করোনাভাইরাস: লকডাউন শিথিল করার সরকারি সিদ্ধান্তে বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i80256-করোনাভাইরাস_লকডাউন_শিথিল_করার_সরকারি_সিদ্ধান্তে_বিভিন্ন_মহলের_প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ২ হাজার ২৯ জন। এটাই একদিনে আক্রান্ত এযাৎকালের সর্বোচ্চ সংখ্যা। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হিসেবে সনাক্ত হয়েছেন ৪০ হাজার ৩২১ জন। এ ছাড়া আজকের দিন পর্যন্ত দেশে করোনায় মৃত্যু বরণ করেছেন সর্বমোট ৫৫৯ জন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মে ২৮, ২০২০ ১৬:১৯ Asia/Dhaka

বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ২ হাজার ২৯ জন। এটাই একদিনে আক্রান্ত এযাৎকালের সর্বোচ্চ সংখ্যা। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হিসেবে সনাক্ত হয়েছেন ৪০ হাজার ৩২১ জন। এ ছাড়া আজকের দিন পর্যন্ত দেশে করোনায় মৃত্যু বরণ করেছেন সর্বমোট ৫৫৯ জন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানিয়েছেন, নমুনা পরীক্ষার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

দেশে বর্তমানে ৪৮ টি ল্যাবে প্রতিদিন গড়ে দশ হাজারের কম নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাতে যদি ২০ শতাংশ রোগীও শনাক্ত হয় তবে দেশের ১৭ কোটি  জনসংখ্যার মধ্যে তিন কোটির বেশী মনুষ সংক্রমিত হবার মতো ভয়াবহ সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী এখন সংক্রমণের ঝুঁকিতে পুরো বাংলাদেশ। জাতীয় পরামর্শক কমিটি বলছে, সংক্রমণের শীর্ষবিন্দুতে এখনও পৌঁছেনি দেশ। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রাথমিক প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, জুনের প্রথম সপ্তাহে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের হার কমে আসার কথা ছিল। কিন্তু কৌশলগত ভুলের কারণে সংক্রমণ তো কমেইনি বরং ঊর্ধ্বমুখী। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত হচ্ছে- জুনের মাঝামাঝি সময়ে করোনা সংক্রমণ বাড়তে পারে, কমবে জুলাইয়ের শেষ নাগাদ। তাই জুনের প্রথম দুই-তিন সপ্তাহ কড়াকড়িভাবে বিধি-নিষেধ নিশ্চিত করা জরুরি।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা: রিদউয়ানুর রহমান বলেন, লকডাউন শিথিল করার জন্য যে সব শর্ত থাকা দরকার যেমন-রোগ বিস্তারের নিম্নমুখী ধারা, যে কাউকে প্রয়োজনে পরীক্ষা করার সুযোগ এবং রোগাক্রান্তদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা-এর কোনটিই এখন বাংলাদেশে নেই। এ অবস্থায় লকডাইন শিথিলের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে চরম ঝুঁকির মুখেই ঠেলে দেবে।  

এ অবস্থায়  বৃহস্পতিবার (২৮ মে)  সাধারণ ছুটি আর না বাড়িয়ে ও ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত পালনীয় কিছু স্বাস্থ্য নির্দেশনা সম্বলিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সরকারের জণপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হেসেন সরকারি ছুটি না বাড়ানোর পক্ষে কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচাল রাখার যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিসে যেতে বলেছেন। এ সময়ে বয়স্ক এবং গর্ভবতী নারীরা অফিসে আসবেন না। এ সময় স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত

অপরদিকে,  সরকারের  সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আজ  বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে তার  সরকারি বাসভবন থেকে  অনলাইন ব্রিফিংয়ে  জানিয়েছেন,  জীবন ও জীবিকার মাঝে ভারসাম্য তৈরি, অর্থনৈতিক চাকা সচল এবং সামাজিক শৃঙ্খলা ও সুরক্ষার স্বার্থে সরকার সাধারণ ছুটি না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে । ৩১ মে থেকে গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্তও নেয় হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার (২৯ মে) পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনসমূহকে নিয়ে বিআরটিএ'র সাথে মিটিং করে এসব বিষয় চূড়ান্ত করতে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

এদিকে সাধারণ ছুটি তুলে নেওয়ার সম্ভাবনার তথা জানতে পেরে গতকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষ করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে রাজধানীতে ফিরছে শুরু করেছেন। তবে, বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতির অবনতির মাঝে সরকারি ছুটি না বাড়ানোর সরকারী  সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতি বলে আভিহিত করেছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভার্চুয়াল সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, ‘এখনই উপযুক্ত সময় ছিল কিছুদিনের জন্য হার্ড-লকডাউন কার্যকর করে ব্যাপক জনগণকে টেস্টের আওতায় এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা। কিন্তু সরকার সেই পথে না গিয়ে হাঁটছে মৃত্যুর মিছিল বাড়ানোর পথে। এ সময় ছুটি প্রত্যাহারের মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে লাখ লাখ মানুষকে আক্রান্ত হবার ঝুঁকির  দিকে ঠেলে দেয়া হলো। এটা সরকারের সবচাইতে বড় আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত।’

রিজভী বলেন, ‘মানুষকে বিপদে ফেলে দেয়ার এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্তকতা বার্তার প্রতিও সরকারের বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন। আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, এই ছুটি প্রত্যাহারের জন্য করোনাভাইরাসে প্রাণহানির সব দায় সরকারকেই নিতে হবে।’#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/২৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।