পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম অপসারণের ঘোষণা কার্যকর হোক: পবা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i77664-পুরান_ঢাকা_থেকে_রাসায়নিক_গুদাম_অপসারণের_ঘোষণা_কার্যকর_হোক_পবা
২০১০ সালে বাংলাদেশের পুরান ঢাকার নিমতলিতে কেমিক্যাল গুদামের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২৪ জন পুড়ে মারা যাবার পর সরকারের পক্ষ থেকেই ঘোষণা করা হয়েছিল যে, এসব বিপজ্জনক দাহ্য রাসায়নিকের গুদাম বা ফ্যাক্টরি ঘনবসতিপুর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে রাজধানীর বাইরে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হবে। এ বিষয়ে হাইকোর্ট কিছু নির্দেশনাও দিয়েছিল সে সময়। কিন্তু সেসব নির্দেশ পালিত হয়নি। এতদিনে মানুষ সেসব কথা ভুলেও গেছে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০ ১৪:৫৮ Asia/Dhaka
  • পবা চেয়ারম্যান আবু নাসের খান
    পবা চেয়ারম্যান আবু নাসের খান

২০১০ সালে বাংলাদেশের পুরান ঢাকার নিমতলিতে কেমিক্যাল গুদামের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২৪ জন পুড়ে মারা যাবার পর সরকারের পক্ষ থেকেই ঘোষণা করা হয়েছিল যে, এসব বিপজ্জনক দাহ্য রাসায়নিকের গুদাম বা ফ্যাক্টরি ঘনবসতিপুর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে রাজধানীর বাইরে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হবে। এ বিষয়ে হাইকোর্ট কিছু নির্দেশনাও দিয়েছিল সে সময়। কিন্তু সেসব নির্দেশ পালিত হয়নি। এতদিনে মানুষ সেসব কথা ভুলেও গেছে।

ঠিক নয় বছর পর ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টায় আরেকটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ৭১ জনের মৃত্যু হয়। কয়েক শ’ মানুষ আহত হয়। তখন ঘনবসতিপূর্ণ পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিকের গুদাম ও কারখানা স্থানান্তরের দাবিতে সোচ্চার হয়ে আরো একদফা মাঠে নেমেছিল নাগরিক সমাজ ও পরিবেশবাদী সংগঠন। খোদ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরালো আশ্বাসবাণীও শোনানো হয়েছিল।

নিমতলী অগ্নিদুর্ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি সমন্বিত সভা করে তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ুন পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিকের গুদাম ও কারখানা স্থানান্তরের জন্য ৬ মাসের সময়সীমা বেঁধে  দিয়েছিলেন। আর সাবেক সিটি মেয়র সাঈদ খোকন তিন মাসের মধ্যে পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম অপসারণের ঘোষণা দিয়েছিলেন।  

ঘটনার প্রবাহে সেই শিল্পমন্ত্রী বা সেই মেয়র তাদের পদ থেকে সরে গেলেও পুরান ঢাকার রাসায়নিক গুদাম, দোকান বা কারখানা কিছুই সরে যায়নি।

ঢাকার একটি রাসায়নিক গুদাম

সেখানকার ব্যবসায়ীরা অর্থ ও রাজনৈতিক ক্ষমতায় এতটাই প্রভাশালী যে, এ বছর সেই দুর্ঘটনার স্মরণে চুড়িহাট্টায় গিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা টিভি ক্যামেরার সামনে তাদের প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করতে পারেন নি।

এ প্রসঙ্গে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে 'পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন'র (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান রেডিও তেহরানকে বলেন, কোনোরকম অজুহাত না দেখিয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রাজধানীর জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে রাসায়ানিক গুদাম ও কারখানা অপসারণে তাদের পূর্ব ঘোষণা অবিলম্বে কার্যকর করবে- এটাই নগরবাসী দেখতে চায়।  

পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিমতলীতে অগ্নিকাণ্ডের পর সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটি যে ১৭টি কর্মপন্থা সুপারিশ করেছিল, সেগুলোর একটিও বাস্তবায়ন করা হয়নি। রাসায়নিক গুদাম অপসারণে গড়িমসি করছে সরকার। এখন রাসায়নিক অগ্নিকাণ্ডে আরেকটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে?

নিমতলীতে আগুনে ১২৪ জনের মৃত্যুর পরও পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিকের ব্যবসা মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে সরিয়ে নিতে রাসায়নিক শিল্পনগর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিল শিল্প মন্ত্রণালয়। কিন্তু এ প্রকল্প চূড়ান্ত করতেই লেগে যায় ৯ বছর। এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। এখন শ্যামপুর ও টঙ্গীতে রাসায়নিকের যে অস্থায়ী গুদাম নির্মাণের কথা, সেগুলো যথা সময়ে শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের এক বছর পরও পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিকের গুদাম সরানো হয়নি। যে দুটি জায়গায় রাসায়নিক গুদাম সরানোর কথা, তার একটিতে অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। অন্যটিতে বাস করছে তিন শতাধিক বস্তিবাসী। সেখানে রাসায়নিক গুদাম নির্মাণের কাজ কবে শুরু হবে, তা অনিশ্চিত। ফলে শিগগিরই রাসায়নিক ঝুঁকিমুক্ত হতে পারছে না পুরান ঢাকার বাসিন্দারা।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।