ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক গোটা বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত: শেখ হাসিনা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i74230-ভারত_বাংলাদেশ_সম্পর্ক_গোটা_বিশ্বের_কাছে_দৃষ্টান্ত_শেখ_হাসিনা
দিল্লি সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সাথে দীর্ঘস্থায়ী মৈত্রী  কামনা করে বলেছেন, প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক গোটা বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
(last modified 2026-06-24T09:59:37+00:00 )
অক্টোবর ০৫, ২০১৯ ১৫:৫৭ Asia/Dhaka
  • শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি
    শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি

দিল্লি সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সাথে দীর্ঘস্থায়ী মৈত্রী  কামনা করে বলেছেন, প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক গোটা বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঢাকায় প্রাপ্ত খবরে বলা হয়েছে, আজ নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে তারা যৌথভাবে তিনটি যৌথ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পানিসম্পদ বিষয়ে ৬টি সমঝোতা স্মারক বিনিময় প্রত্যক্ষ করেন।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনটি যৌথ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ থেকে ভারতে এলপিজি রপ্তানি ও খুলনায় বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট নির্মাণ প্রকল্প ও ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনে স্বামী বিবেকানন্দ ভবন নির্মাণ প্রকল্প।

বৈঠক ও প্রকল্প উদ্বোধন শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী তাদের সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ভবিষ্যতে যৌথ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এই আশাবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রীর দীর্ঘস্থায়িত্ব কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

একই মনোভাব প্রকাশ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, নতুন এই যৌথ উন্নয়ন প্রকল্প দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক বাড়িয়ে তুলবে এবং দিন দিন তা আরও উজ্জ্বল হবে।  

যেসব বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছে সেগুলো হলো- উপকূলীয় অঞ্চলে নজরদারি বিষয়ে এমওইউ, ভারত থেকে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার নিয়ে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি), ত্রিপুরার সাবরুম শহরে পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্পের জন্য ফেনী নদী থেকে ভারতের ১.৮২ কিউসেক পানি প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য এমওইউ, বাংলাদেশকে প্রতিশ্রুত ভারতের লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) বাস্তবায়নে চুক্তি, হায়দ্রাবাদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এমওইউ, সংস্কৃতি বিনিময় কর্মসূচি নবায়ন এবং যুব বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে এমওইউ। 

এর আগে গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে নয়া দিল্লিতে হোটেল তাজ প্যালেসে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ইন্ডিয়া ইকোনোমিক সামিটের সমাপনী অধিবেশনে বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  

এ সময় তিনি দক্ষিণ এশিয়াকে সংঘবদ্ধ, বন্ধুত্বপূর্ণ ও প্রতিযোগিমূলক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে এই অঞ্চলের বিদ্যমান ভূ-রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় চার দফা প্রস্তাব দেন। এর মাধ্যমে পারস্পরিক বৈশ্বিক কল্যাণে দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে সংযোগ প্রতিষ্ঠার ওপর অগ্রাধিকার দিচ্ছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ এশিয়ান হাইওয়ে ও এশিয়ান রেলওয়ে প্রতিষ্ঠাতেও ভূমিকা রাখছে। দারিদ্র্যকে এই অঞ্চলের অভিন্ন শত্রু অভিহিত করলেও এই অঞ্চলের সবার এর বিরুদ্ধে লড়াই করার সামর্থ্য আছে উল্লেখ করে সবাইকে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।