করোনায় বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বৃদ্ধি; শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আশঙ্কায় ব্র্যাক
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i82596-করোনায়_বাংলাদেশে_শিক্ষা_প্রতিষ্ঠানের_ছুটি_বৃদ্ধি_শিক্ষার্থী_ঝরে_পড়ার_আশঙ্কায়_ব্র্যাক
বাংলাদেশে করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি আরও একমাস বাড়ানো হয়েছে। আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
আগস্ট ২৭, ২০২০ ১৪:৫৮ Asia/Dhaka

বাংলাদেশে করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি আরও একমাস বাড়ানো হয়েছে। আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গত ১৭ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। প্রাণঘাতী ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে না আসায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি কয়েক দফা বাড়িয়ে সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছিল।

করোনাভাইরাসের সংকটের মুখে দেশের প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষামূলক কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে গেছে ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা।এ বছর কেন্দ্রীয়ভাবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা গ্রহণ  না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এদিকে, শিক্ষা  প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রছাত্রীদের বাড়িতে বসে পড়াশোনা চালু রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।  এ বছর বার্ষিক পরীক্ষা ছাড়াই শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করার ব্যাপারেও ইঙ্গিত  দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।  

এর আগে  গতকাল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া  হয়েছে এ বছর পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা পিইসি এবং বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। অন্য  শ্রেণিতেও পরীক্ষা না হবার আভাস দেওয়া হয়েছে।

এ দিকে করোনার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আশঙ্কা করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে গ্রাম ও শহর উভয় এলাকায় ২৫ হাজারের বেশি কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এ অবস্থায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেকোনো সময়ে যেকোনো ক্লাসেই বিনা টিসিতে শিক্ষার্থী ভর্তির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি সিনিয়র সচিব আকরাম আল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এমন নির্দেশনা জারি করা হয়

সম্প্রতি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্র্যাকের এডুকেশন প্রোগ্রামের আওতায় পরিচালিত এক জরিপেও দেখানো হয় যে, করোনার কারণে অনেক শিক্ষার্থী তাদের মা-বাবার সাথে গ্রামে চলে গেছে। ফলে গ্রামের স্কুলে শিক্ষার্থীদের চাপ বাড়ার একটি আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় শহর ছেড়ে গ্রামে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য আগামী দিনে গ্রামের স্কুলগুলোতে ক্লাসরুম তথা ভবন বাড়াতেও ব্র্যাকের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। 

অন্যদিকে, করোনার পর অভাবের তাড়নায় প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সব পর্যায়েই শিক্ষার্থী ঝরে পড়ারও আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রাক।

স্কুল বন্ধ হলেও শিক্ষার্থীরা যাতে বাড়িতে বসে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারে সে লক্ষ্যে সরকার সংসদ বাংলাদেশ টিভিতে গত ২৯ শে মার্চ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ও ৭ এপ্রিল থেকে কারিগরি ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য দূরশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে। তাছাড়া শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ক্লাস চালু করেছে। তবে উপুক্ত প্রযুক্তিগত সুবিধা হাতে রয়েছে এমন স্বচ্ছল পরিবারের শিশুরাই অনলাইনে শিক্ষার  সুযোগ গ্রহণ করতে পারছে।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/ ২৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।