেন তিনি।
২৬ জুন বরগুনা কলেজের সামনের রাস্তায় রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসী সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনার পরদিন (বৃহস্পতিবার) ১২ জন আসামির নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন রিফাতের বাবা মো. আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ।
আসামি তালিকায় সাব্বির আহমেদ নয়ন (নয়ন বন্ড), মো. রিফাত ফরাজী, মো. রিশান ফরাজী, চন্দন, মো. মুসা, মো. রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রায়হান, মো. হাসান, রিফাত, অলি ও টিকটক হৃদয়ের নাম রয়েছে। মামলায় আরও পাঁচ থেকে ছয় জন অজ্ঞাত আসামি রয়েছে।
১২ আসামির মধ্যে চন্দন ও হাসান দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নাজমুল হাসান নামের এক সন্দেহভাজনকে আটক করে পুলিশ। এদেরমধ্যে চন্দন ও হাসানকে সাত দিন এবং নাজমুলকে তিনদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
হাইকোর্টে রিট দায়ের
এদিকে, রিফাত হত্যা মামলার আসামিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে এ মামলার আসামিদের দেশত্যাগ ঠেকাতে সীমান্তে রেড অ্যালার্ট জারির নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
আজ (রোববার) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট দায়েরের কথা জানান আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। রিটে আইন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইজিপিসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। সোমবার এই রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/৩০