করোনা মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের ডাক বিএনপির
-
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট মহাদুর্যোগ মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছে বিএনপি। আজ (শনিবার) করোনা সংকট মোকাবিলায় অর্থনৈতিক প্যাকেজ প্রস্তাবনা ঘোষণার জন্য দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘জাতীয় ও বৈশ্বিক মহাদুর্যোগ মোকাবেলায় যেকোনো গঠনমূলক ও কল্যাণমুখী উদ্যোগে শামিল হতে বিএনপি প্রস্তুত রয়েছে। এ দুর্যোগ পরিস্থিতিতে দম্ভ, অহংকার ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার করে সরকারকেই এই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা এই মহাদুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হব।’
করোনার কারণে অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে উত্তরণের জন্য স্বল্পমেয়াদী, মধ্যমেয়াদী এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়নের য়ে জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।
বিএনপি প্রস্তাব করেছে, জিডিপির ৩% অর্থ সমন্বয়ে ৮৭ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল ঘোষণা করতে হবে। শাটডাউন প্রত্যাহার হলে নতুন করে একটি সংশোধিত আর্থিক প্যাকেজ প্রদান করতে হবে যেন সকল সেক্টরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সাধারণ-ছুটি-পূর্ব স্তরে ফিরে আসতে সক্ষম হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৩ শতাংশ সুদে বিভিন্ন ব্যাংককে ঋণ এবং সেসব ব্যাংক থেকে ৫ শতাংশের কম সুদে শিল্প ও ব্যবসায় ঋণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিএনপি।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, আর্থিক ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান বিশেষ সুবিধা দেওয়ার দাবি তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে রিফাইনান্স করতে হবে। ১০ হাজার কোটি টাকার ফান্ড তৈরি করে ৩ শতাংশ হারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিতে হবে, যেটা ৫ শতাংশ হারে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পেতে পারে। এসএমইগুলোকে দুর্যোগ মোকাবেলায় পৃথক ক্রেডিট লাইন তৈরি করে ক্রেডিট ফ্লো নিশ্চিত করতে হবে।
দলগতভাবে বিএনপির পক্ষ থেকে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল জানান, স্থানীয় পর্যায়ে করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ এবং শাটডাউনের কারণে কর্মহীন দুঃস্থ জনগণের মুখে দু'মুঠো খাবার তুলে দিতে দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণ ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। মহামারীর ভয়াবহতা অনুভব করে বিএনপিই প্রথম জনগণের মধ্যে গণসচেতনতামূলক সচিত্র লিফলেট ও মাস্ক বিতরণ শুরু করে।
দিনমজুর শ্রেণির কষ্ট লাঘবের জন্য বিএনপি সারাদেশে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি পালন করছে। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) হেল্পলাইনের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা ও সহযোগিতা প্রদান শুরু করেছে। প্রতিদিন এ কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ক্ষুদ্র পরিসরে স্থানীয় নেতাকর্মীরা এলাকাভিত্তিক দরিদ্র জনগণের ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী ও সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছেন। যতদিন প্রয়োজন সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে- জানান বিএনপি মহাসচিব।
বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত কামনা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেসব চিকিৎসক নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনায় আক্রান্তদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এবং যেসব সংবাদকর্মী মহামারীর খবর, বিভিন্ন তথ্য, চিত্র তুলে ধরছেন- জাতির পক্ষ থেকে আমরা তাদের অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশপ্রেমিক সামরিক বাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন তাদের প্রতিও আমাদের কৃতজ্ঞতা রইল।’
বিশ্বব্যাপী যে সকল বিজ্ঞানী, রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ও গবেষকবৃন্দ মানব সভ্যতা বাঁচিয়ে রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিএনপির মহাসচিব।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৪