করোনাভাইরাসের কারণে দেশে খাদ্য সংকট হবে না: শেখ হাসিনা
-
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, দেশে খাদ্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ আছে, পাশাপাশি কমপক্ষে এক বছর বিদেশ থেকে আমদানির সামর্থ্যও রয়েছে। তাই করোনাভাইরাসের কারণে খাদ্য সংকট হবে না। এ অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে বাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি না করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আজ (শনিবার) সকালে ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্রে জাতীয় সংসদের ঢাকা-১০ আসনের উপ-নির্বাচনে নিজের ভোট প্রদান শেষে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখনো ১৭ লক্ষ মেট্রিক টন খাদ্য শুধু সরকারি গুদামেই আছে। সাড়ে ৩ লক্ষ মেট্রিক টন গম আমাদের মজুদ আছে। এছাড়াও বেসরকারি আমাদের যে সমস্ত রাইস মিলগুলো আছে, তাদের কাছেও প্রচুর খাদ্য মজুদ আছে। তাছাড়া আমাদের ক্ষেতের ফসল আছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের যে রিজার্ভ আছে, তাতে অন্তত এক বছরের খাবার ক্রয় করার মতো সামর্থ্য আমাদের আছে। কাজেই সেদিক থেকেও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, খাদ্য সামগ্রীতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।’
সরকার বাজার পর্যবেক্ষণ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আতঙ্কে বাজার বা মজুদ পণ্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করা কারও জন্য বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

করোনাভাইরাসের ভীতির মধ্যেই ৩ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন
প্রসঙ্গত, দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মাঝেই শনিবার তিন সংসদীয় আসন ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাট-৪-এ উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। এই তিন আসনে ভোটার রয়েছেন ১০ লাখের বেশি।
সকাল ৯টায় শুরু হওয়া ভোট একটানা চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে। ঢাকা-১০ আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এবং গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাট-৪ আসনে প্রচলিত ব্যালট পেপার ব্যবহার করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামে নির্বাচন স্থগিত
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। একইসঙ্গে ওইদিন অনুষ্ঠেয় বগুড়া-১, যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার পরিষদের আরও কয়েকটি ভোট স্থগিত করা হয়েছে।
শনিবার দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করেছিল ইসি। এ সিটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের ৫ আগস্ট। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
অন্যদিকে, গত ১৮ জানয়ারি বগুড়া-১ আসন আর যশোর-৬ আসনটি শূন্য হয়েছে ২১ জানুয়ারি। সংবিধান অনুযায়ী, আসন শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এক্ষেত্রে বগুড়া-১ আসনে ১৬ এপ্রিল আর যশোহর-৬ আসনে ১৯ এপ্রিলের মধ্যে ভোটগ্রহণ করতে হবে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।