করোনা থাকলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে: শেখ হাসিনা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i79395-করোনা_থাকলে_সেপ্টেম্বর_পর্যন্ত_সব_শিক্ষা_প্রতিষ্ঠান_বন্ধ_থাকবে_শেখ_হাসিনা
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রকোপ অব্যাহত থাকলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে- যদি না এই করোনাভাইরাস অব্যাহত থাকে। যখন এটা থামবে, আমরা তখনই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলব।’
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
এপ্রিল ২৭, ২০২০ ০৮:১৮ Asia/Dhaka
  • প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রকোপ অব্যাহত থাকলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে- যদি না এই করোনাভাইরাস অব্যাহত থাকে। যখন এটা থামবে, আমরা তখনই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলব।’

আজ (সোমবার) সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। স্কুল-কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটাও খুলব না। সেটা আমরা কখন খুলব অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই স্কুল কলেজ সবই বন্ধ থাকবে। যদি না এই করোনাভাইরাস ...অব্যাহত থাকে। যখন এটি থামবে, আমরা তখনই এটা খুলব।

এর আগে, করোনার কারণে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি অনুযায়ী দেশের সব শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান আগামী ৫ মে ২০২০ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলা জানানো হয়েছিল। করোনা ভাইরাসের সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে কয়েক দফা সরকার সাধারণ ছুটি ঘোঘণা করে সরকার। সে ছুটি অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ রাখা হয়।

মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাই সবাইকে সাহায্য করেন আর সবাই সুরক্ষিত থাকেন, যেহেতু এখন কিছু কিছু আামদের যেমন ফসল উঠছে। এরপর ফসল লাগাতে হবে বা কিছু কিছু জীবনযাপন আমাদেরকে উন্মুক্ত করতে হবে। সে কারণে সবাই নিজেকে সুরক্ষিত রেখেই কাজ করবেন। সেটিই আমরা অনুরোধ করব।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমরা এই দুঃসময় কাটিয়ে উঠব। আবার কলকারখানা খুলবে। আমাদের অর্থনীতি আবার সচল হবে। দুর্যোগ আসবে সেটি আবার চলে যাবে। আবার আলো আসবে।

তিনি বলেন, আলেমরা মসজিদে সীমিত আকারে জামাত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সবাই বাসায় বসে ইবাদত করুন। এই মহামারী যাতে কেটে যায় দোয়া করুন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের কাজ নেই। বিশেষ করে একেবারে নিম্ন আয়ের লোক, এমনকি ছোটখাটো কাজ করে যারা খায় তাদের কষ্ট আমরা জানি। ছোটখাটো ব্যবসা করা, কৃষিকাজ করে তাদের কথা চিন্তা-ভাবনা করে প্রণোদনা দিয়েছি। সেখান থেকে এক লাখ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়া হবে। মাত্র ২ শতাংশ ইন্টারেস্টে আমরা এই টাকাটা দিচ্ছি। আর যারা ঋণ নিয়ে করোনাভাইরাসের কারণে দিতে পারেননি তাদের এখনই সুদ পরিশোধ করতে হবে না। 

তিনি আরও বলেন, যারা চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন তাদের, সুরক্ষাকে খুবই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মেনে কাজ করছি। ৩৪৬৪ জন ডাক্তার অনলাইনের মাধ্যমে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য সহযোগিতা দিচ্ছি। তাদের ভালো-মন্দ দেখছি এবং তারাও যেন সুরক্ষিত থাকে যা যা প্রয়োজন সেটা দিয়ে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণ চিন্তায় ১ লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। রমজান ও ঈদ সামনে রেখে গরীবদের মাঝে আবারও খাদ্য বিতরণ করা হবে।

জীবন-জীবিকার তাগিদে ধীরে ধীরে সবকিছু চালু হবে জানিয়ে, সবাইকে সুরক্ষিত থেকে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী উল্লিখিত জেলার প্রশাসক, পুলিশ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন, নার্স, রাজনীতিক, সেনাসদস্য, মসজিদের ইমাম, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি ও ত্রাণ বিতরণ নিয়ে মতবিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করে।

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/আবদুর রহমান খান/২৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।