টিকিটের দাবিতে সৌদি প্রবাসীদের বিক্ষোভ: হতাশা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়
সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকরা ছুটিতে দেশে এসে করোনা পরিস্থিতির কারণে আটকা পড়ে এখন চাকুরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে প্রায় ৮০ হাজার প্রবাসী । সম্প্রতি সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের ফেরার আনুমতি দিলেও ফ্লাইটের অভাবে তারা কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। এর মধ্যে অনেকের ভিসা ও কাজের অনুমতি পত্রের মেয়াদ ফুরিয়ে আসায় নিদারুন বিপাকে পড়েছেন তারা।
বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মূদ্রা উপার্জনকারী এ-সব আটকে পড়া প্রবাসীরা গত তিনদিন ধরে রাজধানীতে বিক্ষোভ করছে। তারা মতিঝিলে বিমান বাংলাদেশে এয়ারলাইন্সের বিক্রয় কেন্দ্র,কারওয়ান বাজার মোড়ে সোনারগাঁও হোটেলে সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের অফিস,ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অফিস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তাদের ফিরতি যাত্রার ব্যবস্থা করার দাবি করছেন।
সৌদি আরবে চাকুরিস্থলে ফিরে যাবার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ও ফ্লাইটের দাবিতে আজ বুধবারও তারা প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ঘেরাও করেন এবং কারওয়ানবাজার মোড়ে সড়ক অবরোধ করে যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। এরপর বেলা ১১টার দিকে রমনা এলাকার ইস্কাটনে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সামনের সড়কে অবস্থান নেন। দুপুরে তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনের সড়ক বন্ধ করে বিক্ষোভ করে।
এর আগে,মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে সৌদি এয়ারলাইন্সের বুকিং কার্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ করেছে। আগের দিন সোমবারও তারা কারওয়ান বাজার ও মতিঝিলে বিক্ষোভ করেছে ।
সৌদি সরকার হঠাৎ করেই বাংলাদেশি শ্রমিকদের সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখের মধ্যে সৌদি আরবে ফেরার ঘোষণা দিয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর অনুমতিও দেয় সৌদি সরকার। এ অবস্থায় বাংলাদেশ সরকার সৌদি এয়ারলাইন্সকে ঢাকার সাথে সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট চালানোর অনুমতি দেয়। কিন্তু বাংলাদেশ বিমানকে ফ্লাইট অবতরণের অনুমতি দেয় নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। আগামী ১ অক্টোবরের আগে বিমানের ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা নেই বলে জানা গেছে।
এদিকে সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানিয়েছে,আকামা কিংবা ভিসা-বাংলাদেশের নাগরিকদের যার যেটা প্রয়োজন সেই অনুযায়ী মেয়াদ তিন মাসের জন্য যেন বাড়ানো হয়।
ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গতকাল মঙ্গলবার এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর সৌদি দূতাবাস ও রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে চিঠি পাঠিয়ে ওই অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে এখনো সৌদি আরবের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.একে আবদুল মোমেন অনেকটা হতাশার সাথেই জানিয়েছেন, ‘অনুরোধ জানানো ছাড়া আর কিছু করার নেই। সৌদি আরব অনুরোধ না রাখলে কি করার আছে?’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভিসার মেয়াদ তিন মাস বাড়াতে ইতিমধ্যে সৌদি সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু দেশটির কাছ থেকে আশ্বস্ত হবার মতো কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। উল্টো সৌদি কর্তৃপক্ষ সেদেশে অবস্থানরত অবৈধ কর্মীদের ফিরিয়ে নিতে বলছে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/গাজী আবদুর রশীদ/২৩
- বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।