জিয়ার বীর উত্তম খেতাব বাতিলের প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের বীর উত্তম খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্য নেতা–কর্মীদের সাজা ও কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছে বিএনপি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। সকাল থেকে বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়েছেন। এই কর্মসূচির কারণে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
কর্মসূচিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত আছেন।
এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা (সরকার) তারেক রহমানসহ নেতাকর্মীদের সাজা দিচ্ছেন। স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের খেতাব ছিনতাই করতে চাচ্ছেন। এসব করে কোনো লাভ হবে না। দেশের জনগণ ফুঁসে উঠছে– ফুঁসে উঠেছে। ইনশাআল্লাহ এই জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে, এই জনগণের আন্দোলনে একদিন সব স্বৈরাচারী শাসকের সরকারের মতো এই সরকারেরও পতন হবে।
মির্জা আব্বাস বলেন, জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার পদক আপনারা ছিনতাই করবেন। ছিনতাই করা আপনাদের অভ্যাস হতে পারে। আমাদের কথা হলো– এটি একটি সুদূরপ্রসারী চক্রান্তের অংশমাত্র শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার পদক আপনারা ছিনতাই করতে চাচ্ছেন।‘আমি বলতে চাই– এই পদক এই সরকার দেয়নি, এই পদক স্বাধীনতার পর পর বাংলাদেশের জনগণ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বশে তাকে দিয়েছিল।’
দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘রাষ্ট্র এখন মাফিয়ারা চালাচ্ছে, রাষ্ট্র এখন গুন্ডারা চালাচ্ছে। করোনা ভাইরাসে বিশ্ববাসী আতঙ্কগ্রস্ত, আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আতঙ্কগ্রস্ত আল-জাজিরা ভাইরাসে। এ ভাইরাসকে কাউন্টার করার জন্য নতুন নাটক তৈরি করা হচ্ছে। সেই নাটকের নাম জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রীয় খেতাব কেড়ে নেয়া এবং তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া।’
তিনি বলেন, ‘আজকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে হঠাৎ করে অন্যায়ভাবে কোনও সুযোগ না দিয়ে নড়াইলের একটি আদালতে সাজানো মামলায় সাজা দেয়া হলো। তারপর এখন আমরা কী দেখতে পাচ্ছি, স্বাধীনতার ঘোষক জেড ফোর্সের অধিনায়ক জিয়াউর রহমান, তাঁর নাকি খেতাব কেড়ে নেয়া হবে। আর এটির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, কীসের জন্য হঠাৎ করে এ বিষয়টি সামনে নিয়ে আসা হলো? এগুলোর পেছনে তো সরকার আছে। শেখ হাসিনা আছেন। দেশের এই কীর্তিমান মহানায়কের খেতাব কেন কেড়ে নেয়া হবে? ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কেন সাজা?
এছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে নিয়ে টানাটানি করলে হাত পুড়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার অপর নাম জিয়াউর রহমান। তাই জিয়াউর রহমানকে নিয়ে টানাটানি করবেন না।#
পার্সটুডে/বাবুল আখতার/১১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।