বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i79911-বাংলাদেশে_করোনায়_আক্রান্ত_ও_মৃত্যুর_সংখ্যা_নিয়ে_পরস্পরবিরোধী_বক্তব্য
বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সরকারের সড়কপরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটি স্বার্থান্বেষী মহল সরকারের বিরুদ্ধে তথ্য লুকোচুরির কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার করে যাচ্ছে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
মে ১৫, ২০২০ ১৪:৫৬ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সরকারের সড়কপরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটি স্বার্থান্বেষী মহল সরকারের বিরুদ্ধে তথ্য লুকোচুরির কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার করে যাচ্ছে।

তবে অণুজীববিজ্ঞানীদের ধারণা- সরকার ঘোষিত রোগীর সংখ্যার চেয়ে প্রকৃত রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। আর আনুষ্ঠানিকভাবে মার্চ মাসে বাংলাদেশে করোনা শনাক্ত হলেও বিশেষজ্ঞদের ধারণা সংক্রমণ আরো কমপক্ষে দুই মাস আগেই শুরু হয়েছে।

ওদিকে, পরিবেশবাদী চিকিৎসাবিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা- যেখানে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে সেখানে তাড়াড়াড়ি অপরিকল্পিতভাবে লকডাইন শিথিল করে দিয়ে বিপদের ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ওবায়দুল কাদের

আজ (শুক্রবার) সকালে করোনা প্রতিরোধ সামগ্রী বিতরণের উপলক্ষে তার সরকারি বাসা থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হয়ে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ইতিমধ্যেই যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, ঢালাওভাবে বলা হচ্ছে সবাই করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন, প্রকৃতপক্ষে মৃত্যুর পর পরীক্ষা করে দেখা যাচ্ছে কেউ পজিটিভ এবং নেগেটিভ দুটোই আসছে। কিন্তু এসব মৃত্যু নিয়েও অনেকে মিথ্যাচার করছেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক একটি মহল সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপতৎপরতায় লিপ্ত। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টুইস্ট করে অপপ্রচার তথা গুজব চালাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে অনুজীববিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমাদের আশেপাশের দেশের যে প্যাটার্ন দেখা যাচ্ছে তাতে ধারণা করা যায় আমাদের দেশেও সংক্রমণ এ বছরের গোড়ার দিকেই ছড়িয়েছে। এখন লক্ষণ ছাড়া রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং নমুনা পরীক্ষা বৃদ্ধির সাথে সাথে বেশি শনাক্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় এটা সহজেই অনুমান করা যায় যে, সরকারি হিসাবের চেয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বেশী।

অপরদিকে ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টর সভাপতি ডাক্তার কাজী রকিবুল ইসলাম রেডিও তেহরানকে বলেন, যে সময়ে রোগী শনাক্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে সেখানে এখনই সারাদেশে লকডাইন শিথিল করে করোনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

কয়েক জেলায় মার্কেট আবার বন্ধ ঘোষণা

এদিকে লকডাউন শিথিল করে খুলে দেবার পর বিপণিবিতান ও শপিংমলে উপচেপড়া ভিড়সহ স্বাস্থ্য অসচেতনতার কারণে করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় থেকে খুলনা, নড়াইল, জয়পুরহাটসহ কয়েকটি জেলায় সকল বিপণিবিতান ও শপিংমল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন। আজ থেকে এ নির্দেশ  কার্যকর হয়েছে।

এর আগে গত ১০ মে রোববার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে দোকানপাট ও শপিংমল খোলার কথা বলা হলেও বাস্তবে কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছিল না। দোকানপাটগুলোতে উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। পরে বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দোকানপাট ও শপিংমলে উপচেপড়া ভিড়ের খবর প্রচারিত  হয়।

এ প্রেক্ষিতে আজ থেকে কয়েকটি জেলায় মার্কেট ও শপিংমল পুনরায় বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি হয়েছে। তবে সামাজিক দূরত্বসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানপাট প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী খোলা থাকবে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।