কর্মহীন মানুষদের জন্য রেশন কার্ডের ব্যবস্থা করতে ২০ দলীয় জোটের আহ্বান
বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট দেশে করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন মানুষ এবং দিন আনে দিন খায় এমন দরিদ্র পরিবারসমূহকে যতদিন প্রয়োজন ততদিন রেশন কার্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ করে তাদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে।
২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এক ভার্চুয়াল সভায় দেশের সার্বিক পরিস্থিত পর্যালোচনা করে উপরোক্ত দাবি জানান। সভায় বিস্তারিত আলোচনা-পর্যালোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে আরো কিছু প্রস্তাব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
সভার এক প্রস্তাবে করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসক, চিকিৎসাকর্মী, সেনাবাহিনী ও আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং দেশের যে সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট নাগরিকগণ ও সাধারণ মানুষ শাহাদাৎ বরণ করেছেন তাঁদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করা হয় এবং তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা ও তাঁদের পরিবার পরিজনদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়।
সভায় করোনা মহামারিতে আক্রান্তদের সংখ্যা নিরূপনে সমন্বয়হীনতা, দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার সুযোগ সৃষ্টিতে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব ও অবহেলা এবং সর্বোপরি প্রথম থেকেই করোনা মহামারি বিস্তার রোধে সরকারি কর্মপরিকল্পনার ক্ষমাহীন দুর্বলতায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে যতদূত সম্ভব এসব নিরসনে জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দেয়া হয়।
২০ দল মনে করে যে, বিদ্যমান সংকট নিরসনে দেশের সকল রাজনৈতিক দল, শ্রেণী পেশার সংগঠন,সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞগণের সম্মিলিত ও সক্রিয় প্রয়াসই শুধু দেশবাসীকে ক্রমবর্দ্ধমান মহামারির ভয়াল প্রকোপ থেকে বাঁচাতে পারে। সরকারে মন্ত্রী, আমলা ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বাগাড়ম্বর করোনা প্রতিরোধে কোন ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেনি; বরং মহামারি বিস্তারে সহযোগীতা করেছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে এবং তাদের রোগ প্রতিরোধে অমনোযোগী করে তাদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সভার অপর এক প্রস্তাবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের টেষ্টিং কিট নিয়ে অহেতুক সময়ক্ষেপণ, বিদেশ থেকে নিম্নমানের কিট, মাষ্ক, পিপিইসহ সুরক্ষা সামগ্রী আমদানীতে সীমাহীন দুর্নীতি এবং নিম্নমানের সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহারে অসংখ্য রোগী এবং ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্য সেবীদের বহু জনের অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ীদের ব্যাপারে তদন্ত ও শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
এ সময় বিলম্বে বাস্তবায়ন করা যায় এমন সব মেগা প্রকল্প স্থগিত করে সেই অর্থে করোনা সংকট মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের দাবি করেছে ২০ দল। একই সাথে, উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত দৈনিক কমপক্ষে ৬০ হাজার কোভিড টেস্ট করার সুবন্দোবস্ত করার দাবী করেছে ২০দল। এছাড়া, মালিকানা নির্বিশেষে সকল হাসপাতাল, ক্লিনিক ও চিকিৎসা কেন্দ্র আইসিইউ, ভেল্টিলেশন, আইসোলেশন ও পর্যাপ্ত ঔষধ সরবরাহ করে প্রশিক্ষিত ডাক্তার, নার্স, টেকনিশিয়ান, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে করোনা চিকিৎসার উপযোগী করার জোর দাবী জানানো হয়েছে।
দেশের প্রত্যেকটি শ্রমঘন এবং ঘন জনসবতিপূর্ণ অঞ্চলে কোভিড পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপন এবং পরবর্তীতে সেগুলো সরকারি-বেসরকারি যৌথ মালিকানায় পরিচালনার জন্য ২০ দল দাবি জানিয়েছে। সভায় সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান যথা বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল পরিশোধে বিপন্ন জনগণকে বাধ্য করার সরকারি উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এসব বিল আদায় স্থগিত ঘোষণার এবং কর্মহীন ও দরিদ্র মানুষদের বিল মওকুফ করার জোর দাবি জানাচ্ছে। ২০ দল মনে করে যে, মাত্র এক বছর হাতে গোনা কিছু ক্ষমতাধর দুর্নীতিবান মানুষ যে পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করে কিম্বা সুইস ব্যাংকে জমা করে কিম্বা বেগম পাড়ায় অথবা সেকেন্ড হোমে বিনিয়োগ করে তা উদ্ধার করা গেলে কোভিড মহামারি নিয়ন্ত্রণ কিম্বা স্বাস্থ্যখাতের স্থায়ী উন্নয়নের জন্য কারো কাছে হাত পাতার প্রয়োজন হবে না। কিন্তু সরকার কোন অজ্ঞাত কারনে এটা করছেনা সেটাই দেশবাসীর প্রশ্ন।
২০ দল গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছে যে, দেশ ও জনগণ যখন করোনা মহামারিতে বিপর্যস্থ, আত্মরক্ষা এবং জনগণের জন্য ত্রাণ বিতরণে ব্যস্ত তখন নির্বাচন কমিশন বহুল প্রচারিত কয়েকটি ইংলিশ শব্দ পরিবর্তনের জন্য আরপি’র একটি অধ্যায়কে ‘রাজনৈতিক নিবন্ধন আইন ২০২০ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নে উদ্যোগী হয়েছে -যা অসমযোপযোগী, অপ্রয়োজনীয় এবং অবশ্যই উদ্দেশ্যমূলক। নির্বাচন কমিশনকে এই ফরমায়েশী কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য জোর দাবী জানায় ২০ দলীয় জোট ।এ জোটের শরীক দল সমূহ ইতোমধ্যেই সারাদেশে যে ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছেন তা আরও বিস্তৃত করার জন্য সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। #
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/ ৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।