খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির বিষয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলবে বিএনপি
-
বেগম খালেদা জিয়া
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলের নীতি-নির্ধারকরা।
গতকাল (শনিবার) রাতে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। স্কাইপে যুক্ত থেকে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। আমরা বার বার চেষ্টা করেও তার সুচিকিৎসার ব্যাপারে সরকারকে রাজি করাতে পারিনি। আইনি লড়াই চালিয়ে গেলে কোর্ট তাকে জামিন দিচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে আমরা তার স্বাস্থ্য ও তার মুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।’
বিএনপির মহাসচিব আরো জানান, যেসব গণতান্ত্রিক দেশ আছে, আমরা তাদেরকে অবহিত করব এবং অন্যায়ভাবে বেগম জিয়াকে যে আটক করে রাখা হয়েছে সে বিষয়টা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
তিনি বলেন, ঈদের আগে বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টা এসেছিল। কিন্তু হাইকোর্টে একটা নেতিবাচক আদেশ হওয়ার পর আমাদের ধারণা আরও দৃঢ় হয়েছে যে, বিচার ব্যবস্থা আর স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। সরকার বিচার ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
আদালতে ন্যায় বিচার পাওয়া যাবে না মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আইনিভাবে খালেদা জিয়ার মুক্তি কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। সে কারণে তার মুক্তির আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য বিভাগীয় পর্যায়ের সমাবেশ কর্মসূচি অব্যাহত রাখব। যেহেতু আগস্ট মাসে সরকার কোনো কর্মসূচি নিতে দেয় না, সে কারণে আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবার কর্মসূচি দেবো।
এদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে রুজু করা মামলাগুলো সম্পর্কে তার অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার রেডিও তেহরানকে বলেন, বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টিতে তিনি জামিনে আছেন। বাকী দু’টি এ মামলায় তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আপিল ও জামিনের আবেদন উচ্চতর আদালতে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ নিয়ে তারা যথাযথ আইনি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, দু’টি দুর্নীতির মামলায় ১৭ বছরের দণ্ড মাথায় নিয়ে প্রায় দেড় বছর ধরে কারাবন্দী রয়েছেন বেগম জিয়া। এরই মধ্যে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। এ ব্যাপারে তার আইনজীবীরা বলছেন, ওই জামিন আবেদনটি অন্যায়ভাবে খারিজ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে তার শীর্ষ আইনজীবীরা হাইকোর্টের আদেশ পর্যালোচনা করছেন। তাছাড়া, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় লিভ টু আপিল ও জামিন আবেদন দাখিল করা হয়েছে। জামিন আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে পেশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। আর এই দু’টি মামলায় জামিন পেলে খালেদা জিয়া মুক্তিতে আর কোনো বাধা থাকবে না বলে আশা করছেন তার আইনজীবীরা।
এ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, খালেদা জিয়াকে আইনগত ও সাংবিধানিক অধিকার থেকে বারবার বঞ্চিত করা হচ্ছে। তিনি কোনো ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না। জামিনযোগ্য মামলায়ও জামিন পাচ্ছেন না তিনি। এ সমস্ত দিক বিবেচনা করে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।