করোনাভাইরাস মোকাবিলা
কর্মহীন শ্রমিকদের সহায়তার দাবি ইসলামী আন্দোলনের, জাতীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব খেলাফত মজলিসের
-
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম
করোনা পরিস্থিতিতে সব শ্রেণির কর্মহীন শ্রমিকদের দুর্দশা লাঘবে মানবিক কারণে এককালীন ১৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।
আজ (শনিবার) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের প্রণোদনা এবং অসহায় অবস্থায় পতিত প্রবাসীদের পরিবারকে নগদ সহযোগিতা দেওয়াসহ সরকারি খরচে প্রবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিও জানান।
সরকার দুই দফায় যে ১ কোটি রেশনকার্ড কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তা প্রশংসনীয় উদ্যোগ হলেও দুর্নীতিবাজদের কারণে এই উদ্যোগের সুফল প্রকৃত প্রাপকেরা পাবে না এমনটি আশঙ্কা করে সৈয়দ রেজাউল করীম বলেন, ‘দেশপ্রেমিক ও বলিষ্ঠ সেনাবাহিনীর হাতে এই কাজ ছেড়ে দেওয়া হোক। তারা যেভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির মাধ্যমে নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন করতে সক্ষম হয়েছিল, তেমনিভাবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য রেশনকার্ডের তালিকা প্রণয়ন করে জনগণের কাছে সরকারের শুভ উদ্যোগের সুফল পৌঁছে দিতে পারবে।’
খেলাফত মজলিসের দাবি জাতীয় কমিটি গঠন
এদিকে, খেলাফত মজলিস-এর আমীর মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক করোনা মহামারীর দুর্যোগ জাতীয়ভাবে মোকাবেলা করার জন্য সকল রাজনৈতিক দলকে সম্পৃক্ত করে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ, শুধুমাত্র সরকারি দলের দ্বারা এ দুর্যোগ মোকাবেলা সম্ভব নয়।
আজ বিকেলে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নেতারা এই মর্মে অভিমত দেন যে, করোনা দুর্যোগে অভাবগ্রস্ত কয়েক কোটি মানুষ নিদারুণ কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। এদিকে সরকারি ত্রাণ চুরি হয়ে যাচ্ছে। আর যতটুকু ত্রাণ বিতরণ হচ্ছে তাও শুধু দলীয় লোকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। আড়াই হাজার টাকার প্রনোদনার ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানের তালিকার এক/ দেড়শ নামের বিপরীতে এক ব্যক্তির বিকাশ নম্বর। এভাবে সরকারী ত্রাণ লুটপাট বন্ধ করতে হবে। প্রকৃত অভাবীদের কাছে ত্রাণ পৌঁছাতে হবে। আর সারাদেশের ভোক্তাদের অন্তত: তিন মাসের বিদ্যুত, গ্যাস ও পানির বিল মওকুফ করতে হবে।
খেলাফত মজলিসের আমীর উল্লেখ করেন যে, দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে একদিকে কোভিড-১৯ এর রোগীরা যেমন সুচিকিৎসা পাচ্ছেন না। অন্যদিকে পর্যাপ্ত ও মানসম্পন্ন সুরক্ষা সামগ্রীর অভাবে চিকিৎসক, নার্সসহ চিকিৎসা কর্মীরা করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। পরিস্থিতি এমন যে হাসপাতালগুলোতে সাধারণ রোগীরাও সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/রেজওয়ান হোসেন/১৬