ক্যাসিনো বন্ধে র্যাবের অভিযান চলবে-্ডিএমপি: যুবলীগ চেয়ারম্যানের ক্ষোভ
-
ক্যাসিনোতে র্যাবের অভিযান
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার চারটি ক্লাবে বুধবার রাতে অভিযান চালানোর পর পুলিশ ও র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজধানীতে অবৈধ জুয়ার আড্ডা বা ক্যাসিনো চলতে দেয়া হবে না। ক্যাসিনোর মালিক যতই প্রভাবশালী হোক না কেনো তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে ।
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর সাড়ে ১২টায় ডিএমপিতে এক সংবাদ সম্মেলন করে ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ক্যাসিনোতে যারা জুয়া খেলতে আসে তারাই মাদক সেবন করছে। ক্যাসিনো যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে সেখানে মাদক সেবনও বন্ধ হবে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘রাজধানীতে অবৈধ জুয়ার আড্ডা, ক্যাসিনো চলতে দেওয়া হবে না। এসব জুয়ার বোর্ড, ক্যাসিনোর সঙ্গে যত প্রভাবশালীই জড়িত থাকুক না কেন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ কঠোর হবে। পুলিশ কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ যদি এই ব্যবসায় জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
পুলিশের কোনো সদস্য এর সাথে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
গতকাল রাজধানীর চারটি ক্লাবের অবৈধ ক্যাসিনোতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক, নগদ টাকা এবং ১৮২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযান শেষে এসব ক্যাসিনো সিলগালা করে দেওয়া হয় ।
র্যাবের নির্বাহী হাকিম সারোয়ার আলম জানান, “অনুমোদনবিহীন এসব ক্যাসিনোতে জুয়া খেলার পাশাপাশি মাদক ব্যবসা ও সেবন হতো। নামে ক্লাব হলেও এগুলোতে কোনো ক্রীড়া সামগ্রী বা কোনো খেলোয়াড়কে দেখা যায়নি। বিভিন্ন কক্ষজুড়ে ছিল ক্যাসিনোর বোর্ড, ডার্ট বোর্ডসহ জুয়ার সামগ্রী এবং জুয়াড়ী। ছিল মদ, বিয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক।”
তিনি জানান, “পর্যায়ক্রমে এ ধরনের অভিযান আরও চালানো হবে। অপরাধী যেই হোক, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
গতকাল ফকিরাপুল ইয়ংম্যান’স ক্লাব ও ওয়ান্ডারাস ক্লাব, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ’র মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র এবং বনানীস্থ আহমেদ টাওয়ারে গড়ে ওঠা একটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালানো হয়। প্রতিটি ক্লাবেই ছিল একাধিক বিশেষ কক্ষ। যেখানে ‘ভিআইপি’রা মদ পান করতেন, উচ্চ মূল্যে জুয়া খেলতেন।

ইয়ংম্যান’স ক্লাবে অভিযানের সময়ই এই ক্লাব পরিচালনায় যুক্ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে তার গুলশানের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
বুধবার কয়েকটি সংবাদপত্রে যুবলীগ নেতাদের ৬০টি জুয়ার আখড়া বা ক্যাসিনো চালানোর খবর প্রকাশিত হওয়ার পর গতকালই চারটি ক্লাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চালায়।
অভিযান চলার খবর পেয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট কয়েক হাজার নেতা-কর্মী নিয়ে কাকরাইলে সংগঠনের কার্যালয়ে অবস্থান নেন।
এদিকে, এই অভিযানে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। ঢাকা মহানগরের নেতাদের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগের বিষয়ে যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটা কি বিরাজনীতিকরণের নীতি নিয়ে আসছেন? দলকে পঙ্গু করার কোনো ষড়যন্ত্রে আসছেন? নিষ্ক্রিয় করার ষড়যন্ত্রে আসছেন?’
এক বিবৃতিতে যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, ‘তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে যুবলীগের কোনো নেতা বা শাখার (যে পর্যায়েরই হোক না কেন) বিরুদ্ধে ন্যূনতম অভিযোগেরও যদি সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে যুবলীগ ওই ব্যক্তি ও কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘আপনারা বলছেন ৬০টি ক্যাসিনো আছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আপনারা ৬০ জনে কি এত দিন আঙুল চুষছিলেন? তাহলে যে ৬০ জায়গায় এই ক্যাসিনো, সেই ৬০ জায়গার থানাকে অ্যারেস্ট করা হোক। সেই ৬০ থানার যে র্যাব ছিল, তাদের অ্যারেস্ট করা হোক।’
এর আগে গত শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যুবলীগের সবার আমলনামা আমার হাতে এসেছে। আমি সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলে দিয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘যুবলীগের ঢাকা মহানগরের একজন নেতা যা ইচ্ছে করে বেড়াচ্ছে, চাঁদাবাজি করছে। আরেকজন দিনের বেলায় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে চলেন। যারা অস্ত্রবাজি করেন, যারা ক্যাডার পোষেন, তারা সাবধান হয়ে যান। তা না হলে, যেভাবে জঙ্গি দমন করা হয়েছে, একইভাবে তাদেরকেও দমন করা হবে।’#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৯
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন