বাংলাদেশে করোনা বাড়লেও শিথিল হচ্ছে লকডাউন: সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i79651-বাংলাদেশে_করোনা_বাড়লেও_শিথিল_হচ্ছে_লকডাউন_সিদ্ধান্ত_পুনর্বিবেচনার_দাবি
বাংলাদেশে প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। করোনা পরীক্ষার কেন্দ্র বৃদ্ধির কারণে বেশি বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে প্রতিদিন। সরকারি হিসাবে আজ (বুধবার) নাগাদ দেশের ৬৪ জেলার সবগুলোতেই করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৯৯ হাজার ৬৪৬টি। এ যাবত করোনা শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোট ১১ হাজার ৭১৯।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
মে ০৬, ২০২০ ১৪:১৩ Asia/Dhaka

বাংলাদেশে প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। করোনা পরীক্ষার কেন্দ্র বৃদ্ধির কারণে বেশি বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে প্রতিদিন। সরকারি হিসাবে আজ (বুধবার) নাগাদ দেশের ৬৪ জেলার সবগুলোতেই করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৯৯ হাজার ৬৪৬টি। এ যাবত করোনা শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোট ১১ হাজার ৭১৯।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞগণ সরকারকে বলেছেন, করোনা সংক্রমণের গতি-প্রকৃতি বুঝতে এবং আক্রান্ত মানুষকে সেবা দিতে দৈনিক কমপক্ষে ১০ হাজার নমুনা পরীক্ষা দরকার। কিন্তু সতের কোটি মানুষের এ দেশে আজকে পর্যন্ত মাত্র এক লক্ষের কাছাকাছি মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ৩৩টি পরীক্ষাকেন্দ্রে (ল্যাবরেটরি) করোনা শনাক্তের নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। তাতেও দৈনিক পরীক্ষার সংখ্যা  ছয় হাজারের পর্যায়ে পৌঁছানো গেছে। অন্যদিকে, পরীক্ষা বাড়াতে গিয়ে জনবল, নমুনা সংগ্রহ, ল্যাব রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা বিষয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে এমন হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, চলতি মে মাসের শেষার্ধে বা জুনে করোনার ভয়াবহতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। 

এদিকে, দেড় মাসের বেশি সময় ধরে লকডাউনে থাকার পর মানুষের জীবন জীবিকার প্রশ্নটি সামনে চলে এসেছে। করোনার চেয়ে ক্ষুধার জ্বালায় দিশেহারা নিম্ন আয়ের কর্মহীন মানুষ, দিনমজুর, দরিদ্র জনগোষ্ঠী। ত্রাণের অপ্রতুলতা আর কাজের সন্ধানে মরিয়া মানুষ তাই সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করেই ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসছে ব্যাপকহারে। ত্রাণের দাবিতে ক্ষুধার্ত মানুষ আর বেতন-ভাতার দাবিতে শ্রমিকেরা প্রতিদিনই কোখাও না কোথাও বিক্ষোভ করছেন। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও স্থানীয় যানবাহনে চেপে ভেঙে ভেঙে পথ পাড়ি দিয়ে দূর দুরান্তের জেলা থেকে মানুষ ছুটে আসছে কর্মস্থল ঢাকার দিকে যেখানে করোনা সংক্রমণ সবচাইতে বেশী। কার্যকর হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ। ফলে বাড়ছে করোনা ঝুঁকি।

করোনায় ঘরে বসে তারাবিহ পড়ার আগের নির্দেশনাকে শিখিল করে আজ ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক দূরত্ব মেনে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে দেশের সব মসজিদে তারাবিসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া যাবে।

ইতেমধ্যে  শ্রম-ঘন তৈরি পোশাক কারখানা খুলে দেবার প্রেক্ষিতে কারখানা মালিকদের সতর্ক করে দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, পোশাক কারখানায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে গেলে তাদের চিকিৎসার জন্য স্থান সংকুলান হবে না।

তৈরি পোশাক কারখানা অধ্যুষিত সাভার অঞ্চলে গতকাল নতুন করে আরও আটজন  শ্রমিকদের মাঝে করোনাভাইরাসে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছেন। সাভারে আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই তৈরি পোশাক শ্রমিক।

তৈরি পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ায় শ্রমিকদের আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও উপজেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডা. মোহাম্মদ সায়েমুল হুদা।

তিনি জানান, উপজেলায় সর্বমোট ৬১৭টি নমুনা পরীক্ষার পর ৪৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ২০ জনই বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক, একজন চিকিৎসক, দু’জন চিকিৎসা সেবা কর্মী, একজন জেলে, একজন সবজি বিক্রেতা, একজন মুদি দোকানদার। আর অবশিষ্টরা হলেন- খেটে খাওয়া সাধারণ জনগণ।

তৈরি পোশাক শ্রমিকদের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত সকল তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ অবস্থায় জীবনের চেয়ে জীবিকার প্রশ্নকে প্রাধান্য দিয়ে জেলা পর্যায় পর্যন্ত ছোট কলকারখানাও খুলে দেওয়া এবং রোজা ও ঈদের কারণ দেখিয়ে দোকানপাট ও  শপিং সেন্টারসমূহ খুলে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এ প্রসঙ্গে গত সোমবার তিনদফায় তিনরকম নির্দেশনা জাইর করে অবশেষে সরকার জানিয়েছে ১০ মে থেকে দোকানপাট খুলে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ১০ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকানপাট। দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, তারা পুলিশ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ১০ মে থেকে দোকান-পাট খোলার ব্যবস্থা নেবে।

তবে এ বিষয়ে খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক জানিয়েছেন, কারখানা দোকানপাট এভাবে খুলে দেবার ফলে করোনা ঝুঁকি বেড়ে যাবে।

মঙ্গলবার (০৫ মে) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে উচ্চ পর্যায়ের করোনা টেকনিক্যাল কমিটির সভা শেষে স্বাস্থ‌্যমন্ত্রী বলেছেন, ১৭ সদস্যের বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত টেকনিক্যাল কমিটি দেশব্যাপী চলমান লকডাউন খোলার ব্যাপারে সরকারকে পরামর্শ দেবে। একইসঙ্গে ঈদে শপিংমল, দোকানপাট বন্ধ রাখা হবে কিনা সে ব্যাপারেও কমিটি সরকারকে পরামর্শ দেবে। 

তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. তৌফিক জোয়ার্দার আশঙ্কা করে বলেছেন, এভাবে লকডাইন শিথিল করে কারখানা ও বিপনী বিতানসমূহ খূলে দেবার কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকি আরো বেড়ে যাবে। তাছাড়া মানুষকে এতদিন ঘরে আটক রেখে যেটুকু সুফল পাওয়া গেছে তাও অর্থহীন হয়ে যাবে।

এ অবস্থায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত ছাড়া শপিংমল, দোকানপাট না খোলার দাবি জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

মঙ্গলবার (০৫ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এ দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, দেশে পরীক্ষা যত বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যাও বেশি শনাক্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যেখানে বলছেন মে মাসের শেষ সপ্তাহ বা জুনের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ সর্বোচ্চ পিকে উঠতে পারে- এমন আশঙ্কার মাঝে গত ২৬ এপ্রিল থেকে পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া এবং আগামী ১০ মে থেকে সব শপিংমল, দোকানপাট খুলে দেওয়ার সরকারি ঘোষণার ফলে পুরো দেশের মানুষের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

বাম নেতারা বলেন, পোশাক কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত না করে কারখানা চালু করা হয়েছে। এতে পোশাক শ্রমিকদের অনেকেই ইতোমধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়ছে এবং কমিউনিটি সংক্রমণের ফলে পুরো দেশের জনগণই মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।

সরকারের শরীক দল জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ঢালাওভাবে শপিং মল, দোকান খুলে দিয়ে জনসমাগমের সুযোগ দেওয়া- এটি হবে একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। তাই ১০ মে থেকে শপিং মল, দোকান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।