করোনা মোকাবিলায় জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ, আক্রান্ত ২৩৪
-
ত্রাণ বিতরণে পুলিশ
বাংলাদেশে পুলিশ সদস্যদের মাঝে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আজ (শুক্রবার) সকাল পর্যন্ত সারা দেশে পুলিশের ২৩৪ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের অর্ধেকের বেশি ঢাকা মহানগরীতে। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে ৬৫২ জন পুলিশ সদস্যকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা মহানগরীতে গত ১১ এপ্রিল প্রথম করোনা শনাক্ত হবার পর গত ১২ দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১১৭ জন। তাঁদের মধ্যে নারী পুলিশ এবং পুলিশে কাজ করে এমন সাধারণ কর্মচারীও আছেন। এই হিসাবে ঢাকায় প্রতিদিন গড়ে ১০ জন করে পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেসনস) মাসুদুর রহমান রেডিও তেহরানকে জানান, সংক্রমণের আশঙ্কা করা হচ্ছে এমন পুলিশ সদস্যকে দ্রুত অন্যদের সংস্পর্শ থেকে আলাদা করে ফেলা হচ্ছে। তাঁদের আইসোলেশনে রাখার জন্য ডেমরার অস্থায়ী পুলিশ লাইনসে ১০০টি বিছানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া সন্দেহভাজনদের নির্মাণাধীন দুটি থানা ভবনেও কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার জন্য রাজারবাগ পুলিশ লাইসন হাসপাতাল ছাড়াও ও রাজধানীর দুটি হাসপাতালকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সতর্কতামূলক ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে ডিএমপি’র এ কর্মকর্তা আরো জানান, পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিয়ে দায়িত্ব পালন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ব্যারাকে অবস্থান, ব্যারাকে বা থানায় কমন শৌচাগার দিনে কয়েকদফা পরিষ্কার করা, কর্মস্থলে প্রবেশের আগে সেনিটাইজার দিয়ে হাত জীবানুমুক্ত করে নেয়া, ব্যবহার্য জিনিষপত্র জীবানুমুক্ত করা- এসব বিষয় মেনে চলতে পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, ঢাকা মহানগরীর বাইরে করোনায় বেশি আক্রান্ত হয়েছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদস্যরা। এই মহানগরীতে ২৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর রয়েছে গোপালগঞ্জ। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১৮। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলায় ১৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। চট্টগ্রাম মহানগরীতে আক্রান্ত হয়েছেন তিনজন। তবে চট্টগ্রামে পুলিশের ২০০ সদস্যকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা মহানগরীতে আক্রান্তদের মধ্যে একজন অতিরিক্ত উপকমিশনার, তিনজন উপপরিদর্শক, একজন সার্জেন্ট, পাঁচজন সহকারী উপপরিদর্শক, সাতজন সাধারণ সদস্য ও বাকিরা কনস্টেবল। ছয়জন নারীও আছেন এই তালিকায়।

পুলিশ কর্তৃপক্ষ বলছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশজুড়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ ও লকডাউন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন। এ ছাড়া রাস্তায় জীবাণুনাশক ছিটানো, শ্রমজীবী মানুষকে সহায়তা করা, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়াসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নানা ধরনের কাজ করছেন পুলিশ সদস্যরা। এসব কাজ করতে গিয়ে নিজের অজান্তেই তাঁরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা গণমাধ্যমকে বলেছেন, দেশে দুই লক্ষাধিক পুলিশ সদস্য সরাসরি মাঠে থেকে করোনার বিস্তার রোধে কাজ করছেন। এ দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্যদের সাধারণ মানুষের খুব কাছে যেতে হচ্ছে। জেনেশুনেই জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় পুলিশ সদস্যদের মাঝে সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে তাঁদের যথাসম্ভব সুরক্ষাসামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে। তবে এখনো অনেক চাহিদা রয়েছে। #
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।