করোনাভাইরাস মোকাবিলা
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ রাখার আহ্বান ইউজিসির
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে শিক্ষার্থী ভর্তি, পরীক্ষা গ্রহণ ও খাতা মূল্যায়ন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)
আজ (সোমবার) এক বিজ্ঞপ্তিতে ইউজিসি জানিয়েছে, কিছু কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউজিসির পরামর্শ অমান্য করে অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এমনকি দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে কিছু কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সামার সেমিস্টারে ভর্তি কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ ধরনের কার্যক্রম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
‘সেমিস্টার ফাইনাল ছাড়া গ্রেড প্রদান, মূল্যায়ন এবং কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই স্নাতক প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যা বিধিসম্মত নয়। এ সকল বিশ্ববিদ্যালয়কে অনতিবিলম্বে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে তা সাময়িকভাবে পূরণের লক্ষ্যে সম্মানিত শিক্ষকগণকে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করতে বলেছে ইউজিসি।
অনলাইনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল
করোনাভাইরাসের কারণে আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করায় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ। এর আগে ৭ থেকে ৯ মে এর মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা বোর্ডগুলো।
এরকম অবস্থার মাঝে যশোর শিক্ষা বোর্ড আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার ফল মোবাইল ফোনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল পরীক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বরে সরাসরি পাঠানো হবে। এ জন্য সব পরীক্ষার্থীর অভিভাবকদের মোবাইল নম্বর জরুরি প্রয়োজন। আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে যশোর বোর্ডের আওতাভুক্ত নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর অভিভাবকের মোবাইল নম্বর পাঠাতে বলা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে একটি লিংক দেয়া হয়েছে যেখানে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মোবাইল নম্বর সংযুক্ত করতে বলা হয়েছে।
টিভিতে ক্লাস
মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে টেলিভিশনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম। দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির মোট পাঁচটি ক্লাস প্রচারিত হবে।
উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষায় ও এর বিস্তার ঠেকাতে গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে টেলিভিশনের মাধ্যমে ক্লাসের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামীকাল ৭ এপ্রিল দুপুর ২টা থেকে সংসদ টিভিতে প্রাথমিক স্তরের ক্লাস সম্প্রচার শুরু হবে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, সামাজিক বিজ্ঞান, গণিত ও সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের ক্লাস সম্প্রচার করা হবে। প্রতিটি ক্লাস ২০ মিনিট সময় প্রচার করা হবে। এ সব ক্লাস শিক্ষকদের মাধ্যমে বিভিন্ন স্টুডিওতে ভিডিও আকারে ধারণ করে প্রচার করা হবে। ৭ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ক্লাস রুটিন প্রকাশ করা হয়েছে। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে সকালে প্রাথমিকের ক্লাসগুলো প্রচার করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, টিভিতে পাঠদানকালে শিক্ষক সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর বাড়ির কাজ দেবেন। শিক্ষার্থীদের প্রত্যেক বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা খাতায় বাড়ির কাজ করতে হবে। স্কুল খুললে স্ব স্ব স্কুলের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাছে জমা দিতে হবে।
অন্যদিকে, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বন্ধের মধ্যে শিক্ষকদের দিয়ে প্রজেক্টরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিলেবাস অনুসারে ক্লাস রেকর্ড করা হয়। গত রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে এসব ক্লাস সংসদ টেলিভিশনে সম্প্রচার শুরু করা হয়েছে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৮টি বিষয়ের শ্রেণি ক্লাস প্রচার করা হবে।
প্রতিটি ক্লাস ২০ মিনিট করে প্রচার হবে, তার সঙ্গে প্রতিদিনের শিক্ষার্থীদের জন্য হোমওয়ার্ক দেয়া হবে। পরদিন তা টেলিভিশনের স্ক্রিনে সঠিক উত্তরগুলো দেখানো হবে। দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রচার হওয়া ক্লাসগুলো পুনঃপ্রচার করা হবে।
পাশাপাশি টেলিভিশনে প্রচার হওয়া ক্লাসগুলো কিশোর বাতায়নে দেয়া হবে। শিক্ষার্থীরা যেকোনো সময় তা দেখতে পারবে। সেখানে নানা ধরনের কুইজের মাধ্যমেও শিক্ষার্থীরা খেলার ছলে শিখতে পারবে বলে জানা গেছে
বেতন ভাতা
করোনাভাইরাসের কারণে বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা আটকে গেছে। ১৭ মার্চ থেকে প্রতিষ্ঠান বন্ধের পর সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নির্ধারিত সময়ে বেতন পেলেও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সরকারি বেতনের অংশ (এমপিও) ছাড়করণ হয়নি। এ কারণে দুরবস্থায় পড়েছেন সারাদেশের প্রায় সাড়ে চার লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীর।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।