উত্তরায় সেনাবাহিনীর কোয়ারেন্টিন সেন্টার খোলার প্রতিবাদে স্থানীয়দের বিক্ষোভ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i78443-উত্তরায়_সেনাবাহিনীর_কোয়ারেন্টিন_সেন্টার_খোলার_প্রতিবাদে_স্থানীয়দের_বিক্ষোভ
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে আশকোনা হজক্যাম্প ও উত্তরা দিয়াবাড়ির রাজউকের ফ্ল্যাট প্রকল্প এলাকায় কোয়ারেন্টিন স্থাপনের দায়িত্ব দেয়া হয় সেনাবাহিনীকে। বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং শেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যাদের কোয়ারেন্টিনে থাকা উচিত বলে মনে করবে, তাদের এখানে রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
মার্চ ২০, ২০২০ ১৪:৫৮ Asia/Dhaka
  • আবাসিক এলাকায় কোয়ারেন্টিন সেন্টার খোলার প্রতিবাদে অবস্থান
    আবাসিক এলাকায় কোয়ারেন্টিন সেন্টার খোলার প্রতিবাদে অবস্থান

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে আশকোনা হজক্যাম্প ও উত্তরা দিয়াবাড়ির রাজউকের ফ্ল্যাট প্রকল্প এলাকায় কোয়ারেন্টিন স্থাপনের দায়িত্ব দেয়া হয় সেনাবাহিনীকে। বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং শেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যাদের কোয়ারেন্টিনে থাকা উচিত বলে মনে করবে, তাদের এখানে রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

সে অনুযায়ী আজ (শুক্রবার) উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর দিয়াবাড়ীতে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের (আবাসিক) মধ্যে কোয়ারেন্টিন স্থাপনের কাজ শুরু করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে একটি দল।

তবে, আজ স্থানীয় বাসিন্দারা আবাসিক এলাকায় কোয়ারেন্টিন সেন্টার খোলার প্রতিবাদে সেখানে অবস্থান নিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, আবাসিক এলাকায় কোয়ারেন্টিন সেন্টার করার সিদ্ধান্ত ঠিক হয়নি। এখানে প্রায় ৩ হাজার মানুষ বসবাস বরছেন। সবাই স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবেন। 

বৃহস্পতিবার রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ও বিস্তৃতির সম্ভাব্যতা ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দুটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট করোনা সংক্রান্ত এক রিটের শুনানি শেষে বিদেশফেরত ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। 

বিদেশফেরত ব্যক্তিদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকা বাধ্যতামূলক করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনসচিবকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। অন্যদিকে কোয়ারেন্টিনের জন্য প্রত্যাবর্তনকারীদের পাহারা দিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত হাসপাতাল বা শেল্টার হাউসে পৌঁছে দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য রাখতে স্বরাষ্ট্রসচিবের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি চিহ্নিত করতে বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও ভূমি সীমান্তসহ দেশের প্রতিটি প্রবেশমুখে তদারক দল রাখার নির্দেশনা চেয়ে ১৫ মার্চ রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ। বৃহস্পতিবার আদালতে রিটের পক্ষে ইউনুছ আলী আকন্দ নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ এম আর চৌধুরী।

হাসপাতাল বা শেলটার হাউসে পৌঁছার পর প্রত্যাবর্তনকারীকে দ্রুত প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসায় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্যসচিবকেও নির্দেশ দিয়ৈছে আদালত । 

অপর নির্দেশনায় কোয়ারেন্টিনের সময় প্রত্যাবর্তনকারীদের চিকিৎসা ও কল্যাণের বিষয়টি নিজ নিজ জেলা প্রশাসক যেন তদারকি করেন, সে জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোয়ারেন্টিনে থাকা বিদেশফেরত ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাঁর চিকিৎসা এবং আক্রান্ত না হলে ছাড়পত্রবিষয়ক বৃত্তান্ত হলফনামা আকারে ১৬ এপ্রিলের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে স্বাস্থ্যসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।