সড়ক পারাপারে অধৈর্য হওয়া যাবে না: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i74681-সড়ক_পারাপারে_অধৈর্য_হওয়া_যাবে_না_প্রধানমন্ত্রী_শেখ_হাসিনা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের আলোচনায় বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় রাস্তার দোষ দেওয়া হয়, গাড়ি চালকদেরও গালি দেওয়া হয়। কিন্তু পথচারীকেও সচেতন হতে হবে। পথচারীদের যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনি গাড়িচালকদেরও দায়িত্ব আছে।
(last modified 2026-06-24T09:59:37+00:00 )
অক্টোবর ২২, ২০১৯ ১৪:৪০ Asia/Dhaka
  • শেখ হাসিনা
    শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের আলোচনায় বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় রাস্তার দোষ দেওয়া হয়, গাড়ি চালকদেরও গালি দেওয়া হয়। কিন্তু পথচারীকেও সচেতন হতে হবে। পথচারীদের যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনি গাড়িচালকদেরও দায়িত্ব আছে।

সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনার মাত্রা কমিয়ে আনার প্রত্যয় নিয়ে আজ (মঙ্গলবার) তৃতীয়বারের মতো সারাদেশে পালিত হচ্ছে দিবসটি। এ উপলক্ষে আজ সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী জনগণের সচেতনতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ন্যাশনাল রোড সেফটি স্ট্র্যাটেজিক অ্যাকশন প্ল্যান (২০১৭-২০) প্রণয়ন করা হয়েছে এবং সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছে। এ আইনটি প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্ঘটনা ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেছেন, সড়ক পারাপারে অধৈর্য হওয়া যাবে না। গাড়িতে বসে হাত-পা বাইরে ঝুলিয়ে রাখা যাত্রীর কাজ না। এতে যেকোনো গাড়ির সঙ্গে চাপ লেগে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, চালক গাড়ি চালাতে চালাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। পথচারীরা রাস্তা বা রেলপথ অতিক্রম করার সময় মোবাইলে কথা বলছে। অনেকে দুই রেললাইনের মাঝখান দিয়ে হাঁটেন। এসব কারণে বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে।

পুলিশের হিসাব মতে, রাস্তায় যাবাহনের আতিরিক্ত গতি এবং রাস্তা পারাপারে অসতর্কতার কারণেই বেশীরভাগ দুর্ঘটনা ঘটে থাবে।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গণসচেতন সৃষ্টির গুরুত্ব উল্লেখ করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক রেডিও তেহরানকে বলেন, সরকারকে উদ্যোগ নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের জন্য নিয়মিতভাবে সচেতনতামূলক কর্যক্রম চালাতে হবে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মনে করেন, প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের পাঠ্যপুস্তকে এ বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করা হলে পরবর্তীতে একটি সচেতন যাত্রী ও পথচারীদের সমাজ গড়ে উঠবে।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আজ স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ক্রোড়পত্র প্রকাশ, আলোচনা সভা, র‍্যালি ও সড়ক সচেতনতা কার্যক্রম।

দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীতে আজ সকাল সাড়ে ৭টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে একটি র‍্যালি বের হয়। এছাড়া বিকেলে রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ভিডিও চিত্র প্রদর্শন এবং   লিফলেট, পোস্টার ও স্টিকার বিতরণ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া, এ দিবসটি পালন উপলক্ষে সকল জেলা ও উপজেলায় শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ভিডিও চিত্র প্রদর্শনের কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তার ব্যাপারে গণসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে আলোচনা ও বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ উপলক্ষে পৃথক পৃথক বাণীতে জাতীয় পর্যায়ে দিবসটি পালনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রেসিডেন্ট তার বাণীতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সরকার একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে সড়ক দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আজকের এ আয়োজন নিরাপদ সড়ক ব্যবহারে জনগণের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করতে সহায়ক হবে।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে আশা করেছেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা দেশের সড়কগুলোকে নিরাপদ হিসেবে গড়ে তুলে সড়ক দুর্ঘটনা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সক্ষম হব।#

 

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।