মাস্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলা মুগদা হাসপাতালের পরিচালক ওএসডি: চিকিৎসকদের প্রতিক্রিয়া
করোনা পরিস্থিতে বাংলাদেশ সরকারের ঔষুধ প্রশাসনের সরবরাহকৃত মাস্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলার জের ধরে রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক শহিদ মো. সাদিকুল ইসলামকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।
গতকাল (বুধবার) তাকে ওএসডি করে এক আদেশ জারি করা হয়। তবে সাদিকুল ইসলামকে কেন ওএসডি করা হয়েছে, আদেশে এর কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
সাদিকুল ইসলামের চাকরির মেয়াদ আছে আর সাত মাস। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে সাংবাদিকদের টেলিফোনের জবাবে তিনি জানান, গতকাল ওএসডি হবার চিঠি হাতে পেয়েছেন। চিঠির নির্দেশনা আনুযায়ী তাকে আপাতত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যোগদান করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিটিসের (এফডিএসআর)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডাক্তার আবুল হাসনাত মিল্টন তার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আজকেই সামাজিক মাধ্যমে লিখেছে, “মাস্ক নিয়ে কথা আমিও বলেছি, বলেছি ভালো না মান। আমাকেও তবে বাকীদের সাথে ওএসডি করে যান। “
তিনি এর আগেই প্রশ্ন তুলেছেন, "এন-৯৫ মুদ্রিত মোড়কে সাধারণ মাস্ক সরবরাহের বিষয়টি প্রমাইণত হবার পর এখন যারা স্বীকার করছে এটা ভুল হয়েছিল। তাদের বিচার কেন করা হচ্ছে না? কেন উল্টো ডাক্তারদের হয়রানি করা হচ্ছে?"
এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ডাক্তার ফায়েজুল হাকিম রেডিও তেহরানকে বলেন, এখন যেরকম স্বাস্থ্য সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশ, তাতে ডাক্তার ও স্বাস্থ্য সেবা কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি করা দরকার। জনগণের সেবা দিতে গিয়ে তার যে সমস্যাগুলি মোকাবেলা করছে তা মনোযোগ দিয়ে শুনে সমাধান করা দরকার।
অনুরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হসপাতালের পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার আঞ্জুমান আরা। তিনি রেডিও তেহরানকে বলেন, বর্তমানে একটি আপদকালীন সময়ে নিজেদের ও পরিবারের ঝুঁকির কথা পেছনে রেখে যে সব চিকিৎসক ও সেবা কর্মীরা দিনরাত অক্লান্তভাবে কর্তব্য পালন করে যাচ্ছে তাদের শারীরিক ও মানসিক সুরক্ষার দিকে অবশ্যই কর্তপক্ষের নজর দিতে হবে।
উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন রোগীদের সেবাদানের প্রয়োজনে সরকারের ঔষুধ প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত ৩০ মার্চ রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও সেবাকর্মীদের সুরক্ষাসামগ্রী ও মাস্ক সরবরাহ করা হয় হয়। তবে 'এন–৯৫' মাস্কের নামে যে মাস্ক দেওয়া হয় তার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ মাস্কগুলো এন-৯৫ মুদ্রিত কার্টুনে সরবরাহ করা হয়। এর উৎপাদনকারী হিসেবে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার একটি ফ্যাক্টরির নাম লেখা ছিল।
পরদিন ১ এপ্রিল শহিদ মো. সাদিকুল ইসলাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এ বিষয়ে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে তিনি জানান, হাসপাতালের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ মার্চ কেন্দ্রীয় ঔষধাগার অন্যান্য মালামালের সঙ্গে ৩০০টি এন–৯৫ মাস্ক সরবরাহ করেছে। মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান এই মাস্কের প্রস্তুতকারী। এই মাস্কগুলো প্রকৃতপক্ষে 'এন–৯৫' কি না, সে বিষয়ে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী টেলিফোনে হাসপাতালের পরিচালকের কাছে জানতে চেয়েছেন। চিঠিতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় মতামত দেওয়ার অনুরোধ করা হয়।

এ নিয়ে গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশ হবার পর ঔষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক সংবাদ সম্মেলনে এবং পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে স্বীকার করেন, হাসপাতালে সরবরাহকৃত এসব মাস্ক সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্ক ছিল। ‘ভুল করে’ প্যাকেটের গায়ে এন-৯৫ লেখা হয়েছিল। তাছাড়া মাস্ক উৎপানকারী ফ্যাক্টরির পক্ষ থেকেও পৃথক বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে 'ভুলবশত' 'ভুল মোড়কে' সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্ক সরবরাহের কথা স্বীকার করা হয়।
পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. সাঈদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ২৪ এপ্রিল প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল। তবে প্রতিবেদন দিতে পাঁচ কর্মদিবস চেয়ে নেয় কমিটি। গত মঙ্গলবার এ তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা হবার পর গতকাল বুধবার মুগদা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক শহিদ মো. সাদিকুল ইসলামকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করার সরকারি নির্দেশ জারি করা হয়।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৩০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।