খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনিত ঘটেছে: রিজভী
-
রুহুল কবির রিজভী
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনিত ঘটেছে বলে দাবি করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রতিহিংসায় ৬১৩ দিন যাবত বন্দি করে রেখেছেন তাকে। কারাগারে নেয়ার সময় সম্পূর্ণ সুস্থ দেশনেত্রী এখন হুইল চেয়ার ছেড়ে উঠতে পারেন না, কারও সাহায্য ছাড়া দাঁড়াতে পারেন না, নিজে হাতে খেতেও পারেন না। তার পোশাকও আরেকজনকে পরিয়ে দিতে হয়। হাত-পা শক্ত হয়ে গেছে। হাত-পায়ের আঙ্গুল ফুলে গেছে।
আজ (রোববার) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী আহমেদ।
তিনি আরও বলেন, যথাযথ চিকিৎসার বিষয়ে আমরা বার বার দাবি করা সত্ত্বেও উন্নতমানের বিশেষায়িত কোনো হাসপাতালে দেশনেত্রীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। তার জরুরিভাবে উন্নত চিকিৎসা দরকার।
ক্ষমতায় টিকে থাকতে খালেদা জিয়ার জামিনে বাধা দেয়া হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, কাঁটাতারে ঝুলন্ত ফেলানি থেকে মেধাবী তরুণ আবরার ফাহাদকে হত্যা ও বেগম জিয়ার বন্দিত্ব একই সুতায় গাঁথা। বেগম জিয়ার সুচিকিৎসা হচ্ছে না। দেশনেত্রীর জামিনে বাধা দিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছে না। বিএসএমএমইউর পরিচালককে দিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বলানো হচ্ছে -‘খালেদা জিয়া ভালো আছেন, তার অবস্থার কোনো অবনতি হয়নি’।
দেশবাসী খালেদা জিয়ার পরিণতি নিয়ে অজানা আতঙ্ক ও শঙ্কা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার অমানবিক এবং বেআইনি কাজে এত বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে যে, তারা খালেদা জিয়ার বিপজ্জনক অসুস্থতাও ভ্রুক্ষেপ করছে না। সরকারের অমানবিক ও অসুস্থ আচরণ প্রমাণ করে দেশনেত্রীর প্রাণনাশের ষড়যন্ত্র করছেন তারা।
এ সময়, মিথ্যা মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদকে গ্রেফতারের নিন্দা ও মুক্তি দাবি করেন রিজভী।
আরবারের বাড়িতে যেতে পারেনি বিএনপির প্রতিনিধি দল
এদিকে, ছাত্রলীগের নেতাদের পিটুনিতে নিহত বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের বাড়িতে যেতে পারেনি বিএনপির প্রতিনিধি দল। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানের নেতৃত্বে এ প্রতিনিধি দলটিকে ভেড়ামারা থেকে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ করেছেন দলটির নেতারা।
আজ (রোববার) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের লালন শাহ সেতুর ভেড়ামারা অংশের টোল প্লাজা থেকে তাকে ফেরত পাঠানো হয়। কেন্দ্র ঘোষিত সমাবেশে অংশ নিতে এবং আবরাবের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিলো তাদের। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিমউদ্দিন আলম, জেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী রুমি, সাধারণ সম্পাদক সোহবার উদ্দিন।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/১৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।