করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ১৪ দফা সুপারিশ
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক চাপ মোকাবেলা করে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে উচ্চ পর্যায়ের একটি জাতীয় টাস্ক-ফোর্স গঠনসহ ১৪ দফা সুপারিশ পেশ করেছে।
সরকারি এ সংস্থাটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দেশের সার্বিক অর্থনীতি বিশেষ করে বিনিয়োগের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে এ সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হলে চলমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থমকে পড়বে।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা করোনাভাইরাসের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মহারানোর আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীকর্মীরা দেশে ফিরে আসতে শুরু করেছেন। এ অবস্থায় বিদেশ ফেরত বিপুল সংখ্যক কর্মহীন মানুষদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি দেশে বিদ্যমান শ্রমশক্তির কর্মসংস্থান করা দুরূহ হয়ে পড়বে বলে সতর্ক করে দিয়েছে বিডা।
সংকটময় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের নিকট দেয়া বিডা’র সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে- ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের শিল্প বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পখাতে প্রদত্ত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন ও নীতিগত সহায়তা প্রদান এবং মনিটরিং করা। পরবর্তীতে আরও কোনো প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন আছে কি না খুঁজে বের করা এবং বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া। চিহ্নিত খাত পুনরুদ্ধারে ওইসব খাতে করোনাজনিত প্রভাব নির্ণয় করা।

বর্তমানে সবখাতে যেসব বৈদেশিক ঋণের আবেদন চলমান রয়েছে সেগুলো সব কিংবা অগ্রাধিকার চিহ্নিত খাতে ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজতর করা।
বৈদেশিক ঋণদাতাদের কাছ থেকে চলতি মূলধন ঋণ গ্রহণের অনুমোদন দেওয়া।
ওষুধ, ভেন্টিলেটর, স্যানিটাইজার, সার্জিক্যাল মাস্ক, পিপিই ইত্যাদি উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানি এবং জরুরি পণ্যগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া।
মাসিক ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো এবং কোনো জরিমানা ছাড়াই বিলম্বিত ভ্যাট গ্রহণ করা।
১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের আয়কর তথ্য ৩০ এপ্রিলের মধ্যে জমা দেওয়ার সময়সীমা শিথিল করা।
এ ছাড়া আরো শুপারিশ করা হয়েছে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্থগিত হওয়া এড়াতে ট্যাক্স/ভ্যাট আদায়ে ব্যবসা-বান্ধব নীতি গ্রহণ করা; আয়কর সুবিধা দেওয়ার জন্য ১৮২ দিনের নীতির আওতা দেশে বসবাসরত প্রবাসী ও অনাবাসী নাগরিক ‘আবাসিক’ ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা।
একইসাথে করোনা পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ সেবা সংক্রান্ত বিডা’র সব সার্ভিস চার্জ মওকুফ করারও সুপারিশ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য বিডা’র অন্যান্য সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, পোর্ট ডেমারেজ/স্টোরেজ ফি প্রদানের সময়সীমা বাড়ানো যা ইতোমধ্যে দু’দফা বাড়ানো হয়েছে; রেজিস্ট্রার অব জয়েন স্টক কোম্পানি অ্যান্ড ফার্মস-এ স্ট্যাটিউটোরি রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা জুন পর্যন্ত বাড়নো এবং বিলম্বের জন্য কোনো জরিমানা আদায় না করা; পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য কোনো জরিমানা ছাড়াই স্ট্যাটিউটোরি রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানো এবং শিল্প ও বাণিজ্যিকখাতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল কমানো কিংবা বকেয়া বিল পরিশোধে সময়সীমা বাড়ানো।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।