বিএনপির মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ: রিজভীসহ কয়েকজন আহত
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i77657-বিএনপির_মিছিলে_পুলিশের_লাঠিচার্জ_রিজভীসহ_কয়েকজন_আহত
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ডাকা বিক্ষোভ-মিছিলে লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেছে। এতে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০ ০৯:০৫ Asia/Dhaka
  • রিজভী আহত
    রিজভী আহত

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ডাকা বিক্ষোভ-মিছিলে লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেছে। এতে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

আজ (শনিবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর মিরপুর কাঁচাবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিএনপির অভিযোগ, সকাল ১০টায় মিরপুর কাঁচাবাজারে বিক্ষোভ মিছিল শুরু আগে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বক্তব্য দেন। মিছিল শুরুর পরপরই পুলিশ অতর্কিতে ব্যাপক লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে মিছিলে নেতৃত্বদানকারী দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবন, সহ-সভাপতি ওমর ফারুক কাউসার এবং ছাত্রদল ঢাকা কলেজ শাখার সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন।

মিছিলে পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, পুলিশের এই হামলা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের এক নগ্ন উদাহরণ। এ ধরণের ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ডে এটি পরিস্কার যে, বাংলাদেশ নামক স্বাধীন দেশের পুলিশ এখন দলীয় কর্মীতে পরিণত হয়েছে। দেশকে বানানো হয়েছে পুলিশী রাষ্ট্র। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করেই বর্তমান অবৈধ শাসকগোষ্ঠী গায়ের জোরে জনগণের শোষকে পরিণত হয়েছে।

তিনি পুলিশি হামলায় আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করেন এবং এ ধরণের হামলায় মনোবল না হারিয়ে আরও শক্তি নিয়ে প্রতিবাদী হওয়ার আহ্বান জানান।

এর আগে মিছিলপূর্ব এক পথসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রিজভী বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে ভয়ানক অসুস্থ। তার ডায়াবেটিস সম্পূর্ণরুপে অনিয়ন্ত্রিত। খালি পেটেই ১৫-২০ এর মধ্যে ডায়াবেটিস উঠানামা করছে। তিনি কিছুই খেতে পারছেন না, দাঁড়াতে পারছেন না। এই অবস্থায় তাকে জরুরী ভিত্তিতে মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসা করা না গেলে যেকোন সময় অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে, দেশনেত্রীর মুক্তি ও সুচিকিৎসা নিয়ে দল এবং তার পরিবার-পরিজনদের দাবিকে কোন পাত্তা দিচ্ছে না সরকার। দেশবাসী মনে করে যে, বেগম খালেদা জিয়াকে তিল তিল করে নিঃশেষ করতেই বর্তমান সরকার ও সরকারপ্রধান ওঠে-পড়ে লেগেছে। দেশবাসী আরও মনে করে যে, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে না। তার মুক্তি ব্যতিরেকে মানুষের ভোটের অধিকারসহ সকল গণতান্ত্রিক অধিকার কবরস্থ হয়েই থাকবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা হওয়ার পর তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার ‘নির্জন’ কারাগারে কারাবাসে রাখা হয়। কারাগারে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত বছরের ১ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি যেখানে চিকিৎসাধীন আছেন। বর্তমানে পাঁচটি দুর্নীতির মামলাসহ ৩১টি মামলা ঝুলছে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।