কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের সভাপতি ১০ দিনের রিমান্ডে, শামীমকে পুলিশে হস্তান্তর
-
আদালতে শফিকুল আলম ফিরোজ
বাংলাদেশের রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্র ক্লাবে সভাপতি ও কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল আলম ফিরোজের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে দায়ের দুটি মামলায় ৫ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
আজ (শনিবার) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা আক্তার এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অস্ত্র আইনের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার এসআই মো. নুর উদ্দিন এবং একই থানার এসআই আশিকুর রহমান মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় আসামি শফিকুলকে আদালতে হাজির করে ১০ দিন করে ২০ দিন রিমান্ড আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, মামলার বাদী র্যাব-২ এর পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ খান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) ধানমন্ডি মডেল থানাধীন কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের অফিস ভবনের ভেতরে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং মাদক দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় চলছে। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গাউছুল আজম অভিযান পরিচালনা করেন। অফিস কক্ষ তল্লাশি করে একটি বিদেশি পিস্তল, ৯৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং একটি মোবাইল ফোন জব্দ করে। পরে শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে এবং মাদক আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিজ হেফাজতে রেখে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতেন। কলাবাগান ক্রীড়া চক্র ক্লাবের অফিসকে নিরাপদ আশ্রয় মনে করে অবৈধ মাদক দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়সহ বিভিন্ন অসামাজিক করে আসছিলেন বলে আসামি স্বীকার করেছেন।
মামলাটির তদন্তের স্বার্থে, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকদ্রব্যের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অপরাধীদের গ্রেফতার, এমনকি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে আগে সংঘটিত অপরাধ উদঘাটনের লক্ষ্যে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং অভিযান পরিচালনা করার লক্ষ্যে রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদ চৌধুরীসহ অন্য আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে রিমান্ডের আদেশ দেন।
এদিকে যুবলীগের নেতা হিসেবে পরিচিত গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দিয়েছে র্যাব। শুক্রবার নিকেতনে ব্যবসায়িক কার্যালয় থেকে সাত দেহরক্ষীসহ গ্রেপ্তার শামীমকে আজ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
দুপুরে গুলশান থানায় শামীমের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে বিকেলে দেহরক্ষীদেরসহ তাকে ওই থানা পুলিশের জিম্মায় দেয়া হয়। র্যাব সদরদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান এই তথ্য জানিয়েছেন।
শুক্রবার সকালে গুলশানের নিকেতনে শামীমের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে আটটি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল সংখ্যক গুলি, নগদ প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর, বিদেশি মুদ্রা ও মদ পাওয়ার কথা জানায় র্যাব। শামীমের সঙ্গে এসময় তার সাত দেহরক্ষীকেও গ্রেফতার করা হয়। #
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২১
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন