করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশ প্রশংসিত- তথ্যমন্ত্রী : সরকার ব্যর্থ- ফখরুল
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i79603-করোনা_মোকাবেলায়_বাংলাদেশ_প্রশংসিত_তথ্যমন্ত্রী_সরকার_ব্যর্থ_ফখরুল
বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ আজ বলেছেন, মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় সঠিক পদক্ষেপ নেয়ার কারণেই সরকার আজ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। তবে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সিদ্ধান্তে সমন্বয়হীনতার কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
মে ০৪, ২০২০ ১৫:১৮ Asia/Dhaka

বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ আজ বলেছেন, মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় সঠিক পদক্ষেপ নেয়ার কারণেই সরকার আজ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। তবে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সিদ্ধান্তে সমন্বয়হীনতার কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার।

এদিকে, করোনাভাইরাসের দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন পেশাজীবী ও এনজিও প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে তিন থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি স্থায়ী ‘জাতীয় পুনর্গঠন কমিটি গঠন’সহ সরকারকে ৮ দফা প্রস্তাব দিয়েছে নাগরিক ঐক্য।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ, সচরাচর যুদ্ধকালে যেমন করা হয়, তেমনভাবে একটি মন্ত্রিসভা সাব-কমিটি অথবা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পরামর্শকমণ্ডলী গঠনের।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ আজ (সোমবার)  সচিবালয়ে নিজ দপ্তর থেকে অনলাইনে দেয়া সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, ‘বিশ্বব্যাপী এ সংকটের সময় মানুষের জীবন এবং জীবিকা দু’টি রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার প্রথম থেকেই নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, মানুষের জীবন রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী যে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, সেটি ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম, বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা এমনকি বিশ্ববিখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বস কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা করে মানুষের জীবিকা রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী যে পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছেন, বিশ্ববিখ্যাত দি ইকনোমিস্ট পত্রিকায় সেগুলোর সঠিক পরিস্ফুটন হয়েছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ইকনোমিস্ট পত্রিকায় প্রকিশিত প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, এখন অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর উপরে। 

ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতার মধ্যেই ভারত-চীন কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশের চেয়ে তুলনামূলকভাবে নিরাপদে রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন কেউ প্রশংসা করুক আর না করুক এটিই হচ্ছে বাস্তবতা।

সরকার কোনো কার্য্করী ব্যবস্থা গ্রহণ করে নি: বিএনপি

এদিকে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ রাজধানীতে ত্রাণ বিতরণকালে বলেছেন, করোনা সংকটে গরীব মানুষদের সঠিকভাবে ত্রাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার।

হাসপাতালের ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত না উল্লেখ মির্জা ফখরুল বলেন, চিকিৎসক, সাংবাদিক, পুলিশ আক্রান্ত হচ্ছেন। সরকার কোনো কার্য্করী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। যেসব সিদ্ধান্ত তারা নিচ্ছে, সেই সিদ্ধান্তগুলোর প্রতিটিতে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। গোটা দেশে আরও বেশি রকমের দুযোর্গের আশঙ্কা করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, 'দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, পৃথিবীর অন্যান্য দেশ যখন লকডাউন ঘোষণা করেছে, তখন এরা কিন্তু লকডাউন ঘোষণা করেনি, স্থানীয়ভাবে লকডাউন দিচ্ছে কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয়ভাবে কোনো লকডাউন ঘোষণা করা হয়নি। যার ফলে মানুষ এটার গুরুত্ব সেভাবে উপলব্ধি করতে পারেনি।'

মির্জা ফখরুল দাবি করেন, 'সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে, মানুষের মধ্যে আশার সৃষ্টির করার ক্ষেত্রেও ব্যর্থ হয়েছে। তারা একেক সময় একেকটা তুঘলকি সিদ্ধান্ত নেয়। কিছুদিন আগে সিদ্ধান্ত নিল যে, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। বন্ধ করল কিন্তু দুইদিন পরে গণ-পরিবহন খোলা রাখল। ফলে সব কিন্তু গ্রামের মধ্যে দেশের মধ্যে সারা জায়গায় ছড়িয়ে পড়ল। আবার আজকে গার্মেন্টস খুলেছে কিন্তু গার্মেন্টস কর্মীদের যে নিরাপত্তা, সেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। সরকার ব্যর্থ হয়েছে গার্মেন্টস মালিকদেরকে তাঁদের শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপত্তা গ্রহণ করানোর ক্ষেত্রে।'

অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হলেও সরকার তাতে গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে জানান মির্জা ফখরুল।

জাতীয় পর্যবেক্ষণ সেল গঠন

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট বিশ্বমহামারি কোভিড-১৯ রোগের সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ‘জাতীয় পর্বেক্ষণ সেল’ গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। রোববার (০৩ মে) রাতে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সেল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

কোভিড-১৯ পরিস্থিতি পর্বেক্ষণ সেলের উপদেষ্টা করা হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে এবং আহ্বায়ক করা হয়েছে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে।

জাতীয় পর্যবেক্ষণ সেলের নেতারা বিভাগীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করবেন।ওই কমিটি সারা দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জাতীয় পর্যবেক্ষণ সেলকে জানাবে।

বক্তব্য রাখেন মাহমুদুর রহমান মান্না

নাগরিক ঐক্যের প্রস্তাব

করোনাভাইরাসের দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন পেশাজীবী ও এনজিও প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে তিন থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি স্থায়ী ‘জাতীয় পুনর্গঠন কমিটি গঠন’সহ সরকারকে ৮ দফা প্রস্তাব দিয়েছে নাগরিক ঐক্য।

গতকাল রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ের মিলনায়তনে 'কোভিড–১৯ : বৈশ্বিক মহামারি ও বাংলাদেশ' শীর্ষক আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এসব প্রস্তাব দেন।

আলোচনা সভায় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকার যেসব প্রণোদনা ব্যাংকের মাধ্যমে দিচ্ছে তা মূলত ধনী ও বড় ব্যবসায়ীদের জন্য। মাঝারি বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য যতটুকু রয়েছে ব্যাংকিং জটিলতার কারণে তাঁরা সময়মতো সে সহায়তা পাবেন না। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিরও অভাব রয়েছে বলে তিনি জানান।

এসময় সুশাসনের জন্য নাগরিকের ( সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারও ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বলেন, এখানে জীবন ও জীবিকার মতো দুটি গুরত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। জীবন রক্ষার ইস্যুতে সরকার সফল হতে পারেনি। তাদের প্রস্তুতির অভাব ছিল। যাঁরা দেশের বাইরে থেকে এসেছেন, তাঁদেরকে কোয়ারেন্টিনে রাখার বিষয়টি সরকার নিশ্চিত করতে পারেনি। সেই সঙ্গে ২৬ মার্চ ছুটির আগে একদল মানুষ ঢাকার বাইরে গিয়েছে, ৪ এপ্রিল একদল ফিরেছে, তারা আবার ঢাকার বাইরে গিয়েছে। এতে করে করোনার সংক্রমণ বেড়েছে।

ওদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের  সাবেক গভর্নর, এবং ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের  প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য, মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন উল্লেখ করেছেন, “এই দুঃসময়ে আমরা পরিষ্কারভাবে বুঝেছি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও তার অধীন সংস্থাগুলো জাতিকে দক্ষভাবে সেবা দিতে পারেনি।

তিনি প্রস্তব করেন,  সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় “সচরাচর যুদ্ধকালে যেমন করা হয়, তেমনভাবে একটি মন্ত্রিসভা সাবকমিটি গঠন (ওয়ার ক্যাবিনেট)অথবা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পরামর্শকমণ্ডলী” গঠন করা হোক। 

তিনি আরো প্রস্তাব  করেছেন, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছর আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হোক। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে পরের অর্থবছর শুরু করা হোক। পদ্মা সেতুসহ অগ্রাধিকারমূলক বড় প্রকল্প ছাড়া বাকি সব প্রকল্প পুনর্বিন্যাস করে স্থগিত বা বাতিল করা হোক।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/আবদুর রহমান খান/৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।