চীন এবং ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বে অসুবিধাটা কোথায়: শেখ হাসিনার প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কারো সঙ্গে বৈরিতা না থাকায় বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ পাচ্ছে। বুধবার বেইজিংয়ের লিজেনদালি হোটেলে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
চীন ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, “আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গেলে অনেকেই জিজ্ঞাসা করে। এবারেও এ প্রশ্নটা শুনতে হয়েছে যে, চীন এবং ভারত দুই দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্ব রাখেন কীভাবে? আমি বললাম, অসুবিধাটা কোথায়? আমাদের প্রতিবেশি দেশ। আমার তো সবার সঙ্গেই সম্পর্ক। সবার সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। সেজন্য এগিয়ে যাচ্ছি, বাংলাদেশে বিনিয়োগ আসছে।”
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে নীতি দিয়ে গেছেন, অক্ষরে অক্ষরে সেই নীতি পালন করে এখন বাংলাদেশের কারো সঙ্গে কোনো বৈরী সম্পর্ক নেই।
ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় এবং মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাবিশ্বে ছিটমহল বিনিময় নিয়ে যুদ্ধ হয়। আমরা যে ছিটমহল বিনিময় করলাম সারাবিশ্বের কাছে এটা একটা দৃষ্টান্ত। একটা উৎসবমুখর পরিবেশে এ ছিটমহল বিনিময় করেছি।
চীনের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, চীন ৭০ বছর উদযাপন করতে যাচ্ছে। এ ৭০ বছরের মধ্যে চীনও কিন্তু একটা দরিদ্র দেশই ছিল। আজ সেই দেশ অর্থনৈতিকভাবে সারাবিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। এখান থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। তাদের ইতিহাস জানা, ধীরে ধীরে তাদের যে উন্নতি। তাদেরও অনেক প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। এখনো বাধা। এ অঞ্চল বা এশিয়ার কোনো দেশ সারাবিশ্বে এক নম্বর অর্থনীতির দেশ হিসেবে গড়ে উঠুক এটা অনেকে চাইবে না। সেই বাধা আমরা দেখি।
দেশের গত এক দশকের উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, এখন দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮.১০ শতাংশ এবং তার সরকার ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট পাস করেছে।
স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সমালোচনা করে প্রধানামন্ত্রী বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি এবং দেশকে অচল করে রেখেছিল তারা সরকারের কোনো ভালো জিনিস খুঁজে পায় না।
তিনি বলেন, দেশে এখনও একটি শ্রেণি রয়েছে যারা অন্ধ এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ তাদের পছন্দ না। কারণ তাদের উত্থান গণতান্ত্রিক পরিবেশে নয়, সামরিক বা জরুরি বা অবৈধ শাসনামলে। তারা সর্বদা নিজেদের বিক্রির জন্য প্রস্তুত থাকে।’
এই শ্রেণির জনগণ ২৯ বছর ক্ষমতায় ছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা ২৯ বছরে যা করেনি আমরা ১০ বছরে তা করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার চলতি অর্থবছরের জন্য ২ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে এবং দেশের উন্নয়ন বাজেটের ৯০ শতাংশ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন হয়। দেশের বাজেটে বিদেশি অনুদান মাত্র ০.৮ শতাংশ,’ যোগ করেন তিনি।
শেখ হাসিনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. ফজলে করিম। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার শামসুল হক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।