বাংলাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগবঞ্চিতদের আন্দোলন
-
বাংলাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগবঞ্চিতদের আন্দোলন (ফাইল ফটো)
বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও গত আড়াই বছর ধরে নিয়োগবঞ্চিতরা রাজধানীর মিরপুরস্থ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে আজ থেকে আন্দোলন শুরু করেছেন।
কাফনের কাপড় পরিধান করে বৃষ্টিপাত উপেক্ষা করে পথের মধ্যে দাঁড়িয়ে বা বসে অবস্থান নিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে পদায়নপ্রার্থী কয়েক’শ নারী ও পুরুষ। তারা জানিয়েছেন, দাবি আদায় করতে তারা রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন- আমৃত্যু।
তারা জানিয়েছেন, দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৯ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এখনো মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে সাড়ে সাত শ স্কুল, আর দু’জন শিক্ষক দিয়ে চলছে এগার শ’য়ের বেশী প্রাথমিক বিদ্যালয়। অথচ ২০১৮ সালে বাছাই করে রাখা ৩১ হাজার শিক্ষককে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। তাদের অনেকের সরকারি চাকুরিতে প্রবেশের বয়সও শেষ হয়ে যাচ্ছে।
ওদিকে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকদের গ্রেড জটিলতার সমাধান করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আজ মঙ্গলবার একটি আদেশ জারি করেছে।
এ আদেশ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের আগে নিয়োগ পাওয়া সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেড এবং প্রধান শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে উন্নীত হবেন।
মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়, অর্থ বিভাগের সম্মতিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড-১৪ (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) এবং বেতন গ্রেড-১৫ (প্রশিক্ষণ বিহীন) থেকে গ্রেড-১৩ তে উন্নীত করা হয়।
২০১৯ সালের নিয়োগবিধি অনুযায়ী যারা নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন তাদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার এ শর্ত প্রযোজ্য হবে। তাছাড়া, যারা পূর্ব থেকে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন অর্থাৎ সহকারী শিক্ষক হিসেবে যাদের অভিজ্ঞতা আছে তারাও বেতন স্কেল উন্নীতকরণের এ সুবিধাপ্রাপ্ত হবেন।
কিন্তু যে সকল অভিজ্ঞ সহকারী শিক্ষক ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯’ এর আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত হননি এবং স্নাতক ডিগ্রিধারী নন, তারা বেতন গ্রেড-১৩ এ উন্নীত হবেন না বলে জানা গেছে। তাই এনিয়েও মাঠ পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের মাঝে হতাশা বা ক্ষোভ রয়ে গেছে।#
পার্সটুডে/বাবুল আখতার/আব্দুর রহমান খান/১৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।