বাংলাদেশে আইসিইউ বেড মাত্র ১০০০, বণ্টন পদ্ধতি জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i80540-বাংলাদেশে_আইসিইউ_বেড_মাত্র_১০০০_বণ্টন_পদ্ধতি_জানতে_চেয়েছে_হাইকোর্ট
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের পরামর্শ ও তদারকির জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে কী ব্যবস্থা আছে, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে দেশের হাসপাতালে কতগুলো ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ বেড) আছে, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জুন ০৮, ২০২০ ১৫:২০ Asia/Dhaka

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের পরামর্শ ও তদারকির জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে কী ব্যবস্থা আছে, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে দেশের হাসপাতালে কতগুলো ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ বেড) আছে, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

এক রিটের শুনানিতে আজ (সোমবার) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব তথ্য জানতে চান। রাষ্ট্রপক্ষকে আগামী বুধবারের মধ্যে ওই সব তথ্য জানাতে বলা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেসরকারি হাসপাতালের ‘আইসিইউ বেড অধিগ্রহণ’ ও অনলাইনে ‘সেন্ট্রাল বেড ব্যুরো’ গঠনের নির্দেশনা চেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ডেপুটি রেজিস্ট্রার শেখ আবদুল্লাহ আল মামুন গত শনিবার ওই রিটটি করেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে জানা যায়, দেশে আঠারো কোটি মানুষের বিপরীতে আইসিইউ আছে মাত্র ১ হাজারটি। এর মধ্যে ঢাকায় প্রায় চার শতাধিক ও ঢাকার বাইরে বাকি ছয়শ’। তাছাড়া, অধিকাংশ কাজ শেষ করেও চালুর অপেক্ষায় বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে প্রায় ৪০টি আইসিইউ। এ অবস্থায় প্রতিদিন যে হারে রোগী বাড়ছে তাতে একটি আইসিইউ বেড পেতে অপেক্ষা করতে হয় কোনো একজন রোগীর সুস্থতা কিংবা মৃত্যুজনিত কারণে সিট খালি হওয়া পর্যন্ত।

বাংলাদেশ হাইকোর্ট

ওদিকে, রাজধানী ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমণের শিকার দেশের 'বাণিজ্যিক রাজধানী' বলে পরিচিত বন্দরনগরী চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজ গতকাল রাজপথে নেমে অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের দাবি মরার আগে অন্তত চিকিৎসা সেবাটুকু পেয়ে মরতে চান তারা।

বাংলাদেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে এবার চিকিৎসা সেবাপ্রার্থীরা বিষয়টি বাস্তবভাবেই উপলব্ধি করতে পারছেন।

ডাব্লিএইচও এবং বিশ্বব্যাংকের হিসাবে স্বাস্থ্যসেবায় বিশ্বে সবচেয়ে কম খরচ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো। এ অঞ্চলের নাগরিকরা গড়ে স্বাস্থ্যসেবা খরচের ৪৬ শতাংশই নিজেদের পকেট থেকেই মেটায়। তবে বাংলাদেশে এ হার ৭০ শতাংশের বেশি। কারণ স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশ সরকার মাথাপিছু ব্যয় করে সবচেয়ে কম। যেটুকু খরচ হয়, সেখানেও আছে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ।

ডাব্লিউএইচও’র মতে, স্বাস্থ্য বাজেট হওয়া উচিত দেশের মোট বাজেটের অন্তত ১৫ শতাংশ আর জিডিপির ৫ শতাংশ। অথচ জাতিসংঘের জরিপ বলছে, জিডিপি অনুপাতে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দে এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ৪৮টি দেশের মধ্যেই বাংলাদেশ সবচেয়ে কৃপণ। চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের ৫ শতাংশেরও নিচে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।