বাংলাদেশে ত্রাণের জন্য কর্মহীন ও ক্ষুধার্ত মানুষেরা অস্থির: খাদ্য ‘লুট’
-
জামালপুরে খাদ্যসামগ্রী লুট
বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন ও ত্রাণ না পাওয়া ক্ষুধার্ত মানুষেরা খাবার লুট করতে শুরু করেছে। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের হিসাব অনুযায়ী- করোনাভাইরাসের কারণে সারা দেশে নিম্ন আয়ের ১৪ শতাংশ মানুষের ঘরে কোনো খাবারই নেই। এ অবস্থায় অস্থির হয়ে উঠেছে ক্ষুধার্ত মানুষ।
গতকাল (রোববার) দুপুরে জামালপুর পৌরসভার মুকুন্দবাড়ি এলাকায় কয়েক শ’ ক্ষুধার্ত মানুষ রাস্তা বন্ধ করে ত্রাণবাহী একটি ট্রাক থামিয়ে খাদ্য সামগ্রী লুট করে নেয়। এসময় অনেকটা অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন পুলিশ সদস্যরা। ট্রাকটি কর্মহীন মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত চাল, ডাল, আলুসহ ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর জামাল পাশার কার্যালয়ে যাচ্ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, করোনার প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়েছে শতশত মানুষ। খাবারের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। এখন পর্যন্ত পৌঁছেনি ত্রাণ সামগ্রী। তাই বাধ্য হয়েই ত্রাণের মালামাল ছিনিয়ে নিয়েছেন তারা।

কুষ্টিয়া
এর আগে গত শনিবার কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নে ৪৫০টি ঘরবন্দী দুস্থ পরিবারের জন্য বরাদ্ধকৃত চাল চেয়ারম্যানের পছন্দমতো স্বচ্ছল ও দলীয় লোকদের মাঝে বিতরণ করায় ত্রাণ বঞ্চিত প্রকৃত দুস্থরা ২৬ বস্তা চাল লুট করে নেয়। ঘটনার পর পুলিশ চাল উদ্ধারের জন্য গ্রামে অভিযান চালাতে গেলে গ্রামবাসী তাদেরও ঘেরাও করে রাখে। এ সময় পুলিশ অসহায় বিধবা ও দুস্থদের একটি তালিকা তৈরি করে এবং তাদের চাল দেবার আশ্বাস দিয়ে থানায় ফিরে আসে।
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান স্বীকার করেছেন, প্রকৃত দুস্থ যারা তারাই ত্রাণের চাল লুট করেছে। সেখানে স্বচ্ছল লোকদের ত্রাণ দেয়া হয়েছে। কিন্তু খেটে খাওয়া দুস্থ লোকদের নাম তালিকায় ছিল না।
করোনার কারণে কর্মহীন, উপার্জনহীন ও খাদ্যহীন মানুষদের বাঁচাতে সরকারের আশু করণীয় প্রসঙ্গে বাংলাদেশের একশটি বেসরকারি সংগঠনের নেটওয়ার্ক ‘খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ’-এর সমন্বয়কারী কানিজ ফাতিমা রেডিও তেহরানকে বলেন, এখুনি অতিদরিদ্র আশি লক্ষ মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছে দিতে হবে। আগামী তিনমাস পর্যন্ত এ সহায়তা চালু রাখতে হবে।
তাছাড়া দরিদ্রদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো এবং কমমূল্যের চাল বা ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয় কর্মসূচিতে অধিক বরাদ্ধেরও দাবি জানান ‘খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ’- এর সমন্বয়কারী কানিজ ফাতিমা।
এদিকে, দরিদ্র মানুষদের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বেসরকারি সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিকে (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছন, খাদ্য এবং তার বণ্টন ব্যবস্থা সরকারের আয়ত্বে রয়েছে বলেই সরকারকেই এ কাজটা করতে হবে। সরকার চাইলে বেসরকারি সংস্থাগুলোও কাজে সংযুক্ত হতে পারে।
ত্রাণ বিতরণ
এ দিকে, কর্মহীন দরিদ্র মানুষদের জন্য সরকার ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও সংগঠন খাদ্য সাহায্য নিয়ে অসহায় মানুষদের পাশে দাড়িয়েছে।
কুমিল্লার লাকসামে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় ও নিম্ন আয়ের তিন হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা এবং নগদ সাড়ে চার লাখ টাকা প্রদান করেছেন প্যাসিফিক কনজ্যুমার গুড্স লিমিটেড। প্যাসিফিক কনজ্যুমার গুড্স লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শাহাদাত হোসেন মুরাদ বলেন, ‘একজন মানুষ হিসেবে সামাজিক ও মানবিক দায়বোধ থেকে কর্মহীন দরিদ্র মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কর্মহীন-অসহায় মানুষেদের জন্য এই সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে।

বিসিবি
করোনাভাইরাসের কারণে অসহায়-দুস্থদের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নিজস্ব তহবিল থেকে অসহায়-দুস্থ মানুষদের জন্য চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে ২০ হাজার প্যাকেট খাদ্য সহায়তা দিবে বিসিবি। যে সব এলাকা কোভিড-১৯ রোগে বেশি আক্রান্ত সে সব এলাকায় এই খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। তবে কবে থেকে শুরু হবে এই কর্মসূচি সেটি এখনো নিশ্চিত করেনি বিসিবি।'
বরিশাল
বরিশাল বিভাগীয় শহরে রাজনৈতিক দল বাসদ-এর উদ্যোগে নগরীর মাতৃছায়া স্কুল মাঠে নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য সকাল ১১ টা থেকে ১টা পর্যন্ত একটি বাজার চালু হয়েছে। সেখান থেকে একটি রেশন বইয়ের মাধ্যমে বিনা মূল্যে ৬-৭ শ’ টাকার নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে পারবে এসব নিম্ন আয়ের মানুষরা। প্রতিদিন অন্তত: দু’শ পরিবারকে এ সাহায্য দেয়া হচ্ছে্।
এ ছাড়া, নারায়ণগঞ্জে র্যাব-১১ এর উদ্যোগে গত তিন সপ্তাহে এক হাজার দরিদ্র পরিবারকে খাদ্য সাহায্য পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
গতকাল মানিকগঞ্জে এরকম অভাবী মানুষদের কাছে সাহায্য পৌঁছে দিয়েছে সামাজিক সংগঠন মাদার ফাউন্ডেশন।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।