এনজিওদের ইন্ধনে রোহিঙ্গারা ভাসানচরে যেতে রাজি হয়নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i73373-এনজিওদের_ইন্ধনে_রোহিঙ্গারা_ভাসানচরে_যেতে_রাজি_হয়নি_পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন বলেছেন, ভূমিধসের সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে সরকার বর্ষার আগেই রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠাতে চেয়েছিল। রোহিঙ্গারা সেখানে গেলে আশ্রয়ের পাশাপাশি জীবিকারও ব্যবস্থাও হতো। কিন্তু এনজিওদের ইন্ধনে রোহিঙ্গারা ভাসানচরে যেতে রাজি হয়নি। কেননা সেখানে এনজিও কর্মকর্তাদের জন্য ফাইভ স্টার হোটেলের ব্যবস্থা নেই।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০৪, ২০১৯ ১৩:৫২ Asia/Dhaka
  • ড. আব্দুল মোমেন
    ড. আব্দুল মোমেন

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন বলেছেন, ভূমিধসের সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে সরকার বর্ষার আগেই রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠাতে চেয়েছিল। রোহিঙ্গারা সেখানে গেলে আশ্রয়ের পাশাপাশি জীবিকারও ব্যবস্থাও হতো। কিন্তু এনজিওদের ইন্ধনে রোহিঙ্গারা ভাসানচরে যেতে রাজি হয়নি। কেননা সেখানে এনজিও কর্মকর্তাদের জন্য ফাইভ স্টার হোটেলের ব্যবস্থা নেই।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা ভাসানচরে গেলেও সঙ্কটের শেষ হবে না। এটি হবে সাময়িক সমাধান। সরকার জোর করে কোন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে পাঠাবে না।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সাম্প্রতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়া এবং কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের একটি বিশাল মাবেশের পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালামকে এবং কয়েকটি ক্যাম্পের ইন-চার্জকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।   

এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের মাঝে কর্মরত ৪১টি এনজিও’র কার্যক্রম বন্ধের কথা জানালেও তা এখনো কার্যকর হয় নি। এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, এনজিওদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবার জন্য সরকারের গোয়েন্দা এজেন্সি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা

এদিকে, রোহিঙ্গাদের মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধের লক্ষ্যে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একই সাথে শরণার্থী শিবির এলাকায় টেলিযোগাযোগ সেবা সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসি।

বিকাল ৫টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ১৩ ঘণ্টা থ্রিজি, ফোর জি সেবা বন্ধ করার জন্য মোবাইল ফোন অপারেটরদের নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি।

কক্সবাজার ক্যাম্পের সামনে কয়েকটি রোহিঙ্গা শিশু

এদিকে, রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট, এনআইডি এবং সর্বশেষ স্মাট কার্ড পাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ।

পুলিশের অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে বাংলাদেশে অবস্থানকারী পুরাতন রোহিঙ্গারা স্থানীয়দের সহযোগিতয় নতুন আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশী জাতীয় পরিচয়পত্র  পাবার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে।

এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট, এনআইডি এবং স্মাট কার্ড পাওয়া ঠেকাতে চট্টগ্রাম বিভাগের ৫টি জেলার ৩৮টি উপজেলাকে বিশেষ জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

এসব উপজেলার যেকোনো নাগরিকের পাসপোর্ট, এনআইডি কার্ডের আবেদন স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত কমিটিকে পর্যালোচনা করে রিপোর্ট দিতে হবে।

গত তিন দশকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে এক লাখের বেশি রোহিঙ্গা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী হওয়ায় অপরাধ প্রবণ রোহিঙ্গাদের সব দায় এসে পড়ছে বাংলাদেশের ওপর।

নতুন-পুরোনো মিলিয়ে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারে অবস্থান করছে। মানবিক কারণে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয়ের পাশাপাশি সার্বিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। দেশি-বিদেশি এনজিওর পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার তাদের খাদ্য, অস্থায়ী বাসস্থান, চিকিৎসা, বস্ত্র, লেখাপড়া, বিনোদনসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।