সাজা স্থগিত রেখে নিঃশর্ত স্থায়ী জামিনের জন্য সরকারের নিকট খালেদা জিয়ার আবেদন
-
বেগম খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গত মার্চ থেকে ছয়মাসের জন্য জামিনে মুক্ত থাকা অবস্থায় তাঁর সাজা স্থগিত রেখে নিঃশর্ত স্থায়ী জামিনের জন্য সরকারের নিকট আবেদন করেছেন। জামিন লাভের পর তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন যেতে চান ।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ৭৬ বছর বয়সি বেগম খালেদা জিয়া বর্তমান ডায়াবেটিস আর্থাইটিস এবং চোখের সমস্যায় ভুগছেন। অন্যের সহযোগিতা ছাড়া তিনি নিজে হাঁটা চলা করতে পারেন না। খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিন চেয়ে তার পক্ষে তার ভাই শামীম এস্কান্দার গত ২৫ আগস্ট সরকারের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেছেন।
এ প্রসংগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর সাজা স্থগিতের আবেদন মন্ত্রণালয় পেয়েছে। আবেদনের কপি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ প্রসংগে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
খালেদা জিয়ার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, করোনাকালীন দুর্যোগে জামিনে থাকা অবস্থায়ও তাঁর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়নি এবং শারীরিক অসুস্থতার কোনো পরীক্ষা করাও সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় খালেদা জিয়ার বয়স, শারীরিক অসুস্থতা ও মানবিক বিবেচনায় তার স্থায়ী মুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে বিদেশে উন্নত চিকিত্সার জন্য যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা না দেওয়ার জন্যও সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে।
এ প্রসংগে বেগম জিয়ার আইনজীবী জানান, সরকার চাইলে সাজা মওকুফও করতে পারেন। তিনি এ পর্যন্ত জামিনের কোনো শর্তই ভঙ্গ করেননি। তবে দুদকের আইনজীবী বলছেন, আদালতের আদেশ ছাড়া সরকারের কোন সিদ্ধান্ত দেয়ার এখতিয়ার নেই।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি মামলা বিচারের পর্যায়ে আছে।
ইতোমধ্যে দুর্নীতির দুটি মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই বছরেরও বেশি সময় কারাগারে ছিলেন বেগম জিয়া। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই সরকার ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে এবং গত ২৫ মার্চ শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেয়। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর তার জামিনের ছয় মাস পূর্ণ হবে। জামিনে কারামুক্তির শর্ত হিসেবে গত প্রায় ছয় মাস গুলশানের ভাড়া বাড়িতে অবস্থান করছেন বেগম খালেদা জিয়া। অস্থায়ী কারামুক্তির পর তিনি কোনো রাজনৈতিক বক্তৃতা-বিবৃতি দেননি। এমনকি আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠকও করেননি। গত ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার দিনে স্থায়ী কমিটির নেতাদের সঙ্গে তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন মাত্র।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/রেজওয়ান হোসেন/৩০