খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ, বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i73476-খালেদা_জিয়ার_জামিন_আবেদন_শুনানির_জন্য_গ্রহণ_বিএনপির_কর্মসূচি_ঘোষণা
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে হাইকোর্ট।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১৯ ১০:৪৮ Asia/Dhaka
  • বেগম খালেদা জিয়া (ফাইল ফটো)
    বেগম খালেদা জিয়া (ফাইল ফটো)

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে হাইকোর্ট।

আজ (রোববার) বিচারপতি ফরিদ আহমেদ ও বিচারপতি এএসএম আব্দুল মোবিনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করে তা কার্যতালিকায় রাখার নির্দেশ দেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, নিতাই রায় চৌধুরী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও ব্যারিস্টার মীর হেলাল।

পরে ব্যারিস্টার মীর হেলাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকে জামিন আবেদন দায়ের করেছি। আশা করছি, এ সপ্তাহে শুনানি হবে। যদি না হয় আগামী সপ্তাহে কার্যতালিকায় আসবে এবং শুনানি হবে।’

তবে এর আগে গত ৩১ জুলাই বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছিলেন। পরে গত ৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পুনরায় খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে আবেদন জানান তার আইনজীবীরা।

গত ৩০ এপ্রিল জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের দণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে অর্থদণ্ড স্থগিত এবং সম্পত্তি জব্দের ওপর স্থিতাবস্থা দিয়ে দুই মাসের মধ্যে ওই মামলার নথি তলব করেছিল। এরপর ২০ জুন বিচারিক আদালত থেকে মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। গত বছরের ১৮ নভেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। বর্তমানে তিনি কারা কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়  হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মির্জা ফখরুল ইসলাম

বিএনপির কর্মসূচি

এদিকে, বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ও ১২ সেপ্টেম্বর সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ২১ সেপ্টেম্বর সিলেটে, ২৬ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ ও ২৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে সমাবেশ হবে। রংপুরের সমাবেশের তারিখ পরে জানানো হবে বলে জানান তিনি।

মির্জা ফাখরুল অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে বলেছেন, সঠিক চিকিৎসা না দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার।

মির্জা ফখরুল বলেন, গত পাঁচ মাস ধরে তিনি (খালেদা) বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গতকাল ওই হাসপাতালের ভিসিসহ মেডিকেল বোর্ড বলেছে তিনি এখন সুস্থ আছেন। তাদের এ বক্তব্য তাকে পুনরায় কারাগারে নেয়ার ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের অংশ।

তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করে এসে বলেছেন, তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। একা চলতে পারেন না। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে আক্রান্ত। আমরা অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করছি। তাকে তার পছন্দ মতো হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ দেয়ার জন্য দাবি করছি। অন্যথায় তার শারীরিক যেকোনো অবনতির জন্য বর্তমান অবৈধ সরকার দায়ী।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপি নেতা মীর সরফত আলী সপু, আবুল কালাম আজাদ, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।#

 

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৮

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন