বাংলাদেশে আরও ১ করোনা রোগী শনাক্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী বললেন, ‘দেশ ভালো আছে’
-
করোনাভাইরাস
বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে একজন করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ জনে দাঁড়ালো। আজ (সোমবার) দুপুরে মহাখালিতে এক অনলাইন প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।
তিনি জানান, "গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৪,৭২৪টি কল এসেছে হটলাইনে। এর মধ্যে ৩,৯২৭টি ছিল করোনাভাইরাস সংক্রান্ত। গত একদিনে মোট ১৫৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনের করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ জন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ নিয়ে মোট ১৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন।”
আইইডিসিআর-এর পরিচালক বলেন, "একটি কথা আমি বিশেষভাবে বলতে চাই। সেটি হলো যে চারজন গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন তার মধ্যে একজনের বয়স ৮০ বছর। তিনি বৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও করোনাভাইরাসের কবল থেকে মুক্ত হতে পেরেছেন। সুস্থ হওয়া আরও ২ জনের বয়স ষাটের উপরে। এদের মধ্যে ২ জন বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন।"
সুস্থ হওয়া ৪ জনের মধ্যে দু'জন স্বাস্থ্যকর্মী আছেন বলেও জানান ড. সেব্রিনা। তিনি বলেন, এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আইসোলেশেন নেওয়া হয়েছে ৬ জনকে। দেশব্যাপী সর্বমোট আইসোলেশনে আছেন ২৮৩ জন।
অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা অনলাইন সংবাদ সম্মেলনের পরে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের দেশ এখন ভালো আছে, নিরাপদে আছে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন। তিনি বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়েছিল বলে আমরা ভালোভাবে মোকাবিলা করছি। ঘাবড়ানোর কোনো কারণ নেই। আমাদের ডাক্তার, নার্স সাবই মিলে কাজ করে যাচ্ছে। কারো কোনো সমস্যা হলে আমাদের কল সেন্টারে যোগাযোগ করবেন।’
জাহিদ মালেক আরও বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) আমাদের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছে। ইউএন (জাতিসংঘ) মহাসচিবও প্রশংসা করেছেন। তারা বলেছেন, কোয়ারেনটাইন, আইসোলেশন ও সেফ ডিসটেন্স মেইনটেইন করা সবচেয়ে বড় উপায়। কেউ যেন চিকিৎসার বাইরে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য ১১টি ল্যাব কাজ করছে। আরও ১৭টি ল্যাব স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যদিও কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে পরীক্ষা করার হার খুব কম। সেখানে তেমন কেউ এগিয়ে আসছে না। এছাড়াও, পিপিই দেওয়া হয়ছে। আরও দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যথাযথভাবে যেন ব্যবহার হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কিছু তথ্য আসে, চেম্বার বন্ধ রয়েছে। চিকিৎসকরা কম রয়েছেন। আহ্বান জানাব, সবাই যার যার কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে কাজ করবেন।
গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, দেশবাসী আতঙ্কিত হয়, এমন তথ্য দেশবাসীকে দেবেন না গণমাধ্যমকর্মীরা, এ আহ্বান। কিট, পিপিই- কোনোকিছুরই অভাব নেই। এসব তথ্য দিলে মানুষ আশ্বস্ত হবে।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৩০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।