জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপি: মিশ্র প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i77483-জাতীয়_সংসদের_উপনির্বাচনে_অংশ_নিচ্ছে_বিএনপি_মিশ্র_প্রতিক্রিয়া
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পরাজয়ের অভিজ্ঞতা, নির্বাচন কমিশন নিয়ে আস্থাহীনতা এবং সরকারের বৈধতা প্রশ্নে চলমান অভিযোগের   মাঝেই জাতীয় সংসদের পাঁচটি আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপি।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০ ১৫:০০ Asia/Dhaka
  • জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপি: মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পরাজয়ের অভিজ্ঞতা, নির্বাচন কমিশন নিয়ে আস্থাহীনতা এবং সরকারের বৈধতা প্রশ্নে চলমান অভিযোগের   মাঝেই জাতীয় সংসদের পাঁচটি আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপি।

এরইমধ্যে ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাট-৪ আসনে আগামী ২১ মার্চ ভোটগ্রহণের দিন ধার্য রেখে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী এ তিন সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি, মনোনয়নপত্র বাছাই ২৩ ফেব্রুয়ারি এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ ফেব্রুয়ারি। বাকি দুই আসন বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিতেও নানা তৎপরতা শুরু করেছেন বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

দলটির নেতারা বলছেন- দেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে মানুষ আজ অতিষ্ঠ। গণতন্ত্রের সব দরজা প্রায় বন্ধ। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ঠিকমতো কাজ করছে না। এ অবস্থায় যখন যেখানে যতটুকু সম্ভব গণতান্ত্রিক সুযোগ কাজে লাগানো নীতি হিসেবে সংসদীয় শূন্য আসনের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপি। কারণ, বিএনপি হচ্ছে উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তনে বিশ্বাসী।

সম্প্রতি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংসদীয় উপনির্বাচন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে আলোচনা ও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

তবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণের ব্যাপারে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন জোটের শরীকদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। কেউ কেউ বিএনপি’র একক সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে না। এ প্রসঙ্গে ডেমোক্রাটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি রেডিও তেহরানকে বলেন, বিএনপি নেতৃত্ব অবৈধ সরকারের নির্বাচনে আংশ নিয়ে মূলত তাকে বৈধতাই দিচ্ছে।

ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান

অন্যতম শরীক দল বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান রেডিও তেহরানকে বলেছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের অংশ হিসেবে সকল  নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে- এ প্রশ্নে তারা বিএনপি’র সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন।     

ওদিকে, উপনির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর বিএনপির হাইকমান্ডের গক্ষ থেকে  জাতীয় সংসদের তিনটি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভোটের প্রস্তুতি নিতে মৌখিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলের হাইকমান্ডের সবুজ সঙ্কেত পেয়ে এরইমধ্যে প্রস্তুতিমূলক কাজও শুরু করেছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা প্রার্থী হয়েছিলেন তাদেরকেই ফের উপনির্বাচনে মনোনয়ন দিতে চায় বিএনপির হাইকমান্ড। তবে দু/একটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনও হতে পারে।

গতকাল শুক্রবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ফরম সংগ্রহ করেন। ঢাকা-১০, বাগেরহাট-৪ ও গাইবান্ধা-৩ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে মোট সাতজন মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

এরা হলেন- ঢাকা-১০ আসনে ধানমন্ডি থানা বিএনপির সভাপতি শেখ রবিউল ইসলাম রবি, গাইবান্ধা-৩ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ডা: মাইনুল হাসান সাদিক, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম ও জেলা বিএনপির সদস্য ড. মিজানুর রহমান সরকার মাসুম এবং বাগেরহাট-৪ আসনে কাজী খায়রুজ্জামান শিপন, মনিরুল হক ও কাজী মনিরুজ্জামান।

মনোনয়ন ফরম জমা দেয়ার পর বিএনপির পার্লামেন্টারি মনোনয়ন বোর্ড সাক্ষাৎকার নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী ঠিক করবে।

জানা গেছে, আসন্ন উপনির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে দলের হাইকমান্ড মত দিলেও এর বিরোধিতা করছেন দলেরই অপর একটি অংশ। সম্প্রতি দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপনির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়টি আলোচনাকালে সময় কয়েকজন সদস্য সদ্যসমাপ্ত ঢাকার দুই সিটির ভোটের চিত্র তুলে ধরে বলেন, এর পরও বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে ভোটে যাওয়ার কোনো কারণ আছে বলে মনে হয় না। তারা আরো বলেছেন, দলের চেয়ারপারসনের মুক্তির আন্দোলনের অংশ হিসেবে সিটি নির্বাচনে যাওয়ার যৌক্তিকতা নেতাকর্মীদের কাছে বলা হয়েছিল কিন্তু এবার কী বলার আছে? তাই এভাবে ভোটে অংশ নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বৈধতা দেয়ার কোনো মানে হয় না।

তবে স্থায়ী কমিটির কয়েক নেতা নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়ে বলেছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকেই খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনকে বেগবান করা যাবে। গণতান্ত্রিক দল হিসেবে নির্বাচনে না যাওয়ার বিকল্প কী আছে? নির্বাচনের মধ্যে থাকলে নেতাকর্মীরাও চাঙ্গা হবে। তাদের এমন মতামতের সাথে একমত পোষণ করে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচনে না গিয়ে আমাদের কী করার আছে? স্থায়ী কমিটির সবার মতামত শুনে লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।