জন-নির্বাচিত নয় বলেই জনগণের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতাও নেই সরকারের: ফখরুল
সরকারের ব্যর্থতায় করোনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে-ফখরুল; জনগণের উদাসীনতা বেড়েছে-কাদের
-
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, ‘সরকারের উদাসীনতা, ব্যর্থতায় বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
বাংলাদেশে গত বছরের তুলনায় করোনাভাইরাস মহামারি এখন আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা প্রতিদিন জ্যামিতিকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সংকটময় পরিস্থিতি সামাল দিতে আগের বছরের মতোই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে সরকার।’
গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই অভিযোগ করেন।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা রোধে সরকার কোনো চিন্তাভাবনা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে গত ৫ এপ্রিল থেকে সাত দিনের জন্য দেশে লকডাউন বা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সরকার-ঘোষিত লক-ডাউনের বিরুদ্ধে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে।
প্রকৃত অর্থে, লকডাউন বলতে যা বোঝায় রাস্তাঘাটে তার সামান্যতম চিত্রও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বাস্তবভিত্তিক ও পরিকল্পিত কোনো পদক্ষেপ নেই। ফলে সরকার লকডাউন সঠিকভাবে কার্যকর করতে ব্যর্থ হচ্ছে।’
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘জোরপূর্বক নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে লকডাউন কার্যকর করতে গিয়ে এখন জনগণের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে সরকার। জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই জনগণের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতাও নেই তাদের। ১২ বছরের অধিক কাল ভয়াবহ দুঃশাসনের জন্য জনগণের কাছে সরকারকে জবাবদিহি করতেই হবে।’
উল্লেখ্য বাংলাদেশে করোনার বিস্তার ঠেকাতে আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী এক সপ্তাহের কঠোর লক-ডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।
আজ শুক্রবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানান, ১৪ এপ্রিল থেকে দেশে জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ থাকবে। অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া সকল গণপরিবহনও বন্ধ থাকবে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, লকডাউন চলাকালে কোনোভাবেই মানুষকে ঘরের বাইরে আসতে দেওয়া হবে না। করোনার ঊর্ধ্বগতি ঠেকানোর জন্য এর কোনো বিকল্প নেই। এ বিষয়ে রোববার (১১ এপ্রিল) পরবর্তী প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
এর আগে, কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য পূর্ণ লকডাউন দেয়ার সুপারিশ করেছে ।
আজ শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পরামর্শক কমিটি উল্লেখ করেছ, সারা দেশে উদ্বেগজনকভাবে কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বাড়ছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত ১৮টি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকেও করোনা নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়। এগুলো সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না, সংক্রমণের হার বাড়ছে। তাই, বিধিনিষেধ আরও শক্তভাবে অনুসরণ করা দরকার।
এদিকে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শুক্রবার সকালে সরকারি বাসভবন থেকে ব্রিফিং করে বলেছেন, দেশের করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার। বেড়েছে জনগণের অবহেলা ও উদাসীনতা। এমতাবস্থায় সরকার জনস্বার্থে ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য সর্বাত্মক লক-ডাউনের বিষয়ে সক্রিয় চিন্তাভাবনা করছে।
এর আগে কোভিড-১৯ সংক্রমণ আর মৃত্যুর ঊর্ধ্বগতি রুখতে সারাদেশে গত ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে সাত দিনের লকডাউন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহামারি নিয়ন্ত্রণের শেষ অস্ত্র লক-ডাউনের সুফল পেতে রোগী শনাক্ত, আইসোলেশন-কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতসহ রোগ-প্রতিরোধের বিজ্ঞানভিত্তিক সব ব্যবস্থাকে কাজে লাগাতে হবে। #
এআরকে/এমএএইচ/ পার্সটুডে/৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।