করোনা ভ্যাকসিন পেতে চীনের কাছে বাংলাদেশের ধর্না
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i90708-করোনা_ভ্যাকসিন_পেতে_চীনের_কাছে_বাংলাদেশের_ধর্না
ভারতে উৎপাদিত করোনা ভ্যাক্সিন কেনার জন্য চুক্তি করে অগ্রিম মূল্য  পরিশোধ করেও সময়মত সরবরাহ না পেয়ে সঙ্কটে পড়েছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে, দেশে ৫৭ লাখ মানুষকে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। ১৯ লাখকে দেওয়া হয়েছে দ্বিতীয় ডোজ। এখন টিকার যে মজুত আছে, তা ১৫ দিনের মধ্যে ফুরিয়ে যেতে পারে। এর ফলে দ্বিতীয় ডোজ সম্পূর্ণ করাই চালেঞ্জ হয়ে পড়েছে। এর পর বাকিদের জন্য নতুন ডোজ দেবার বিষয়টিও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।   
(last modified 2026-01-18T14:26:52+00:00 )
এপ্রিল ২৬, ২০২১ ১৬:৩০ Asia/Dhaka
  • চীনা ভ্যাক্সিন সিনোফার্ম
    চীনা ভ্যাক্সিন সিনোফার্ম

ভারতে উৎপাদিত করোনা ভ্যাক্সিন কেনার জন্য চুক্তি করে অগ্রিম মূল্য  পরিশোধ করেও সময়মত সরবরাহ না পেয়ে সঙ্কটে পড়েছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে, দেশে ৫৭ লাখ মানুষকে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। ১৯ লাখকে দেওয়া হয়েছে দ্বিতীয় ডোজ। এখন টিকার যে মজুত আছে, তা ১৫ দিনের মধ্যে ফুরিয়ে যেতে পারে। এর ফলে দ্বিতীয় ডোজ সম্পূর্ণ করাই চালেঞ্জ হয়ে পড়েছে। এর পর বাকিদের জন্য নতুন ডোজ দেবার বিষয়টিও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।   

এ অবস্থায় জরুরি সংকট মোকাবিলায় অন্তত ৫ থেকে ১০ লাখ টিকা সংগ্রহের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে সরকার। জরুরি ভিত্তিতে করোনার টিকা পেতে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গেও যোগাযোগ করছে সরকার।

টিকা কেনার আগ্রহ জানিয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গত শনিবার ঢাকাস্থ চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিংকে পত্র পাঠিয়েছেন। পত্রে, দুই দেশ টিকার ক্ষেত্রে সম্পর্ক ও সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ।

ভারত থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার পরই মূলত সরকার চীন থেকে টিকা পাওয়ার চেষ্টা শুরু করল।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দক্ষিণ এশিয়ায় টিকার জরুরি মজুত গড়তে চীনের উদ্যোগে গঠিত একটি ফোরামে যোগ দেওয়ার সম্মতির কথা জানায়।

এ প্রসঙ্গে, জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদ-এর আহবায়ক ডাক্তার ফায়জুল হাকিম রেডিও তেহরানকে বলেন, করোনা সংক্রমনের শুরু থেকেই সরকার একে গুরুত্ব দেয়নি, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেনি। সরকার জনগণকে সম্পৃক্ত করে  তাদের উদ্ধুদ্ধ করে করোনা মোকাবেলার কৌশল না নিয়ে বরং গত এক বছর ধরে ব্যস্ত ছিল তাদের দলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে। তারা করোনা সঙ্কটকে কেন্দ্র করে, বিশেষ করে মাস্ক, পিপিই, টেস্ট, ত্রাণ বিতরণ এবং ভ্যাক্সিন কেনা নিয়ে দুর্নীতিতে যুক্ত হয়ে নির্লজ্জ লুটপাটে নিয়োজিত  থেকেছে।

ডাক্তার ফায়জুল হাকিম বলেন, নিজের দেশে ভ্যাক্সিন উৎপাদনের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সরকার সে ব্যাপারে গুরুত্ব না দিয়ে কূটনীতির আশ্রয় নিয়েছে। প্রথম দিকে চীনের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে দলীয় ব্যবসায়ীর স্বার্থ দেখতে গিয়ে সরকারী পর্যায়ে না এগিয়ে ভারতের একটি কোম্পানির সাথে টিকা আমদানির চুক্তি করেছে। 

উল্লেখ্য, চীন গত বছরের সেপ্টেম্বরেই তাদের দেশে উদ্ভাবিত দু’রকম টিকা পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তাব দিয়েছিল এবং ৫ লাখ ডোজ উপহার হিসেবে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ চীনের সে প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে  ভারত থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কেনার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। কেনা ছাড়াও বাংলাদেশকে প্রায় ৩৩ লাখ ডোজ উপহারও দিয়েছে ভারত।  

ওদিকে, করোনা সংক্রমণের বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টিকারী ভারত এখন নিজেদের চাহিদা সামাল দিতে গিয়ে তাদের দেশে উৎপাদিত টিকা বিদেশে রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর পর পরই বাংলাদেশে টিকা সংগ্রহে মরিয়া হয়ে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের সাথে আলোচনা শুরু করে। টিকা সংগ্রহ করতে টিকা বিষয়ক আন্তর্জাতিক জোট গ্যাভিকেও চিঠি দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গত শুক্রবার গ্যাভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেথ বার্কলের কাছে দেওয়া এক  চিঠিতে আন্তর্জাতিকভাবে টিকার সংগ্রহ ও বিতরণ উদ্যোগ কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ১০ কোটি ডোজ টিকা কিনতে অর্থায়নের আগ্রহের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।  

জাহিদ মালেক

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একই দিন আরেকটি চিঠি দেওয়া হয় কোভ্যাক্সকে। এতে বলা হয়, কোভ্যাক্সের আওতায় বাংলাদেশের জন্য ১০ কোটি ৯ লাখ ডোজ টিকা বরাদ্দ ছিল, যা মার্চ থেকে সরবরাহের কথা থাকলেও দেরি হয়েছে। আশা করা যায়, মে মাস থেকে সরবরাহ শুরু হবে। তবে বাংলাদেশ এখনো  কোনো নিশ্চয়তা পায়নি।

ইতোমধ্যে, বাংলাদেশের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক সমিতি (বিপিসিডিওএ) চীনের টিকা উৎপাদক সিনোফার্মের সাথে যোগাযোগ করে জানিয়েছে, বাংলাদেশে এ মুহূর্তে বিপুল পরিমাণ টিকা দরকার। 

চীনের এ কোম্পানি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিপিসিডিওএ-কে জানিয়েছে, যে তারা চীন থেকে প্রতি সপ্তাহে সিনোফার্মের ১৫ লাখ করে টিকা সরবরাহ করতে সক্ষম। তারা মোট ৩ কোটি ৬০ লাখ থেকে ৪ কোটি ৮০ লাখ পর্যন্ত টিকা সরবরাহ করতে পারবে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।