বিএনপি নেত্রী কারাগারে নজিরবিহীন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন: শেখ হাসিনা
-
বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “বিএনপি নেত্রী অন্যান্য বন্দীদের চেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা লাভ করছেন। বেগম জিয়ার ইচ্ছা অনুযায়ী একজন গৃহপরিচারিকা কারাগারে তার সঙ্গে রাখা হয়েছে। তার মানে বেগম জিয়াকে কারাগারে সে সেবা করছে।”
শনিবার সন্ধ্যায় বাকুতে স্থানীয় হিলটন হোটেলে আজারবাইজানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কারাগারের ইতিহাসে বা কোনো দেশে এমন নজির নেই, কোনো নিরপরাধী গৃহপরিচারিকা একজন বন্দীর সঙ্গে কারাগারে অবস্থান করে। কিন্তু খালেদা জিয়া সেই সুবিধা ভোগ করছেন।”
শেখ হাসিনা আরও বলেন, “বেগম জিয়াকে বিএসএমএমইউতে একটি কেবিনে রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। বিএনপি বলছে বেগম জিয়া অসুস্থ, কারণ তারা তার মুক্তির দাবিকে আন্দোলনের ইস্যু বানাতে এটা বলছে। কিন্তু বিএনপি তার মুক্তির আন্দোলন বা জনমত গঠন করতে পারেনি। কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন- সেক্ষেত্রে আমরা কি করতে পারি?”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিগত কেয়ারটেকার সরকারের আমলে দায়েরকৃত মামলায় সাজা হয়। আরও মামলা চলমান রয়েছে। বেগম জিয়ার দুই ছেলে মানি লন্ডারিং, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে।”
বিএনপি-জামায়াত সরকারের ব্যাপক দুর্নীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তাদের পাঁচ বছরের দুঃশাসনে দেশে দুর্নীতির কোনো সীমা ছিল না।”
চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে ভালো ফল আসছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সার্বিক দিক থেকে আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখানে যতক্ষণ আছি দেশের কাজ করে যাব। অপরাধী নিজের দলের হলেও আইন তার আপন গতিতে চলবে। অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখব।’
তিনি বলেন, “দুর্নীতি, মাদকের বিরুদ্ধে একটা অভিযানও আমরা করেছি। অভিযানগুলোতে আমরা ভালো ফল পাচ্ছি। কারণ মাদক একটি ব্যক্তি ও পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। আমি ক্ষমতায় আসার পর সর্বাত্মকভাবে দেশের ও জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি যে পরকে শিক্ষা দিতে হলে আগে নিজের ঘর থেকে শুরু করা উচিত। আমি কিন্তু এখন তাই করছি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান। সেটাই আমি করে যাচ্ছি।’
গুজব ছড়ানো অপরাধীদেরও ছাড় দেয়া হবে না বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।
এসময় তিনি প্রবাসীদের কল্যাণে নেয়া সরকারে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মায়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য ভাসানচরে আবাস গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু কিছু এনজিও তাদেরকে সেখানে যেতে দিতে চায় না।”
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ, তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত (আজারবাইজানে দায়িত্বপ্রাপ্ত) এম আল্লামা সিদ্দিকী।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।