কথাবার্তা: করোনা নিয়ন্ত্রণে চীনের মাইলফলক, নতুন স্থানীয় কোনো সংক্রমণ নেই
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
প্রথমে বাংলাদেশে:
- দেশে আরও ৩ জন করোনায় আক্রান্ত -দৈনিক প্রথম আলো
- করোনা শনাক্তের কিট উৎপাদনের অনুমতি পেল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র-দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
- 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ - দৈনিক কালেরকণ্ঠ
- অনির্দিষ্টকালের জন্য সবধরনের ক্রিকেট বন্ধ: পাপন -’- দৈনিক যুগান্তর
- করোনা নিয়ন্ত্রণে চীনের মাইলফলক, নতুন স্থানীয় কোনো সংক্রমণ নেই- দৈনিক মানবজমিন
- করোনা ইস্যুতে সরকারের ধীরগতিই বিপদের কারণ : দুদু-দৈনিক নয়াদিগন্ত
ভারতের খবর:
- নির্ভয়া কাণ্ডে কাল ফাঁসি হচ্ছেই, দণ্ডিতদের আর্জি খারিজ আদালতে-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- করোনা রুখতে আগামিকাল সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশের কয়েকটি খবরের দিকে নজর দেব।
করোনাভাইরাস সম্পর্কিত খবরই বিশেষ গুরুত্বসহ পরিবেশিত হয়েছে বাংলাদেশ ভারতসহসহ বিশ্বমিডিয়ায়। এ সম্পর্কে দৈনিক প্রথম আলোর একটি খবরের শিরোনাম-দেশে আরও ৩ জন করোনায় আক্রান্ত। বিস্তারিত খবরে লেখা হয়েছে বাংলাদেশে নতুন করে আরও তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে মোট ১৭ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন। আজ বৃহস্পতিবার সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ। নতুন করে যে তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁরা ইতালিফেরত এক ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছিলেন বলে জানান আবুল কালাম আজাদ।
গতকাল বুধবার আইইডিসিআর জানায়, দেশে প্রথম কোনো ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মারা যাওয়া ব্যক্তি ৭০ বছর বয়সী একজন পুরুষ। তিনি ডায়াবেটিস, কিডনি, উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন। এ ছাড়া তাঁর হার্টে স্টেন্ট পরানো ছিল। আজ আবুল কালাম আজাদ বলেন, নতুন আক্রান্ত হওয়া তিনজন একই পরিবারের সদস্য। তাঁদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী। পরিবারের সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি খুব তাৎপর্যপূর্ণ
করোনা শনাক্তের কিট উৎপাদনের অনুমতি পেল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র-দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্ত করার জন্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র যে কিট তৈরি করেছে, তা উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আজ কিছুক্ষণ আগে আমরা সরকারের কাছ থেকে এ কিট তৈরির অনুমোদন পেয়েছি। এর কাঁচামাল যুক্তরাজ্য থেকে আসতে সাতদিনের মতো সময় লাগবে। কাঁচামাল এলেই আমরা উৎপাদনে যাবো।
এর আগে বুধবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এ কিট তৈরির ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে দাবি করা হয়, স্বল্পমূল্যের ওই কিট দিয়ে মাত্র ১৫ মিনিটে করোনা শনাক্ত করা সম্ভব। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ফরহাদ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ওই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন ড. বিজন কুমার শীল। ২০১৯ সালের নভেম্বরে চীনের উহানে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। এ ভাইরাসের টেস্ট কিট উৎপাদনের জন্য এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই কাজ শুরু করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।
পৃথিবীর অন্যান্য দেশ তাদের প্রয়োজনে করোনাভাইরাসের কিট তৈরি করলেও বাংলাদেশে এমন কাজ অন্য কেউ এখনো করেনি। গণস্বাস্থ্যের সুদক্ষ টিম এই কিটের ডিজাইন এবং উৎপাদন করার কাজ করছে। এর আগে ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাসের ডায়াগনোসিস কিট (SARSPOC kit) তৈরির সময় সিঙ্গাপুরে কাজ করেছেন ড. বিজন কুমার শীল। তিনিই গণস্বাস্থ্যের এই টিমের অধিনায়কত্ব করছেন।
আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে এই কিটে ভাইরাস শনাক্ত করা যাবে। এর জন্য স্পুটাম নেয়ার প্রয়োজন নেই। প্রথমে সন্দেহজনক ব্যক্তির রক্তের নমুনা নেওয়া হবে। সেই রক্ত থেকে ‘সিরাম’ আলাদা করতে হবে। কিটে সেই সিরাম রেখে তার ওপর এন্টিজেনের বিক্রিয়া ঘটানো হবে। যদি বিক্রিয়া হয় তাহলে সন্দেহজনক ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসের প্রাথমিক উপস্থিতি রয়েছে বলে প্রমাণ হবে। বিক্রিয়া না করলে তিনি আক্রান্ত নন বলে বিবেচিত হবে।
'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ - দৈনিক কালেরকণ্ঠ
করোনাভাইরাসের হুমকির মুখে আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবধরনের ক্লাস-পরীক্ষা-গ্রন্থাগারের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে আবাসিক হলগুলোতে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে হবে বলে নির্দেশনায় জানানো হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি ২৮ মার্চ থেকে সময় বাড়িয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩১ মার্চ করা হয়েছে সিন্ডিকেট সভায়।
সর্বশেষ ঢাবির হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল ২০০৭ সালের ২১ আগস্ট কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সেনাবাহিনী ও শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনার পর। প্রায় এক যুগ পর ফের হলগুলো বন্ধ করতে হলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম করোনাভাইরাসের হুমকির কারণে।
অনির্দিষ্টকালের জন্য সবধরনের ক্রিকেট বন্ধ: পাপন -’- দৈনিক যুগান্তর
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে সবধরণের ক্রিকেট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট সংস্থার সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এ ঘোষণা দেন।
বিশ্বব্যাপী মহামারী আকার ধারণ করেছে করোনা। বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে তা আছড়ে পড়েছে বাংলাদেশেও। স্বভাবতই আতঙ্কিত দেশের মানুষ। এর কালো ছায়া পড়েছে ক্রীড়াঙ্গনেও। পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকদিন আগে বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন লিগের (ডিপিএল) খেলা বন্ধ করে বিসিবি। এরই ধারাবাহিকতায় এবার সবধরণের ক্রিকেট বন্ধের ঘোষণা দিলেন বোর্ড প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান।
তিনি বলেন, আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত মাঠে ক্রিকেট ফেরার সম্ভাবনা নেই। তাই অনির্দিষ্টকালের জন্য সবধরনের ক্রিকেট বন্ধ থাকছে। করোনা রুদ্রমূর্তি ধারণ করায় স্থগিত করা হয়েছে বাংলাদেশের পাকিস্তান সফরও। শুধু তাই নয়, আগামী মে মাসে অনুষ্ঠেয় আয়ারল্যান্ড সিরিজও স্থগিত করার চিন্তা-ভাবনা করছে বিসিবি।
ওই সময় ৩ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ খেলতে দেশটিতে সফরে যাওয়ার কথা টাইগারদের। সেখানে ওডিআই সিরিজ শেষে ইংল্যান্ডের মাটিতে ৪টি টি-টোয়েন্টি খেলার কথা দুদলের। কিন্তু করোনার কারণে ইংল্যান্ডের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেটি না হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।
করোনা নিয়ন্ত্রণে চীনের মাইলফলক, নতুন স্থানীয় কোনো সংক্রমণ নেই- দৈনিক মানবজমিন
করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) মহামারী নিয়ন্ত্রণে মাইলফলক ছুঁয়েছে চীন। দেশটিতে প্রথমবারের মতো স্থানীয়ভাবে কোনো সংক্রমণ ঘটেনি। এমনকি ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল উহানেও নতুন কোনো সংক্রমণ ধরা পড়েনি। বিশ্বজুড়ে ইতালি, যুক্তরাষ্ট্রের মতো অন্যান্য দেশ যখন ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে, তখন এমন খবর জানালো চীন। গত ডিসেম্বরে চীন থেকেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। এতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃতের ঘটনাও সেখানেই ঘটেছে। আক্রান্ত হয়েছেন ৮০ হাজারের বেশি। মারা গেছেন ৩ হাজার ২৪৫ জন।দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, চীনে ভাইরাসের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে হুবেই প্রদেশে।প্রদেশটির উহান শহর থেকেই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে ৫ কোটি মানুষের এই প্রদেশটিতে কঠোর লকডাউন জারি করে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সরকার। সেখানে ভাইরাসটিতে মৃতের হার ৪.৬ শতাংশ।এদিকে, স্থানীয় পর্যায়ে কোনো সংক্রমণ না ঘটলেও, বৃহস্পতিবার অন্যান্য দেশ থেক ফিরে যাওয়া ৩৪ ব্যক্তির মধ্যে ভাইরাসটি সনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে চীন। ধীরে ধীরে শিথিল করা হচ্ছে বিধি-নিষেধ। ধীর গতিতে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে জীবন-যাপন। সাম্প্রতিক দিনগুলোয় বেইজিং ও সাংহাইয়ে খোলা হচ্ছে বন্ধ থাকা রেস্তোরা ও দোকানপাট। ফেস মাস্ক, সামাজিক দূরত্ব বৃদ্ধি, ঘন ঘন হাত ধোঁয়া, তাপমাত্রা চেক করা এখন সেখানে স্বাভাবিক কর্মকা-ে পরিণত হয়েছে।তবে অনেকে আশঙ্কা করছেন, এমতাবস্থায় দেশটিতে দ্বিতীয় দফায় ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। কেননা, ইরান, পাকিস্তান, ভারতের মতো চীনের প্রতিবেশী দেশগুলোতে ভাইরাসটির সংক্রমণ দ্রুত হারে বেড়ে চলেছে। ইরানে ইতিমধ্যে মারা গেছেন ১ হাজারের বেশি মানুষ।বিধি-নিষেধ শিথিল হচ্ছে হুবেই প্রদেশেও। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রদেশটির বাসিন্দাদের পরীক্ষা করে তাদের স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনায় তাদের বিভিন্ন রঙের পোশাক দেয়া হবে। উহানে ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেয়া হচ্ছে গণ কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রগুলো।জানুয়ারিতে হুবেই গিয়ে আটকা পড়া আমেরিকান নাগরিক স্টেফান কিরকেবি বলেন, মনে হচ্ছে, যেন শীতল যুদ্ধের অবসান ঘটলো। আমরা এখনো হুবেই ত্যাগ করতে পারবো না। কিন্তু জনগণের স্বাধীনতা ফিরে আসছে।
করোনা ইস্যুতে সরকারের ধীরগতিই বিপদের কারণ : দুদু-দৈনিক নয়াদিগন্ত
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, করোনা ভাইরাসের মোকাবেলায় সরকার যেভাবে ধীরে ধীরে আস্তে আস্তে পদক্ষেপ নিচ্ছে এটা বিপদের কারণ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস যে সরকার শুধু একাই মোকাবেলা করতে পারবে এটাও আমরা মনে করি না। এই জন্য সাধারণ জনগণের সচেতনতা বাড়ানোর যে পদক্ষেপ নেয়া দরকার তা নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম দলের উদ্যোগে করোনা ভাইরাসের প্রতিরোধে বিনামূল্যে পথচারীদের মাঝে মাস্ক বিতরণ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি জনি হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও ডিইউজের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, মুক্তার আকন্দ, সংগঠনের সহ-সভাপতি মো: কামাল হোসেন, মো: সুজন হাসান, মশিউজ্জামান, ইমরান প্রমুখ।
দুদু বলেন, যেসব দেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছে, তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেমন ইরান করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরে তাদের ৮০ হাজার আসামিকে জেল থেকে মুক্ত করে দিয়েছে। তাই সরকারকে অনুরোধ করবো বিপর্যয় মারাত্মক রূপ ধারণ করার আগেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ যাদেরকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে রাখা হয়েছে তাদেরকে মুক্তি দেন। তিনি বলেন, ধনী-গরীব মধ্যবর্তী অনেক দেশেই করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে আমার দেশেও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী একজন মৃত্যুবরণ করেছে। চারজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে এবং আরো অনেকেই চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়াও ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে অসংখ্য মুষকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। আমাদের দেশে করোনা আক্রান্ত মধ্য দিয়ে আমরা বুঝতে পারছি আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারের উদ্দেশ্যে সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাংবাদিক, স্বেচ্ছাসেবক কর্মীদের সাথে মিটিং করে দেশের মানুষকে করোনা ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচাতে যা যা করা দরকার তাই করুন। র্যাব পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কিভাবে করোনা ভাইরাসের হাত থেকে দেশের মানুষ মুক্ত থাকতে পারে তার একটা ব্যবস্থা করুন।
বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, শুধু রাজনৈতিক দল ও সরকার এই পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে পারবেন না। এর মোকাবেলা করতে হলে সাধারণ জনগণ, রাজনৈতিক দল, সরকার সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করতে হবে। যার যতটুকু সামর্থ্য আছে সেটাকে কাজে লাগাতে হবে। দায়িত্ব এড়িয়ে গিয়ে শুধু নিজে বাঁচবো এই প্রবণতা আত্মঘাতী হয়ে যাবে।
এবার ভারতের বিস্তারিত খবর তুলে ধরছি
নির্ভয়া কাণ্ডে কাল ফাঁসি হচ্ছেই, দণ্ডিতদের আর্জি খারিজ আদালতে-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
আগামিকাল শুক্রবার নির্ভয়া কাণ্ডের দণ্ডিতদের ফাঁসি হচ্ছেই। দণ্ডিতদের সব আর্জি খারিজ করে দিল দিল্লির পটিয়ালা হাউস কোর্ট। নির্ভয়া কাণ্ডের চার দণ্ডিত অক্ষয় ঠাকুর, পবন গুপ্ত, বিনয় শর্মা ও মুকেশ সিংহের আবেদন ছিল, তাঁদের এখনও আইনি সংস্থান রয়েছে। তাই ফাঁসি পিছিয়ে দেওয়া হোক। কিন্তু আদালত সেই আর্জি খারিজ করে দিয়েছে।
আদালতে সরকারি আইনজীবী বলেন, ‘‘কোনও আইনি বিকল্প আর বাকি নেই। পবন ও অক্ষয়ের দ্বিতীয় প্রাণভিক্ষার আবেদনও খারিজ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।’’
রাজ্যসভা জুড়ে বিরোধীদের ‘শেম, শেম’, তার মধ্যেই শপথ রঞ্জন গগৈয়ের-দৈনিক আজকাল
বিতর্ক এবং বিরোধীদের প্রবল বিরোধিতার মধ্যে বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার সাংসদ পদে শপথ নিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। এদিন রঞ্জন গগৈকে সাংসদ করার প্রতিবাদে রাজ্যসভা থেকে ওয়াকআউট করেন কংগ্রেস ও বহুজন সমাজ পার্টির সাংসদরা। সমালোচনায় সরব হয়ে ওঠেন উচ্চকক্ষের ডিএমকে, এআইএডিএমকে ও বাম সদস্যরা। গত সোমবার রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ গগৈকে রাজ্যসভায় মনোনীত করেন। অবসরের আগে অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে রাম মন্দির গড়ার নির্দেশ সম্বলিত ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিলেন বিচারপতি গগৈ।তিনি শপথ নেওয়ার সময় কংগ্রেস সহ বাকি বিরোধী সাংসদরা ‘লজ্জা’ বলতে বলতে রাজ্যসভা থেকে ওয়াকআউট করেন। আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ আবার গগৈয়ের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেন, ‘রাজ্যসভার একটা ঐতিহ্য রয়েছে। বিভিন্ন পেশার মানুষরা অতীতে সাংসদ হয়েছেন। গগৈ সাংসদ হিসেবে নিজের সেরাটাই দেবেন। বিরোধীদের এভাবে ওয়াকআউট করাটা ঠিক হয়নি।’ রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু জানান, ‘আপনাদের ভিন্ন মত থাকতেই পারে। তা সংসদের বাইরে প্রকাশ করুন। তাঁর মনোনয়ন করছেন খোদ রাষ্ট্রপতি। এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো সংসদের কর্তব্য।’ শপথের সময় গগৈয়ের সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী, কন্যা ও জামাই। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নেন গগৈ। তারপরই তাঁর রাজনীতিতে আসা নিয়ে জল্পনা ছিল। তাঁর সংসদে মনোনীত হওয়া নিয়ে জোর বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। গগৈয়ের মনোনয়ন নিয়ে প্রশ্ন ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরই এককালের সতীর্থ মদন লোকুর। বিরোধীদের অভিযোগ, বিচারপতি থাকাকালীন সরকারকে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন গগৈ। আর এখন তারই পুরস্কার পাচ্ছেন। মদন লোকুর সরাসরি সেকথা না বললেও, তাঁর ইঙ্গিতও খানিকটা তেমনই।এদিকে, বিচারপতি গগৈ সাফ জানিয়েছেন,রাজ্যসভায় তাঁকে মনোনয়ন দেওয়ার সরকারের সিদ্ধান্ত তিনি স্বীকার করছেন৷ তিনি আরও জানিয়েছিলেন যে শপথগ্রহণের পর সমস্ত অভিযোগের জবাব দেবেন তিনি। রাজ্যসভায় গগৈয়ের মনোনয়নকে নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে কংগ্রেস। দলের নেতা তথা আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি জানান, ‘সংবিধানে বিচার ব্যবস্থা এবং আইন ব্যবস্থার স্বতন্ত্র ক্ষমতা রয়েছে। বিচার ব্যবস্থার উপর বিশ্বাস এবং আস্থা জড়িয়ে। কিন্তু দুই স্তম্ভ একই বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে।’ গগৈয়ের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি কুরিয়ান জোসেফও। ২০১৮ সালে জানুয়ারিতে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের বিরুদ্ধে নজিরবিহীনভাবে ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করেছিলেন বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি কুরিয়ান জোসেফরা।
করোনা রুখতে আগামিকাল সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
করোনা সংক্রমণের জেরে আতঙ্কে দেশবাসী। বেশিরভাগ শহরে ‘লক ডাউন’-এর প্রস্তুতি তুঙ্গে। এমতাবস্থায় দেশের প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আগামিকাল বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার বিকেল চারটের সময় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। আজ রাত আটটার সময় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
করোনা আতঙ্কে জর্জরিত বিশ্ব। ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হল ১৭১, প্রাণ হারিয়েছেন ৩ জন। এরই মধ্যে কীভাবে করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হবে তা নিয়ে সার্ক-এর (SAARC) অন্তর্ভুক্ত দেশগুলির সঙ্গে বৈঠক সারেন প্রধানমন্ত্রী। সেই বৈঠকে নেতৃত্বও দেন তিনি। তবে দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আগে সার্কের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলির সঙ্গে মোদি বৈঠক করায় সমালোচনা হয় রাজনৈতিক মহলে। সেই সমালোচনা শুনে অবশ্য পিছপা হননি প্রধানমন্ত্রী। আগামিকালই প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানান তিনি। বুধবার সন্ধ্যায় একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। তারপরেই প্রধানমন্ত্রীর অফিসের তরফে টুইট করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারি আমলা ও অফিসার পদমর্যাদার কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নির্দেশিকা পাঠিয়ে বলা হল, ৫০ শতাংশ গ্রুপ বি ও গ্রুপ সি কর্মীদের অফিসে যেতে হবে। সংশ্লিষ্ট হেড ক্লার্ক গ্রুপ বি ও গ্রুপ সি কর্মীকে সূচি ঠিক করে দেবেন। এদিনই সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারি দফতরে এই নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারতের মধ্যে সবথেকে বেশি করোনা আক্রান্তের সংখ্যা মহারাষ্ট্রে ও কর্নাটকে। ফলে সচেতনতার প্রচার করতে ও দেশবাসীকে সজাগ রাখতে প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনার পরিকল্পনা করেন সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কাজের তাই ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সার্কের অন্তর্ভুক্ত দেশ সহ বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’-এর প্রতিনিধি হেঙ্ক বেকেডাম।#
পার্সটুডে/এমবিএ/১৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।