করোনার চিকিৎসা না দিলে চাকরিচ্যুতির হুমকি প্রধানমন্ত্রীর, চিকিৎসক নেতার প্রতিক্রিয়া
-
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
আজ বিশ্বস্বাস্থ্য দিবসে গোটা বিশ্ব কভিড-১৯ মহামারীতে পর্যুদস্ত। এরইমাঝে বাংলাদেশে আজকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী এ রোগে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ১৬৪ জন। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যু ও সংক্রমণের সংখ্যা।
এ অবস্থায় চলতি এপ্রিল মাসকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। চলতি মাসে দেশে আরও ব্যাপক আকারে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির আশংকা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ (মঙ্গলবার) সকালে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের ১৫ জেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে এ ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে বলেন, সকলের ঐক্যবদ্ধ চেষ্টা ও সতর্কতার মাধ্যমে আমরা নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হবো।
এসময় তিনি ঘোষণা করেন, করোনাবিরোধী সংগ্রামে যে সকল চিকিৎসক, নার্স, সেবাকর্মী, সরকারী কর্মকর্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যগণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন তাদের বিশেষ প্রণোদনা দেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনকালে কেউ আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসার সব ব্যবস্থা সরকার নেবে। পদমর্যাদা অনুযায়ী ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্যবীমা করা হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে এই বীমা পাঁচ গুণ বাড়ানো হবে। যারা করোনার সময় কাজ করছেন, জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন, এই প্রণোদনা তাদের জন্য। আর যারা পালিয়ে আছেন, তারা এই প্রণোদনা পাবেন না।
তবে, এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে যেসব চিকিৎসক নিজেদের নিরাপত্তার ঝুঁকির অজুহাতে চিকিৎসাসেবা দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন বা গাফেলতি করেছেন তাদেরকে সরকারি চাকরি থেকে বের করে দেবারও হুমকি দিয়েছেন সরকারপ্রধান।

এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ডাক্তার ফায়েজুল হাকিম রেডিও তেহরানকে বলেন, করোনাবিরোধী সংগ্রামে সামনের সারির যোদ্ধা চিকিৎসক, নার্স ও সেবাকর্মীদের কাজের স্বীকৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রশংসনীয় কাজ করেছেন। তবে সরকার যথাসময় যথাযথ পদক্ষেপ, সতর্কতা বা প্রস্তুতি নিতে ব্যর্থ হবার কারণে পরিস্থিতি এতোটা খারাপ হয়ে উঠেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ডাক্তার ফায়েজুল হাকিম মনে করেন, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রয়োজন সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ও বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করে জনগণকে আস্থায় নিয়ে আপদকালীন কর্মকৌশল গ্রহণ।
ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা পরিস্থিতির কারণে যারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এবং আর্থিক সংকটে পড়েছেন তাদের তালিকা তৈরি করে সহায়তা পৌঁছে দেবার জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা প্রদান করেন। এমন দুর্যোগে কেউ দুর্নীতি করলে একটুও ছাড় দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।
মানুষের দুঃসময়ে সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দেবার জন্য তিনি অবস্থাসম্পন্ন প্রতিবেশীদের প্রতিও আহ্বান জানান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী কোভিড- ১৯ অর্থাৎ করোনার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য যে যে নির্দেশনাগুলো দেওয়া হচ্ছে সেগুলো যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। #
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৭