করোনার কারণে গণপরিবহন বন্ধ, শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ায়নি মালিকপক্ষ
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i78834-করোনার_কারণে_গণপরিবহন_বন্ধ_শ্রমিকদের_পাশে_দাঁড়ায়নি_মালিকপক্ষ
বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনার প্রকোপে অর্থনৈতিক বিপযর্য়ের শিকার বাংলাদেশের পরিবহন খাত। করোনার প্রকাপ বৃদ্ধির কারণে গণপরিবহন বন্ধ। ফলে নজিরবিহীন সংকটে পড়েছেন পরিবহন সংশ্লিষ্ট লক্ষ লক্ষ পরিবার।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
এপ্রিল ০৫, ২০২০ ১২:৫৭ Asia/Dhaka
  • করোনার কারণে গণপরিবহন বন্ধ, শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ায়নি মালিকপক্ষ

বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনার প্রকোপে অর্থনৈতিক বিপযর্য়ের শিকার বাংলাদেশের পরিবহন খাত। করোনার প্রকাপ বৃদ্ধির কারণে গণপরিবহন বন্ধ। ফলে নজিরবিহীন সংকটে পড়েছেন পরিবহন সংশ্লিষ্ট লক্ষ লক্ষ পরিবার।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার গত ২৪ মার্চ থেকে গণপরিবহনে লকডাউন ঘোষণা দেয়। এরপর থেকেই সারা দেশই কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শ্রমিক। পরিবহন মালিকদেরও বাড়ছে লোকসানের বোঝা।

ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী যাত্রীপরিবহনের চালক আবুল বাসার রেডিও তেহরানকে জানালেন- গাড়ির চাকা বন্ধ তাই সংসারের চাকাও বন্ধ। কারণ পরিবহনে কোনো মাসিক বেতন নেই। যে দিন গাড়ী চালাবে সেদিন বেতন পাবে- দৈনিক ভিত্তিতে। এ দুর্দিনে তাদের মালিকরা পাশে দাঁড়ায়নি। সড়ক পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো সাহায্য জোটেনি।

এ প্রসঙ্গে ঝালকাঠি জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাদুর চৌধুরী জানান, গরীব শ্রমিকদের দুর্দশার কথা। তিনিও জানালেন- মালিকরা কোনপ্রকার সহায়তা করে নি। তবে আশ্বাস দিয়েছেন। আর জেলা প্রশাসনের নিকটে শ্রমিকদের একটি তালিকা দিয়ে সাহায্য চওয়া হয়েছে। সেখান থেকেও এখন পর্যন্ত আশ্বাসই পাওয়া গেছে। তবে তিনি আশংকা করছেন, সংকট আরো প্রলম্বিত হলে পরিবহন শ্রমিকদের দুর্দশা আরো বাড়বে।  

এ অবস্থায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সরকারের কাছে প্রণোদনা দাবি করেছে। তারা সেনাবাহিনীর মাধ্যমে জরুরি রেশন সহযোগিতারও দাবি করেছেন। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী জানান, তাদের সংগঠনের হিসেবে পরিবহন খাতে সারাদেশে ৫০ লাখ শ্রমিক রয়েছেন। এর মধ্যে কেবল বাস শ্রমিক রয়েছেন ৭ লাখ। যারা দিন আনে দিন খায়। এদের জন্য রেশনের দাবি করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় আবেদন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘পরিবহন শ্রমিক শুধু বাসচালক বা হেলপার নয়। মিনিবাস ট্রাক কাভার্ড ভ্যান অটোরিকশা ট্যাংক লরিসহ ১৯ ধরনের পরিবহন রয়েছে যা দেশের সড়ক পথে চলে। এদের সবাই এখন বেকার।’

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ স্বীকার করেছেন, পরিবহন লকডাউন থাকায় সরাসরি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন শ্রমিকরা। আর মালিকরাও পরিবহন বন্ধ রেখে প্রতিদিন লোকসান গুণছেন। সংগঠন থেকে পরিবহন শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মালিকদের প্রতি আহ্বান করা হয়েছে।

খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ব্যক্তিগতভাবে তার মালিকানাধীন এনা পরিবহনের শ্রমিকদের মধ্যে জরুরি আর্থিক অনুদান দিয়ে যাচ্ছেন। তবে বড় বড় বাস কোম্পানির অন্য পরিবহন মালিকরা তাদের শ্রমিকদের পাশে এখনও দাঁড়াননি বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক শুভঙ্কর ঘোষ জানান, শ্রমিকরা যেমন বেকার পড়েছে ঠিক তেমনি মালিকরাও বিপাকে। করোনার কারণে যানবাহন না চলায় ব্যাংক ঋণে কেনা গাড়ির কিস্তি কিভাবে শোধ করবেন- তা  নিয়েও চিন্তায় পড়েছেন। এই অবস্থায় সরকার পরিবহন মালিক এবং শ্রমিকদের পাশে না থাকলে দেশের পরিবহন খাতে তথা যোগাযোগ ব্যবস্থায় দারুণ বিরূপ প্রভাব পড়বে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।