খালেদা জিয়ার জামিনের চাবি শেখ হাসিনার হাতে: রিজভী
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i74774-খালেদা_জিয়ার_জামিনের_চাবি_শেখ_হাসিনার_হাতে_রিজভী
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের চাবি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
অক্টোবর ২৬, ২০১৯ ১০:১১ Asia/Dhaka
  • বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা
    বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের চাবি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ (শনিবার) সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ মানববন্ধন আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল।

মানববন্ধনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “আজকে তারা ভোটারবিহীনভাবে ক্ষমতায়। তাদেরকে কী সরকার বলব? আজকে এই দেশ চালাচ্ছে মাফিয়া সিন্ডিকেট। এই সরকার, সরকার নয়। এটি একটি মাফিয়া সিন্ডিকেট। তা না হলে বেগম খালেদা জিয়ার জামিন হবে না কেন? এ রকম মামলায় অসংখ্য জামিন হয়েছে। তারা (সরকার) নিজ থেকেই বলেছে তারেক যদি বাড়াবাড়ি করে, তাহলে কিন্তু তার মা মুক্ত হবেন না। কারণ, এই জামিনের চাবিটা শেখ হাসিনার হাতে আছে। শেখ হাসিনা যতক্ষণ পর্যন্ত না তালা খুলবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্ত হবেন না।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়টি উল্লেখ করে রিজভী বলেন, “মাঝে মাঝে তার আত্মীয়-স্বজনরা যাচ্ছেন, খবর নিয়ে আসছেন। তিনি (খালেদা জিয়া) হাত নাড়াতে পারছেন না। প্রতিদিন সেটা ফিক্সড হয়ে যাচ্ছে। কোটি কোটি মানুষের সমর্থন যার প্রতি, তিনি আজ হুইল চেয়ারবাইন্ড হয়ে গেছেন। তাকে দুইজনে ধরে তুলতে হয়। অথচ তিনি হেঁটে কারাগারে গেছেন। তার আজকের এই চরম, শোচনীয় শারীরিক অবনতির জন্য দায়ী স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। তার ক্ষোভ, তার হিংসা, তার জিঘাংসা এবং তার রাষ্ট্রক্ষমতা ভোগ দখলের জন্য খালেদা জিয়া ধুঁকে ধুঁকে কারাগারের মধ্যে জীবনযাপন করছেন।”

রুহুল কবির রিজভী

রিজভী বলেন, “যে হাসপাতালে তিনি (খালেদা জিয়া) রয়েছেন, সেখানে তার চিকিৎসা হচ্ছে না। তার আত্মীয়-স্বজনরা বলেছেন, তিনি মুক্ত হলে তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাবেন। কিন্তু পরিবারের এই আকুতি সরকারের কানে ঢোকে না।”

বিএনপির এ নেতা বলেন, “মানুষের শেষ আশ্রয় আদালত। সেই আদালতে কোনো বিচার নেই। সেখানে কোনো বিচার পাওয়া যায় না। তাহলে আর কোথায় কোন জায়গায় গিয়ে দাঁড়াবে মানুষ? তাই আমরা মনে করি, অবিলম্বে বেগম জিয়ার মুক্তি আমাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের গণতন্ত্র আমাদেরকেই ফিরিয়ে আনতে হবে।”

তিনি বলেন, “গণতন্ত্র ফিরিয়ে না আনলে আরও আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের শিকার হবে। আপনাদের (সরকার) মনের মধ্যে যদি এতই পরিবর্তন হতো, তাহলে আবরার হত্যাকণ্ডের পর গোটা জাতি যেভাবে শোকে মুহ্যমান হয়েছে, তারপর মনে হয়েছিল সরকার বোধ হয় তার দলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে নিভৃত করবে। কিন্তু ঘটনার কয়েক দিন পরই তারা ছাত্রদলকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আক্রমণ করে রক্তাক্ত করেছে।”

মানববন্ধন শেষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করে মহিলা দল। মিছিলটি কাকরাইল নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবার নয়াপল্টনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশ নেন রুহুল কবির রিজভী, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানসহ সংগঠনের কয়েক শ' নেতাকর্মী।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।